লাইকেনের ভিতর ছত্রাক-শৈবালের ত্রিমাত্রিক বন্ধন

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: গাছের ছাল, পাথর ও বাড়ির দেওয়ালে জন্মানো লাইকেনকে বাইরে থেকে একটি জীব মনে হলেও এটি মূলত ছত্রাক ও সালোকসংশ্লেষকারী শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার অংশীদারি।
- ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত গবেষণায় হলুদ দেওয়াল-লাইকেনের এই দুই সঙ্গীর মিলনস্থল প্রথমবার ন্যানো-সিটি দিয়ে ত্রিমাত্রিকভাবে দেখা হয়েছে।
- বাভারিয়ান স্টেট কালেকশনস অব ন্যাচারাল হিস্টরির আন্দ্রেয়াস বেক এবং আলেন ইউনিভার্সিটির সহযোগীরা জ্যান্থোরিয়া প্যারিয়েটিনা পরীক্ষা করেছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: গাছের ছাল, পাথর ও বাড়ির দেওয়ালে জন্মানো লাইকেনকে বাইরে থেকে একটি জীব মনে হলেও এটি মূলত ছত্রাক ও সালোকসংশ্লেষকারী শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার অংশীদারি। ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত গবেষণায় হলুদ দেওয়াল-লাইকেনের এই দুই সঙ্গীর মিলনস্থল প্রথমবার ন্যানো-সিটি দিয়ে ত্রিমাত্রিকভাবে দেখা হয়েছে।
বাভারিয়ান স্টেট কালেকশনস অব ন্যাচারাল হিস্টরির আন্দ্রেয়াস বেক এবং আলেন ইউনিভার্সিটির সহযোগীরা জ্যান্থোরিয়া প্যারিয়েটিনা পরীক্ষা করেছেন। এই পরিচিত কমলা–হলুদ লাইকেন ইউরোপসহ বহু অঞ্চলের পাথর, ছাদ ও গাছের ছালে দেখা যায়। ছত্রাকটি কাঠামো, জলধারণ ও অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়; শৈবাল সালোকসংশ্লেষ করে শর্করা সরবরাহ করে।
পুষ্টি বিনিময়ের জন্য দুই ধরনের কোষ কোথায় এবং কতটা জায়গায় স্পর্শ করছে, আগে তার মূলত দ্বিমাত্রিক পাতলা কাটা ছবি পাওয়া যেত। নতুন উচ্চ-বিভেদন ন্যানো কম্পিউটার টোমোগ্রাফিতে কয়েক দশ-হাজার ভাগ মিলিমিটার আকারের গঠন না কেটেই বিভিন্ন কোণ থেকে দেখা হয়েছে। এসব অংশের তুলনায় মানুষের গড় চুল প্রায় ২০০ গুণ মোটা।
ত্রিমাত্রিক মাপে দেখা গেছে, প্রতিটি শৈবাল-কোষের দেয়ালের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অংশ সূতার মতো ছত্রাকীয় হাইফার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। শৈবালের কাছে থাকা ছত্রাককোষ আয়তনে ফুলে যোগাযোগের ক্ষেত্র আরও বাড়িয়েছে। এই বিন্যাস শুধু জড়িয়ে ধরে রাখা নয়; পুষ্টি ও রাসায়নিক সংকেত বিনিময়ের জন্য বড় পৃষ্ঠতল তৈরি করতে পারে।
শক্তি-বিচ্ছুরণকারী এক্স-রে বর্ণালিবিশ্লেষণে স্পর্শস্থলের কোষপ্রাচীরে নাইট্রোজেন ও সালফারের মাত্রা তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকেরা মনে করছেন, বিশেষ রাসায়নিক পরিবর্তন পরিবহণে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বেশি নাইট্রোজেন বা সালফার নিজে কোন অণু চলেছে বা কোন দিকে বিনিময় হচ্ছে, তা প্রমাণ করে না।
লাইকেন প্রতিকূল শুষ্কতা, ঠান্ডা ও অতিবেগুনি আলো সহ্য করে এমন স্থানেও জন্মায়, যেখানে অনেক স্বতন্ত্র জীব টিকতে পারে না। তাদের ধীর বৃদ্ধি, বায়ুদূষণের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং পাথর ভাঙার ক্ষমতা পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও মাটি তৈরির গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। অংশীদারির সূক্ষ্ম স্থাপত্য জানা কৃত্রিম সহাবস্থান বা প্রতিকূল পরিবেশে জীবন্ত উপাদান তৈরির ধারণাতেও সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষণ: একটি প্রজাতির কয়েকটি নমুনার স্থির ছবি দিয়ে সব লাইকেনের বিনিময়ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করা যায় না। বিভিন্ন ছত্রাক–শৈবাল জুটি এবং ভেজা–শুষ্ক অবস্থায় যোগাযোগের ক্ষেত্র বদলাতে পারে। ন্যানো-সিটি গঠন দেখায়, জীবন্ত অবস্থায় অণুর চলাচল নয়। পরবর্তী ধাপে চিহ্নিত কার্বন বা নাইট্রোজেন অনুসরণ এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন দেখা প্রয়োজন। তবু অংশীদারিকে কাব্যিক ‘সহবাস’ থেকে মাপযোগ্য কোষীয় স্থাপত্যে নামিয়ে আনা গবেষণাটির বড় সাফল্য।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



