বাংলাস্ফিয়ার: সংসদ অভিমুখে ২০ জুলাইয়ের মিছিল ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে আবারও কেন্দ্রকে নিশানা করলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেন, সংসদ অভিযানের দিন পুলিশ ১২ বছরের শিশু-সহ মহিলা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম বলপ্রয়োগ করেছিল।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি ভিডিও বার্তায় আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলেন, তাঁকে নিয়ে যে কটূক্তি করা হয়েছে, তা তিনি ক্ষমা করে দিচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিপকে বলেন, তিনি আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করবেন, যেখানে ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশের আচরণের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, “গতকাল আমরা সবাই মোদীজির ভিডিও দেখেছি, যেখানে তিনি বলছিলেন যে তিনি বাচ্চাদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন। আমি আশা করি, আজ রাতে তিনি আর-একটি ভিডিও প্রকাশ করবেন, যেখানে ২০ জুলাইয়ের লাঠিচার্জের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন। ১২ বছরের মেয়েদের মাথায় লাঠি মারা হয়েছে। মহিলাদের পোশাক ছিঁড়ে গিয়েছে। এমনকি মেয়েদের গোপনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে।”
দিপকের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্করাও ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা এবং দায়ী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
২০ জুলাই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘সংসদ মার্চ’-এ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের বড় সমাবেশ হয়। পরীক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা নীতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। মিছিল সংসদের দিকে এগোতে গেলে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার বহু ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধী দলগুলিও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং নিষিদ্ধ এলাকায় মিছিল ঢোকার চেষ্টা রুখতেই ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এখনও পর্যন্ত দিপকের নতুন অভিযোগের বিষয়ে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কেন্দ্র সরকারের তরফেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। একদিকে শাসক শিবিরের দাবি, প্রধানমন্ত্রী বিরোধিতা সত্ত্বেও ছাত্রদের প্রতি সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে দিপকে এবং আন্দোলনের সমর্থকদের বক্তব্য, যদি আন্দোলনকারীদের বক্তব্যকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়, তবে আন্দোলনের সময় আহত ছাত্রছাত্রীদের প্রতিও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সরকারের উচিত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
এই ঘটনার জেরে ছাত্র আন্দোলন, পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে কেন্দ্র সরকার বা দিল্লি পুলিশের তরফে দিপকের অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব আসে কি না এবং ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কি না।