- হাইলাইটস
- বিশ্বকাপে পুরুষদের ফুটবলে প্রথম জয় পেল কানাডা।
- কাতারকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করল জেসি মার্শের দল।
- জোনাথন ডেভিড হ্যাটট্রিক করে নায়ক।
- সাইল লারিন, নাথান সালিবা ও একটি আত্মঘাতী গোল কানাডার স্কোরলাইন বাড়ায়।
- কাতার ম্যাচ শেষ করে ৯ জন নিয়ে।
- মাঝমাঠের তারকা ইসমায়েল কনের গুরুতর পায়ের চোটে উদ্বেগ।
- স্বাগতিক দর্শকদের সামনে কানাডার অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাল কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ৫২ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় তুলে নিল জেসি মার্শের দল। জোনাথন ডেভিডের দুরন্ত হ্যাটট্রিক, সাইল লারিনের গোল, নাথান সালিবার নিখুঁত ফ্রি-কিক এবং একটি আত্মঘাতী গোল মিলে একতরফা প্রদর্শনী উপহার দিল কানাডা।ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল কানাডা কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। স্টেডিয়ামে ‘ও কানাডা’ জাতীয় সঙ্গীতের আবেগঘন পরিবেশকে পুঁজি করে তারা শুরু থেকেই কাতারকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে। প্রথম কয়েক মিনিটে কাতার সামান্য প্রতিরোধ গড়লেও তা দ্রুত ভেঙে পড়ে।প্রথম গোল আসে ৩০ মিনিটের মাথায়। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়ান সাইল লারিন। গোলের পর থেকেই কানাডা যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। বিরতির আগে দ্বিতীয় গোল আসে জোনাথন ডেভিডের পা থেকে। তাজন বুকানানের শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে অসাধারণ ভলিতে গোল করেন তিনি।
এরপর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে কাতারের জন্য। বুকানানকে একক দৌড়ে আটকাতে গিয়ে শেষ রক্ষক হিসেবে ফাউল করেন হোমাম আহমেদ। ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় তাঁকে। ১০ জনের কাতার তখন কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও আঘাত হানেন ডেভিড। লারিনের হেডার রক্ষা করলেও ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ঘটে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা। কানাডার মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইসমায়েল কনের পায়ে ভয়াবহ চোট লাগে। কাতারের আসিম মাদিবোর দেরিতে করা ট্যাকলের ফলে কনের বাঁ পা অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যায়। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও পর্যালোচনার পর সেটি লাল কার্ডে উন্নীত হয়। ফলে কাতার নেমে আসে ৯ জনে।
চোট পাওয়ার পর স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ার সময় কনেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় গোটা স্টেডিয়াম। আবেগঘন সেই মুহূর্তে কানাডার সমর্থকেরা তাঁর নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। কনে হাত নেড়ে সেই ভালোবাসার জবাব দেন।
এরপর ম্যাচ কার্যত একপেশে হয়ে যায়। কনের পরিবর্তে নামা নাথান সালিবা ৬৪ মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে সতীর্থকে উৎসর্গ করেন নিজের সাফল্য। গোলের পর হাতে ‘৮’ চিহ্ন তৈরি করে তিনি কনের জার্সি নম্বরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
৭৫ মিনিটে আরেকটি গোল আসে। জ্যাকব শ্যাফেলবার্গের শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন কাতারের মোহাম্মদ আল মান্নাই। তখন স্কোর ৫-০।
শেষ কথা বলেন আবারও জোনাথন ডেভিড। যোগ করা সময়ে সতীর্থের শট নিজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে সম্পূর্ণ হয় তাঁর হ্যাটট্রিক। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় উঠে আসেন শীর্ষস্থানে থাকা তারকাদের কাতারে।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, কানাডার ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। এক দশক আগে যে দেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাই ছিল দূরস্বপ্ন, সেই দেশ আজ নিজস্ব দর্শকদের সামনে বিশ্বকাপের মঞ্চে আধিপত্য দেখাচ্ছে। তবে এই উল্লাসের মাঝেও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকল ইসমায়েল কনের চোট। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতে এবং সম্ভাব্য নক-আউট লড়াইয়ে তাঁর অনুপস্থিতি কানাডার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
তবু বৃহস্পতিবারের রাতটি কানাডার। জোনাথন ডেভিড, সাইল লারিন, তাজন বুকানান এবং তাঁদের সতীর্থরা এমন এক স্মৃতি উপহার দিলেন, যা দেশটির ফুটবল সমর্থকেরা বহু বছর ধরে মনে রাখবেন। বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম পুরুষ দলীয় জয়—এবং তা আবার ৬-০ ব্যবধানে—ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিল।