প্রায় চার বছর পরে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ভুবনেশ্বর, বিশ্রামে বুমরাহ

যা জানা জরুরি
- ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার।
- নিউজিল্যান্ড সফরের পাঁচ ম্যাচের সিরিজের জন্য মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ঘোষিত ১৬ জনের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
- অধিনায়ক থাকছেন শ্রেয়স আইয়ার, সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রায় চার বছরের অপেক্ষার অবসান। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। নিউজিল্যান্ড সফরের পাঁচ ম্যাচের সিরিজের জন্য মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ঘোষিত ১৬ জনের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে যশপ্রীত বুমরাহকে। অধিনায়ক থাকছেন শ্রেয়স আইয়ার, সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মা। তরুণদের পাশাপাশি অভিজ্ঞতায় আস্থা রাখার এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ৩৬ বছরের ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন।
ভুবনেশ্বর শেষবার ভারতের হয়ে খেলেছিলেন ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেপিয়ারে। তারপর জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে তাঁকে। এবার সেই নিউজিল্যান্ড সফরেই ফেরার সুযোগ মিলল। তবে দলে নির্বাচিত হওয়া এবং প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া আলাদা বিষয়। ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের কার্যকারিতা নতুন করে প্রমাণ করার পরীক্ষা দিতে হবে এই ডানহাতি সুইং বোলারকে।
ফিরে আসার ভিত তৈরি হয়েছে আইপিএলে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যে। ২০২৬ সালের আইপিএলে ভুবনেশ্বর ২৮টি উইকেট নিয়েছিলেন। সর্বাধিক উইকেটের দৌড়ে কাগিসো রাবাডার থেকে মাত্র একটি উইকেটে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পরপর দু’বছরের খেতাবজয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। জাতীয় দলে অনুপস্থিতির মধ্যেও তাঁর বোলিংয়ের ধার যে কমেনি, এই পারফরম্যান্স তার প্রমাণ দিয়েছে।
ভুবনেশ্বরকে নিয়ে ভাবনা শুধু এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য পরিকল্পনাতেও তাঁকে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে। তবে সেটি নিশ্চিত নির্বাচন নয়। বড় প্রশ্ন, তাঁর শরীর আবার একদিনের ক্রিকেটের বাড়তি ধকল নিতে পারবে কি না। দীর্ঘদিন মূলত টি-টোয়েন্টি খেলার পরে পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে ফিরতে হলে ফিটনেস ও সহনশক্তির প্রমাণও দিতে হবে।
অন্যদিকে, বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ার পিছনে রয়েছে কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণের ভাবনা। নিউজিল্যান্ড সফরের পরবর্তী টেস্ট সিরিজের জন্য তাঁকে সতেজ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে পেস বিভাগে ভুবনেশ্বরের সঙ্গে রয়েছেন অর্শদীপ সিংহ, প্রিন্স যাদব ও ময়ঙ্ক যাদব। নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে নতুন বলে সুইং আদায় করার দক্ষতা ভুবনেশ্বরকে কার্যকর করে তুলতে পারে বলে আইসিসির প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্পিন বিভাগে ফিরেছেন বরুণ চক্রবর্তী। চোটের কারণে তিনি এশিয়ান গেমসে খেলতে পারেননি। দলে রয়েছেন কুলদীপ যাদব ও অক্ষর পটেলও। জায়গা হয়নি রবি বিষ্ণোইয়ের। ব্যাটিংয়ে শ্রেয়স ও তিলকের পাশাপাশি আছেন অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিশন এবং বৈভব সূর্যবংশী। শিবম দুবে, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও নমন ধীরও নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের বিভিন্ন সমন্বয় পরীক্ষা করার সুযোগ থাকছে দলের সামনে।
সিরিজ শুরু হবে ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে। একই শহরে দ্বিতীয় ম্যাচ ২৪ অক্টোবর। এরপর ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটন, ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ড এবং ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে বাকি তিনটি ম্যাচ হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলা দলের মূল কাঠামো মোটামুটি বজায় রেখেই নিউজিল্যান্ডের দল বেছে নেওয়া হয়েছে। অজিত আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাচক হিসেবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞান ওঝা।
একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফরের ভারত ‘এ’ দলও ঘোষণা করা হয়েছে। নেতৃত্বে ধ্রুব জুরেল। যশস্বী জয়সওয়াল, লোকেশ রাহুল, দেবদত্ত পাড়িক্কল এবং ওয়াশিংটন সুন্দর সেই দলে রয়েছেন। ঋষভ পন্থের অংশগ্রহণ নির্ভর করবে ফিটনেসের ছাড়পত্রের উপর। মূল টেস্ট সিরিজের আগে নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে প্রস্তুতির সুযোগ করে দেওয়াই এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তবে মঙ্গলবারের ঘোষণার প্রধান আকর্ষণ ভুবনেশ্বরই। দীর্ঘ বিরতির পরে তাঁর সামনে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ; এবার সেই সুযোগ কাজে লাগানোর পালা। নতুন বল হাতে শুরুর ওভারে উইকেট নেওয়া এবং রান আটকে রাখার দায়িত্ব সামলাতে পারলে, এই প্রত্যাবর্তন তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



