‘হাজার বার বর্ণবাদের শিকার হয়েছি’: বিস্ফোরক লামিন ইয়ামাল

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: গ্যালারির প্রকাশ্য গালির বাইরেও বর্ণবাদ কীভাবে দৃষ্টি, মন্তব্য ও দৈনন্দিন আচরণে কাজ করে—সেটিই সামনে এনেছেন বার্সেলোনার ১৯ বছরের ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল।
- ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মুভিস্টারের এক সাক্ষাৎকারে সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হোর্হে ভালদানো তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি সরাসরি বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন কি না।
- ইয়ামালের উত্তর ছিল—“হাজার বার।” সংখ্যাটি নথিভুক্ত ঘটনার গণনা নয়; তাঁর অভিজ্ঞতার তীব্রতা বোঝানোর ভাষা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: গ্যালারির প্রকাশ্য গালির বাইরেও বর্ণবাদ কীভাবে দৃষ্টি, মন্তব্য ও দৈনন্দিন আচরণে কাজ করে—সেটিই সামনে এনেছেন বার্সেলোনার ১৯ বছরের ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মুভিস্টারের এক সাক্ষাৎকারে সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হোর্হে ভালদানো তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি সরাসরি বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন কি না। ইয়ামালের উত্তর ছিল—“হাজার বার।”
সংখ্যাটি নথিভুক্ত ঘটনার গণনা নয়; তাঁর অভিজ্ঞতার তীব্রতা বোঝানোর ভাষা। ইয়ামাল ব্যাখ্যা করেছেন, অনেক আচরণ পরোক্ষ এবং যাঁরা করছেন তাঁরাও কখনও বুঝতে পারেন না সেটি বর্ণবাদী। গায়ের রং উল্লেখ করা এবং একই পরিচয়কে হেয় করার অস্ত্র বানানোর মধ্যে তিনি পার্থক্য টেনেছেন।
ইয়ামাল স্পেনে জন্মেছেন। তাঁর বাবা মরক্কোর এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত। বার্সেলোনার কাছে মাতারোর বহুসাংস্কৃতিক রোকাফোন্দা এলাকায় তাঁর বেড়ে ওঠা। গোলের পরে ‘৩০৪’ অঙ্গভঙ্গিতে তিনি সেই এলাকার ডাকঘর-সংকেতের শেষ তিন সংখ্যা স্মরণ করেন। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এবং নিজের পারিবারিক শিকড় দৃশ্যমান রাখা তাঁর কাছে পরস্পরবিরোধী নয়।
কিন্তু দ্রুত তারকা হয়ে ওঠার সঙ্গে অপমানের দৃশ্যমানতাও বেড়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও আনসু ফাতিকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরে তদন্ত হয়। ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতার রসিকতা ছিল না; স্পেনের ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ ও অভিবাসী-বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সমস্যার অংশ।
স্পেনের বর্ণবাদ ও বিদেশিবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণ সংস্থার মার্চে প্রকাশিত পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে অনলাইনে বর্ণবাদী আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যদের মধ্যে ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন। অনলাইন বার্তার সংখ্যা ও শ্রেণিবিন্যাসের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের তরুণ তারকাকে একই ঘৃণার বাজার লক্ষ্য করছে—এই মিল তাৎপর্যপূর্ণ।
লা লিগা স্টেডিয়ামে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, দর্শক শনাক্তকরণ, আইনি পদক্ষেপ এবং বর্ণবাদবিরোধী প্রচার বাড়িয়েছে। কয়েকটি মামলায় শাস্তিও হয়েছে। তবু খেলোয়াড়কেই খেলা থামাবেন কি না, অভিযোগ করবেন কি না এবং প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না—এই বোঝা বহন করতে হয়।
ইয়ামালের বক্তব্যে প্রতিরোধের একটি ব্যক্তিগত কৌশল আছে: টিকিট কেটে তাঁকে দেখতে আসা দর্শকের অপমানে নিজের খেলা নষ্ট করবেন না। কিন্তু তাঁর সহ্যক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিকল্প ভাবা বিপজ্জনক। একজন কিশোর বা তরুণ খেলোয়াড় শান্ত থাকতে পারছেন মানেই আঘাত নেই, এমন নয়।
বিশ্লেষণ: বর্ণবাদকে কেবল নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা বানালে পরোক্ষ বৈষম্য ধরা পড়ে না। উচ্চারণ, পরিবারের দেশ, পাড়া কিংবা গায়ের রং নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য বারবার হলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও নিজেকে চিরকাল অতিথি মনে করতে পারেন।
ক্লাব, লিগ ও পুলিশকে তাই শুধু ভাইরাল ভিডিও নয়, অভিযোগের সময়, তদন্তের ফল এবং শাস্তির তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। দর্শক নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন হতে পারে; পাশাপাশি বয়সভিত্তিক অ্যাকাডেমি থেকে সমর্থক সংগঠন পর্যন্ত শিক্ষা দরকার। ইয়ামালের সেরা উত্তর মাঠে গোল—এ কথা আকর্ষণীয় শোনায়। কিন্তু বর্ণবাদের সমাধান করার দায়িত্ব তাঁর পায়ের উপর চাপানো যায় না
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



