হাইলাইটস:

  • কলকাতায় হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর।
  • তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে গরিব মানুষের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।
  • মমতার সঙ্গে ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও প্রাক্তন সাংসদ দোলা সেন।
  • উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী।
  • সরকারের পদক্ষেপকে তিনি “বেআইনি” এবং “গভীরভাবে অমানবিক” বলে আখ্যা দেন।

বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতার রাস্তায় আবারও আন্দোলনের ময়দানে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের আবহে বুধবার তিনি সরাসরি পথে নেমে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের বিজেপি সরকার উন্নয়নের নামে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফুটপাত-নির্ভর পরিবারের জীবিকা ধ্বংস করছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মমতার সঙ্গে ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ দোলা সেন এবং তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী। মিছিল চলাকালীন বিপুল সংখ্যক হকার ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ফুটপাতে ব্যবসা করা মানুষগুলো অপরাধী নন। এঁরা নিজেদের পরিশ্রমে পরিবার চালান। কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাঁদের উচ্ছেদ করা শুধু বেআইনি নয়, গভীরভাবে অমানবিকও।” তাঁর দাবি, সরকার সাধারণ মানুষের কথা না ভেবেই প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের ফলে বহু পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যাঁদের দোকান বা স্টল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে পুনর্বাসন নীতি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল।

কুণাল ঘোষ বলেন, “হকাররা শহরের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে, পুনর্বাসনের রূপরেখা না দিয়ে উচ্ছেদ করা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত।” দোলা সেনও একই সুরে বলেন, জীবিকার অধিকার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত এবং তা অগ্রাহ্য করা যায় না।

অন্যদিকে বিজেপি সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, শহরের যানজট কমানো, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত নগর পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অভিযান চলছে। সরকারের মতে, বহু জায়গায় ফুটপাত সম্পূর্ণভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। তাই আইন মেনেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তবে তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, অবৈধ দখলমুক্ত করার প্রশ্ন থাকলেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। দলটির অভিযোগ, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে শহরের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে তাঁর এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। কারণ শহরাঞ্চলে হকার ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সমর্থক বলে পরিচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন, তেমনই ক্ষুব্ধ নিম্নবিত্ত ভোটারদের পাশে থাকার বার্তাও দিতে চাইছেন। আগামী দিনে হকার উচ্ছেদ প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতার রাস্তায় বুধবারের এই প্রতিবাদ সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরই নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে। জীবিকা বনাম নগর শৃঙ্খলার বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।