হাইলাইটস:
- ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে চাপ প্রতিপক্ষের কাঁধেই ঠেলে দিলেন এরলিং হালান্ড।
- তাঁর দাবি, শিরোপার দাবিদার ইংল্যান্ড, তাই প্রত্যাশার ভারও তাদেরই বহন করতে হবে।
- চার ম্যাচে সাত গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হালান্ড বললেন, নরওয়ের শেষ আটে ওঠাই তাঁর কাছেও বিস্ময়।
- ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাকে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের বিশেষ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
- ইংল্যান্ডে খেলা এবং লিডসে জন্ম হওয়ায় ম্যাচটি তাঁর কাছে আলাদা আবেগের বলেও জানান নরওয়ের অধিনায়ক।
বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কথার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। শনিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহারণের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, চাপ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের উপরেই।
সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, সব চাপ কি ইংল্যান্ডের উপর, তখন এক শব্দেই উত্তর দেন হালান্ড— “হ্যাঁ।” এরপর প্রশ্ন আসে, সেই চাপের সুযোগ কি নরওয়ে নিতে পারবে? আবারও হাসিমুখে তাঁর জবাব, “অবশ্যই।”
গত বছর হালান্ড মজা করে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা নরওয়ের মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। এবার চার ম্যাচে সাত গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুললেও তাঁর বক্তব্যে সেই রসিকতার ছাপ অটুট।
তিনি বলেন, “আমাদের সম্ভাবনা এখনও খুবই কম। কয়েকটি দল স্পষ্টভাবে শিরোপার দাবিদার। ইংল্যান্ড তাদের মধ্যে অন্যতম। তাই তোমরা সবাই সমস্ত চাপ ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের উপরেই দাও।”
এরপর মুচকি হেসে ইংল্যান্ড সমর্থকদের উদ্দেশেও বার্তা দেন হালান্ড। ২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটি–আর্সেনাল ম্যাচের পর তাঁর বিখ্যাত ‘নম্র থাকো’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সবাইয়েরই নম্র থাকা উচিত। তবে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসী হওয়াও স্বাভাবিক। তারা বিশ্বাস করতেই পারে যে তারা জিতবে।”
ফ্লোরিডায় নরওয়ের অনুশীলন শিবিরেও ছিলেন স্বভাবসুলভ প্রাণবন্ত। মার্কিন নাগরিকদের ‘মজার মানুষ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ম্যাচের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন।
হালান্ড স্বীকার করেন, নরওয়ের এই বিশ্বকাপ যাত্রা তাঁর নিজের কাছেও অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে কী, আমি এটা একেবারেই আশা করিনি। প্রথম ম্যাচের আগেও করিনি, এখনও করছি না। নরওয়ের মতো একটি দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে— এটা আমার কাছেও বিস্ময়কর।”
ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলাটাই আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। তাদের হারিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রে এসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলব— এটা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। নরওয়ের মানুষ যেভাবে উদ্যাপন করছে, তা দেখলেই বোঝা যায়, আমাদের দেশের কাছে এ ধরনের সাফল্য একেবারেই স্বাভাবিক নয়।”
লিডসে জন্ম হওয়ায় এবং ইংল্যান্ডের ক্লাবে খেলায় এই ম্যাচ তাঁর কাছে বাড়তি আবেগের। তিনি বলেন, “এটা খুবই বিশেষ ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, আমার জন্মও ইংল্যান্ডে। প্রতিপক্ষ দলে আমার অনেক সতীর্থও রয়েছে। তাই ম্যাচটা একটু অন্যরকম লাগছে। মজারও বটে।”
তবে এত কিছুর মাঝেও আনন্দ হারাতে চান না হালান্ড। তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই সবচেয়ে জরুরি।
তিনি বলেন, “ভালো অনুশীলন করতে হবে, মনোযোগ ধরে রাখতে হবে, সঠিক প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে মুহূর্তটাও উপভোগ করতে হবে। আমরা সেটাই করছি। বিশ্বকাপে খেলছি— এই সুযোগ চিরদিন থাকবে না। তাই যত দিন আছি, তত দিন এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়।”
ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে নরওয়ে শিবিরে অসুস্থতার খবর ছড়িয়েছিল। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানানো হয়েছে, পুরো দলই সুস্থ রয়েছে এবং সবাইকে নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি চলছে।