Home SportsFIFA 2026 এলিয়ট অ্যান্ডারসনের অদম্য দৌড়ে নতুন প্রাণ ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে, আর্জেন্টিনার আগে তুখোড় অস্ত্র টুখেলের হাতে

এলিয়ট অ্যান্ডারসনের অদম্য দৌড়ে নতুন প্রাণ ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে, আর্জেন্টিনার আগে তুখোড় অস্ত্র টুখেলের হাতে

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
16 views 3 minutes read
A+A-
Reset

মায়ামির দমবন্ধ করা গরমে নরওয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষ হওয়ার পর এলিয়ট অ্যান্ডারসনের শরীর যেন আর চলছিল না। কিন্তু সেই ক্লান্ত শরীরই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম বড় শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। জুড বেলিংহ্যাম গোল করে শিরোনাম কেড়ে নিলেও, টমাস টুখেলের দলের মাঝমাঠে নীরব নায়ক ছিলেন অ্যান্ডারসন। ম্যাচে তিনি দৌড়েছেন ১৪.৮ কিলোমিটার—ইংল্যান্ডের অন্য যে কোনও ফুটবলারের চেয়ে বেশি, এমনকি অধিনায়ক হ্যারি কেনের থেকেও।

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে ম্যাচের পর অ্যান্ডারসন বলেছিলেন, “খুব কঠিন ছিল। সত্যিই খুব কঠিন। অতিরিক্ত সময়ে কয়েকবার পেশিতে টান ধরেছিল। কিন্তু আমাদের দলের লড়াই করার মানসিকতা অসাধারণ। সমর্থকদের আমাদের নিয়ে গর্ব হওয়া উচিত।”

জুড বেলিংহ্যামের নায়কোচিত পারফরম্যান্সের আড়ালে নিউক্যাসলের বিখ্যাত ওয়ালসেন্ড বয়েজ ক্লাবের প্রাক্তন ছাত্র অ্যান্ডারসন সম্ভবত সিনিয়র ইংল্যান্ড দলে নিজের সেরা ম্যাচটি খেলেছেন। বিশেষ করে, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে টুখেল তাঁকে অন্তত চারটি ভিন্ন ভূমিকায় ব্যবহার করেন। ডেকলান রাইস অসুস্থতা ও চোটের কারণে বিরতির সময় মাঠ ছাড়ার পর ইংল্যান্ডের মাঝমাঠ বারবার নতুনভাবে সাজাতে হয়।

প্রথমে রিস জেমস, পরে জুড বেলিংহ্যাম এবং শেষ পর্যন্ত মরগ্যান রজার্স অ্যান্ডারসনের পাশে খেলেন। কিন্তু পরিবর্তন যতই হোক, মাঝমাঠের ভারসাম্য ধরে রাখার কাজটি করেছেন অ্যান্ডারসনই। তিনি ৮৭টি সফল পাস দিয়েছেন, যার সাফল্যের হার ছিল ৯৪ শতাংশ।

ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের গোলকিকের বলটি টেলিভিশনের ঝুলন্ত ক্যাবলে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল বলে মনে করা হয়। সেই সৌভাগ্যকে কাজে লাগিয়ে বাঁদিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান অ্যান্ডারসন, অ্যান্থনি গর্ডনের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বল পৌঁছে দেন বেলিংহ্যামের কাছে। সেখান থেকেই আসে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরানো গোল।

টুখেলের সহকারী অ্যান্থনি ব্যারি একসময় অ্যান্ডারসনকে বলেছিলেন, “আকাশ থেকে পড়া উপহার।” সেই মন্তব্য এখন যেন আরও অর্থবহ হয়ে উঠছে।

গত গ্রীষ্মে ইউরোপ অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপেই অ্যান্ডারসন প্রথম সিনিয়র দলে নিজের জায়গার দাবি জোরালো করেন। স্লোভাকিয়ায় ইংল্যান্ডকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতাতে তিনি রক্ষণাত্মক মাঝমাঠের মূল ভরসা ছিলেন। অথচ নিউক্যাসলের বয়সভিত্তিক দলে তিনি মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা ‘নম্বর টেন’ হিসেবে খেলতেন। সেই সৃজনশীলতা ও বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতাই এখন তাঁকে আরও পরিণত কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডারে পরিণত করেছে।

তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মতুষ্ট নন অ্যান্ডারসন। তাঁর মতে, দল হিসেবে ইংল্যান্ড আরও ভালো ফুটবল খেলতে পারত।

তিনি বলেন, “আমরা যদি আরও বেশি বল দখলে রেখে খেলতে পারতাম, তাহলে এতটা দৌড়াতে হতো না। কিছু সময় আমরা ভালো খেলেছি, আবার কিছু সময় একেবারেই ভালো খেলিনি। এটাই ফুটবল। পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সবটা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তবে কিছু মুহূর্তে আমরা যা দেখিয়েছি, সেটা যদি নিয়মিত করতে পারি, তাহলে আমরা ভয়ঙ্কর দল হয়ে উঠব।”

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বুধবারের সেমিফাইনালে ডেকলান রাইস ফের অ্যান্ডারসনের সঙ্গেই মাঝমাঠে নামবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। টুখেল জানিয়েছেন, নরওয়ে ম্যাচের আগে টানা তিন দিন রাইস প্রায় পুরো সময় বিছানায় ছিলেন অসুস্থতার কারণে। তার ওপর বিশ্বকাপে আসার আগেই তাঁর পিঠের সমস্যা ছিল, যার জন্য এখনও শতভাগ ফিট নন।

এই পরিস্থিতিতে টুখেল নতুন কৌশল হিসেবে মাঝেমধ্যেই অ্যান্ডারসনকে একটু সামনে তুলে দিচ্ছেন এবং রাইস ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করছেন।

রাইসের পরিবর্ত হিসেবে কোবি মাইনুকে ব্যবহার করার পরিবর্তে টুখেল প্রথমে এবেরেচি এজেকে গভীর মাঝমাঠে নামিয়েছিলেন ঘানা ও পানামার বিরুদ্ধে। পরে নরওয়ের ম্যাচে সেই দায়িত্ব পান অ্যাস্টন ভিলার তারকা মরগ্যান রজার্স।

রজার্স মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। গত মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ১৮টি গোল করেছেন। গ্রীষ্মের দলবদলে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি দামে তাঁর ক্লাব বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। আর্সেনালও তাঁকে চায়। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্যের বদলে দলের স্বার্থে তিনি মাঝমাঠের গভীর ভূমিকায় খেলতে একটুও আপত্তি করেননি।

অতিরিক্ত সময়ে রজার্সের দূরপাল্লার শট থেকেই গোলরক্ষক বল সামলাতে ব্যর্থ হন, আর সেই রিবাউন্ড থেকে জয়সূচক গোল করেন বেলিংহ্যাম।

টুখেল বলেন, “মরগ্যান রজার্সকে আমরা একদিকে ‘এইট’ হিসেবে, আবার রক্ষণে ডাবল সিক্সের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করেছি। ও আমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। নতুন পজিশনে যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি ভীষণ খুশি। বদলি হিসেবে নামা সবাই ভালো করেছে, কিন্তু বিশেষ করে মরগ্যান অসাধারণ ছিল।”

প্রায় এক দশক আগে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৫ দলে একসঙ্গে খেলেছিলেন বেলিংহ্যাম ও রজার্স। সপ্তাহান্তে রজার্সের জন্মস্থান হেলসওয়েনে তাঁদের দু’জনকে নিয়ে একটি ম্যুরালও আঁকা হয়েছে, যেখানে দু’জনকে ব্ল্যাক কান্ট্রির বিখ্যাত ‘অরেঞ্জ চিপস’ খেতে দেখা যাচ্ছে।

এবার সেই দুই পুরনো সতীর্থের সামনে সুযোগ—ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে নিয়ে গিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে দেওয়ার।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles