হাইলাইটস
- প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শুরু হয়েছে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য।
- তেহরানে বিশাল জনসমাগমে বারবার ধ্বনিত হয়েছে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইজরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান।
- শোকযাত্রায় বিপুল মানুষের অংশগ্রহণের দাবি ইরান সরকারের।
- শোকপর্বের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
- নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে জল্পনা অব্যাহত।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে শুরু হয়েছে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য। রাজধানীর প্রধান প্রার্থনাস্থলে সকাল থেকেই উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। শোকানুষ্ঠানজুড়ে বারবার শোনা যায় ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ইজরায়েলের মৃত্যু’ এবং প্রতিশোধের আহ্বানসংবলিত স্লোগান। পরবর্তী পর্যায়ে শোকযাত্রা ইরাকেও যাবে, এরপর নির্ধারিত স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে। ইরান সরকারের দাবি, আগামী কয়েক দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নিতে পারেন। সেই কারণে গোটা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, বহু রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের ঐক্য ও জনসমর্থনের প্রদর্শন হিসেবেও এই অনুষ্ঠানকে তুলে ধরছে তেহরান।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা খামেনেইর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকপালন চলছে। পরে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এখনও তিনি জনসমক্ষে আসেননি। ইরানি প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণেই আপাতত প্রকাশ্যে আসছেন না তিনি। ফলে তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শোকপর্ব নিয়ে কটাক্ষ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্যের পর ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষকৃত্য শুধু শোকানুষ্ঠান নয়, বরং ইরানের নতুন নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা, জনসমর্থন প্রদর্শন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের উদ্দেশে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ারও বড় মঞ্চ। তাই আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর থাকবে।