হাইলাইটস:

  • বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা মহুয়া মৈত্রের।
  • এক্সে পোস্ট করে বলেন, “সুদীপের মুখোশ আর উইগ—দুটোই খুলে গেছে।”
  • দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে সুদীপের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মহুয়া।
  • বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, লোকসভায় তাদের সংখ্যা বেড়ে ২২ হতে চলেছে।
  • সুদীপের বক্তব্য, অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হিসেবে রাখতে চান।

বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল রবিবার। দলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে আক্রমণ করলেন দলেরই বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, এতদিন যে অবস্থান সুদীপ প্রকাশ্যে দেখিয়ে এসেছেন, বাস্তবে তা নয়। বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

এক্সে করা এক তীব্র ভাষার পোস্টে মহুয়া লেখেন, “তাঁর মুখোশ এবং উইগ—দুটোই খুলে গেছে।” তিনি দাবি করেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক দিন আগে দলের নেতাদের জানিয়েছিলেন যে তিনি কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে পেটের সমস্যার কারণে চিকিৎসাধীন। কিন্তু পরে তাঁকে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায়।

মহুয়া আরও কটাক্ষ করে বলেন, সুদীপের এক্স হ্যান্ডেলে এখনও তৃণমূলের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নাকি এখন “বিজেপির বি-টিম”-এর মতো। সেই কারণেই তিনি সুদীপকে নিজের সামাজিক মাধ্যমের পরিচয় বদলে ফেলার পরামর্শ দেন।

এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের একটি অংশ দলীয় সংসদীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্রের খবর, লোকসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তারা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে এনডিএ সাংসদদের পাশে বসার অনুমতিও চাইতে পারে তারা।

রবিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থানকে সমর্থন করেন। তিনি জানান, বহু সাংসদ ও বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন যে তাঁরা দলটিকে টিকিয়ে রাখতে চান এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংগঠনের “প্রধান উপদেষ্টা” বা পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় দেখতে চান।

সুদীপের কথায়, “এটি সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্যোগ। তাঁরা চান দল থাকুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকুন। তাঁদের আবেদনে আমি সাড়া দিয়েছি। তাই আমি তাঁদের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, আরও দু’জন সাংসদ শিগগিরই তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। তা হলে লোকসভায় তাদের সংখ্যা ২২-এ পৌঁছবে। ফলে তৃণমূলের সংসদীয় দলের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

একদিকে মহুয়া মৈত্রের মতো নেতারা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরব, অন্যদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতার অবস্থান বদল তৃণমূলের অন্দরের সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই দ্বন্দ্ব এখন শুধু দলীয় বিরোধ নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সংগঠনের চরিত্র নির্ধারণের লড়াই হিসেবেও দেখা হচ্ছে।