দেশ

শীর্ষপদে নিয়োগ ঘিরে ক্ষোভ, চার মাসেই সতীশন সরকারে গভীর হচ্ছে ফাটল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ক্ষমতায় আসার চার মাস কাটতে না কাটতেই কেরলের ভি ডি সতীশন সরকারের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
  • এ বার বিরোধের কেন্দ্রে সরকারের কয়েকটি উচ্চপদে নিয়োগ।
  • বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ তথা ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) আহ্বায়ক আদুর প্রকাশ অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তাঁকে কিছু না জানিয়েই।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ক্ষমতায় আসার চার মাস কাটতে না কাটতেই কেরলের ভি ডি সতীশন সরকারের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এ বার বিরোধের কেন্দ্রে সরকারের কয়েকটি উচ্চপদে নিয়োগ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ তথা ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) আহ্বায়ক আদুর প্রকাশ অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তাঁকে কিছু না জানিয়েই।

তিনি বলেন, “কেরলের নানা প্রান্তের দলীয় কর্মীদের প্রশ্নের জবাব আমাকে দিতে হচ্ছে। এআইসিসি আমাকে নিয়োগ করেছে। এই ক্ষোভ লুকিয়ে রেখে কোনও লাভ নেই। মানুষ সব কিছু জানুক। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।” নিজের অসন্তোষের কথা এআইসিসি নেতৃত্বকে জানাবেন বলেও জানান তিনি।

প্রকাশের ক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ বলে মনে করা হচ্ছে মন্ত্রিসভার দু’টি নিয়োগের সিদ্ধান্তকে। শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) প্রবীণ নেতা এম কে মুনিরকে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জি দেবরাজনকে দিল্লিতে কেরল সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি করা হয়েছে। দু’টি পদেই পূর্ণমন্ত্রীর সমমর্যাদা এবং তার সঙ্গে যুক্ত যাবতীয় সুযোগসুবিধা রয়েছে।

শাসক জোটের প্রবীণ নেতাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য আগের বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এলডিএফ সরকার এই পদগুলি তৈরি করেছিল। কংগ্রেসেরও একাধিক নেতা এই পদগুলির দাবিদার ছিলেন। সাম্প্রতিক নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ বিশেষ ভাবে বেড়েছে, কারণ এর ফলে বর্তমান সরকারের অধীনে মুসলিম লিগের পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন পদের সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়ে মুসলিম লিগ সতীশনকে সমর্থন করেছিল। প্রকাশের অভিযোগ, এই দুই নিয়োগ নিয়ে ইউডিএফের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করা হয়নি।

বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চেয়েও শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা না-করা প্রকাশ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ইউডিএফের চেয়ারম্যানও। তাঁর একটি বৈঠক ডাকা প্রয়োজন। ইউডিএফের আহ্বায়ক হওয়া সত্ত্বেও বহু বিষয় ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তিনি (সতীশন) আমাকে কিছুই জানাননি।”

সতীশন-ঘনিষ্ঠ সূত্রের অবশ্য বক্তব্য, ওই দুই পদের বিষয়টি “আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং নিষ্পত্তিও হয়ে গিয়েছিল”।

সরকারের ভিতরে ফাটলের লক্ষণ এই প্রথম দেখা গেল, এমন নয়। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই একাধিক প্রবীণ নেতা সতীশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রাজনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি দলীয় সংগঠনকে উপেক্ষা করছেন।

রাজ্য কংগ্রেসে পূর্ণসময়ের সভাপতি না-থাকাও এই সমালোচনাকে জোরদার করেছে যে, দলের নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ সরকারের মন্ত্রীও। সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ওই পদের একাধিক দাবিদার থাকায় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে।

সতীশনের জন্য এই বিতর্ক এমন এক সময়ে নতুন সমস্যা হয়ে উঠল, যখন তিনি এমনিতেই নানা বিতর্কে জর্জরিত। বেসরকারি হেলিকপ্টারে যাতায়াত এবং পিএম-শ্রী প্রকল্প ও কয়েকশো কোটি ডলারের ভিঝিনজাম আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর নিয়ে নীতিগত অবস্থান বদলের মতো বিষয়গুলিতে ইতিমধ্যেই বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি।

সতীশনের সাম্প্রতিক সমস্যা আরও জটিল করে তুলেছে মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। মন্ত্রিসভার অধিকাংশ কংগ্রেস মন্ত্রীই এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের মনোনীত। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেণুগোপাল হেরে গিয়েছিলেন।

প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ মুসলিম লিগকে দেওয়ায় সতীশনকে আরও একটি অভিযোগের মুখে পড়তে হচ্ছে—তিনি জোটের ছোট শরিকের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। সরকারে মুসলিম লিগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাওয়ার বিষয়টিকে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার করেছে বিরোধী বিজেপি। তাদের অভিযোগ, ইউডিএফ সরকার চালাচ্ছে মুসলিম লিগ ও জামাত-ই-ইসলামি।

কেরলে যখনই ইউডিএফ ক্ষমতায় এসেছে, সরকার পরিচালনায় মুসলিম লিগের প্রভাব ও ভূমিকা বেড়ে যাওয়ার প্রশ্নটি বারবার বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles