হাইলাইটস
- পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর।
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নবান্নে চুক্তি সম্পন্ন।
- প্রায় ১৬ হাজার প্রশিক্ষিত কনস্টেবলকে দ্রুত পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা।
- সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আধুনিক পুলিশি প্রশিক্ষণে জোর।
- আগের সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দক্ষ করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Rashtriya Raksha University) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে রাজ্য পুলিশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করা প্রায় ১৬ হাজার কনস্টেবল বিভিন্ন কারণে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের দ্রুত পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। তাঁর কথায়, “১৬ হাজার কনস্টেবল প্রশিক্ষণ শেষ করেও বসে আছেন। তাঁদের দ্রুত কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করবে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, প্রযুক্তির ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ফরেনসিক দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আধুনিক আইন প্রয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু জনবল বাড়ালেই হবে না, তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মানও উন্নত করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই রাজ্য পুলিশের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্বের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করেছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, একসময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতার সুনাম ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর কল্পেশ এইচ. ওয়ান্দ্রার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, একাডেমিক কর্মসূচি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা প্রকল্পে সহযোগিতা করবে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগের ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পেশাদারিত্ব বাড়বে, তদন্তের মান উন্নত হবে এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার ও ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় বাহিনী আরও সক্ষম হয়ে উঠবে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের দ্রুত কাজে লাগানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।