নদীর জলে ক্যাফেইন, বদলাচ্ছে জলজ প্রাণীর আচরণ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কফি বা চায়ের ক্যাফেইন মানুষের শরীর থেকে এবং ফেলে দেওয়া পানীয়ের সঙ্গে নিকাশিতে যায়।
- প্রচলিত বর্জ্যজল শোধনাগার সব ক্যাফেইন সরাতে না পারায় তার ক্ষুদ্র পরিমাণ নদী ও ঝরনায় পৌঁছয়।
- বন ও ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বেশি ক্যাফেইনে রাখা মিঠা জলের ক্ষুদ্র চিংড়িসদৃশ প্রাণী বেশি সক্রিয় হয়েছে এবং আলো এড়িয়ে চলার স্বাভাবিক প্রবণতা কমিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কফি বা চায়ের ক্যাফেইন মানুষের শরীর থেকে এবং ফেলে দেওয়া পানীয়ের সঙ্গে নিকাশিতে যায়। প্রচলিত বর্জ্যজল শোধনাগার সব ক্যাফেইন সরাতে না পারায় তার ক্ষুদ্র পরিমাণ নদী ও ঝরনায় পৌঁছয়। বন ও ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বেশি ক্যাফেইনে রাখা মিঠা জলের ক্ষুদ্র চিংড়িসদৃশ প্রাণী বেশি সক্রিয় হয়েছে এবং আলো এড়িয়ে চলার স্বাভাবিক প্রবণতা কমিয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর বায়োলজি লেটার্স-এ প্রকাশিত গবেষণায় গ্যামারাস পুলেক্স প্রজাতির ১২০টি প্রাণী ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ প্রায় ২১ মিলিমিটার লম্বা এই অ্যাম্ফিপড মৃত পাতা ও জৈব পদার্থ ভেঙে জলজ খাদ্যচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছ ও জলচর পাখিসহ বহু প্রাণী আবার তাদের খায়।
গবেষকেরা ১২টি পাত্রে কম বা বেশি—দুই পরিবেশগতভাবে প্রাসঙ্গিক ঘনত্বের ক্যাফেইন রাখেন। প্রতিটি পাত্রে পাঁচটি পরজীবী-আক্রান্ত এবং পাঁচটি অনাক্রান্ত প্রাণী ছিল। ২০ ঘণ্টা পরে আলো ও অন্ধকারের মধ্যে তাদের অবস্থান এবং চলাচল পরীক্ষা করা হয়।
ব্যবহৃত পলিমরফাস মিনিটাস পরজীবীটি অ্যাম্ফিপডের আলো-ভীতি কমিয়ে দেয়। তাতে প্রাণীটি উজ্জ্বল জায়গায় বেশি আসে এবং জলচর পাখির চোখে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পাখির শরীরেই পরজীবীর জীবনচক্রের পরের ধাপ সম্পন্ন হয়। গবেষণায় বেশি ক্যাফেইনে অনুরূপভাবে সক্রিয়তা বাড়া ও অন্ধকার বেছে নেওয়া কমার লক্ষণ পাওয়া গেছে।
ফলে ক্যাফেইন পরজীবীর আচরণ-পরিবর্তনের মতো একই দিকে প্রাণীটিকে ঠেলে দিতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। বাস্তব নদীতে এমন পরিবর্তন হলে শিকার হওয়ার ঝুঁকি এবং পাতা পচানোর হার বদলাতে পারে। একটি ব্যাপক ব্যবহৃত উদ্দীপক তাই শুধু মানবস্বাস্থ্যের বিষয় নয়; বর্জ্য হিসেবে জলজ প্রাণীর স্নায়ু ও আচরণেও পৌঁছতে পারে।
তবে পরীক্ষায় ক্যাফেইন-শূন্য নিয়ন্ত্রণদল ছিল না। তাই ফলটি ‘ক্যাফেইন থাকলে বনাম না থাকলে’ প্রভাব দেখায় না; শুধু বেশি ও কম ঘনত্বের পার্থক্য দেখায়। শিকারি প্রাণীও পরীক্ষায় ছিল না। আলো-ভীতি কমেছে মানেই বাস্তবে বেশি সংখ্যায় পাখি তাদের খাবে—এটি পরীক্ষাযোগ্য অনুমান, প্রমাণিত ফল নয়।
বাস্তব জলে তাপমাত্রা, খাদ্য, স্রোত, অন্য ওষুধ ও রাসায়নিক একসঙ্গে থাকে। মাত্র ২০ ঘণ্টার পরীক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস, প্রজনন বা জনসংখ্যার পরিবর্তন জানা যায় না। বিভিন্ন নদীতে ক্যাফেইনের ঘনত্বও বর্জ্যজল, জনসংখ্যা ও প্রবাহ অনুসারে দ্রুত বদলায়।
বিশ্লেষণ: গবেষণাটি কফি খাওয়া বন্ধের নির্দেশ নয়। মূল প্রশ্ন বর্জ্যজল শোধনে দৈনন্দিন ওষুধ ও খাদ্য-রাসায়নিক কতটা সরছে। পরবর্তী পরীক্ষায় ক্যাফেইনহীন দল, একাধিক ঘনত্ব, সরাসরি শিকারি এবং দীর্ঘমেয়াদি মাঠপর্যায়ের তথ্য প্রয়োজন। তবেই আচরণের ক্ষুদ্র পরিবর্তন খাদ্যজালে বড় প্রভাব ফেলে কি না বোঝা যাবে। আপাতত এটি উপেক্ষিত দূষকের বিশ্বাসযোগ্য সতর্কসংকেত, নদী ধ্বংসের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



