হাইলাইটস
- দিল্লি হাইকোর্টে গুগল ও মেটার দাবি, প্রতিদিনের বিপুল কনটেন্ট আগে থেকে যাচাই করা বাস্তবে সম্ভব নয়।
- আদালতের নির্দেশ বা বৈধ অভিযোগ পেলেই কনটেন্ট সরানো হয় বলে জানিয়েছে দুই সংস্থা।
- প্রতিটি পোস্টের বৈধতা যাচাই করতে বলা হলে তারা কার্যত ‘মহা-সেন্সর’-এ পরিণত হবে বলে দাবি।
- মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ আগস্ট।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন আপলোড হওয়া অগণিত পোস্ট, ছবি ও ভিডিও আগেভাগে যাচাই করা কার্যত অসম্ভব। এই যুক্তিই দিল্লি হাইকোর্টে তুলে ধরেছে প্রযুক্তি জগতের দুই বৃহৎ সংস্থা গুগল ও মেটা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রতিটি ব্যবহারকারীর পোস্টের বৈধতা আগে থেকেই খতিয়ে দেখার দায় তাদের নয়। তা করতে গেলে তারা কার্যত ‘মহা-সেন্সর’-এ পরিণত হবে।
মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী বৈভব সিং। তাঁর অভিযোগ, দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানির ভিডিও অনুমতি ছাড়া রেকর্ড করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বেআইনি কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ চেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
এর জবাবে মেটা জানায়, কোনও কনটেন্ট আইনবিরোধী কি না, তা নির্ধারণ করতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রেক্ষাপট, উৎস এবং আইনি অবস্থান আলাদা করে বিচার করতে হয়। এই দায়িত্ব সামাজিক মাধ্যমের ওপর চাপিয়ে দিলে সংস্থাগুলিকে বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। এমন পরিস্থিতি এড়ানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও অতীতে সতর্ক করেছে বলেও দাবি মেটার।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের ব্যবহারকারী ২৯০ কোটির বেশি এবং ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারী ১০০ কোটিরও বেশি। প্রতিদিন এই দুই প্ল্যাটফর্মে বিলিয়ন বিলিয়ন পোস্ট, মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়। তাই নির্দিষ্ট ইউআরএল বা ওয়েব লিঙ্ক ছাড়া কোনও নির্দিষ্ট কনটেন্ট খুঁজে বের করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।
একই অবস্থান নিয়েছে ইউটিউবের মালিক গুগলও। সংস্থার বক্তব্য, প্রতি ঘণ্টায় ইউটিউবে লক্ষ লক্ষ ভিডিও আপলোড হয়। ফলে প্রতিটি ভিডিও আগে থেকেই পরীক্ষা করে কোনটি আইন লঙ্ঘন করছে, তা প্রযুক্তিগতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
গুগল ও মেটা—দুই সংস্থাই আদালতকে জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তারা ‘মধ্যস্থতাকারী’ (Intermediary) হিসেবে কাজ করে। আদালতের নির্দেশ বা সরকারি সংস্থার বৈধ নোটিস পেলেই তারা সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তবে প্রতিটি পোস্ট প্রকাশের আগেই নজরদারি করার কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা তাদের নেই।
মামলায় এখনও চূড়ান্ত রায় দেয়নি দিল্লি হাইকোর্ট। কয়েকজন বিবাদীর কাছে নোটিস পৌঁছানো বাকি থাকায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২৭ আগস্ট। ওই শুনানিতে সামাজিক মাধ্যমের দায়বদ্ধতা, আদালতের কার্যক্রমের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং মধ্যস্থতাকারীদের আইনি দায় নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।