Home খবর হোয়াটসঅ্যাপের ‘ইউজারনেম’ ফিচারে কেন্দ্রের আপত্তি, মেটাকে তিন দিনের মধ্যে জবাবদিহির নোটিস

হোয়াটসঅ্যাপের ‘ইউজারনেম’ ফিচারে কেন্দ্রের আপত্তি, মেটাকে তিন দিনের মধ্যে জবাবদিহির নোটিস

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
3 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে মেটাকে নোটিস পাঠাল কেন্দ্র।
  • তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।
  • সরকারের সন্তুষ্টি না হওয়া পর্যন্ত ফিচার চালু না করার নির্দেশ।
  • ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ দিতেই এই ব্যবস্থা আনছে হোয়াটসঅ্যাপ।
  • নিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র।

বাংলাস্ফিয়ার: ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে চলেছে মেটার নতুন ‘ইউজারনেম’ ব্যবস্থা। কিন্তু এই নতুন সুবিধা চালুর আগেই আপত্তি তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। হোয়াটসঅ্যাপের এই ফিচার নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে মেটাকে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (মেইটিওয়াই)। একই সঙ্গে সরকারের উদ্বেগের যথাযথ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি চালু না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার পাঠানো নোটিসে মেইটিওয়াই হোয়াটসঅ্যাপকে নতুন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির তদন্তে এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বলেছে। তিন দিনের মধ্যে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছে সংস্থাকে।

গত সোমবার হোয়াটসঅ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতে নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘ইউজারনেম’ বা পরিচয় নির্বাচন করতে পারবেন। তখন আর নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোবাইল নম্বর ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। সংস্থার বক্তব্য, এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরও সুরক্ষিত করবে। ইতিমধ্যেই ধাপে ধাপে ব্যবহারকারীদের জন্য এই ইউজারনেম সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে ফিচারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা অনেকটাই অন্যান্য জনপ্রিয় বার্তা আদানপ্রদানের প্ল্যাটফর্মের মতো। সেখানে ব্যবহারকারীরা একটি নির্দিষ্ট নাম বা হ্যান্ডেলের মাধ্যমে একে অপরকে খুঁজে পান। ফলে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সর্বত্র প্রকাশ করার প্রয়োজন পড়ে না। বিশেষ করে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, অনলাইন লেনদেন বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা দুটোই বাড়াতে পারে।

তবে কেন্দ্রের উদ্বেগ অন্য জায়গায়। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ফোন নম্বরের পরিবর্তে শুধুমাত্র ইউজারনেম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে অপরাধ তদন্ত, সাইবার প্রতারণা, ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনও ব্যবহারকারী একাধিক পরিচয়ে সক্রিয় হলে বা পরিচয় গোপন রেখে অসৎ উদ্দেশ্যে এই ফিচার ব্যবহার করলে তা চিহ্নিত করার পদ্ধতি কী হবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর জানতে চেয়েছে সরকার।

সরকার আরও জানতে চেয়েছে, কোনও ব্যবহারকারী যদি নিজের ইউজারনেম পরিবর্তন করেন, তার রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহারে কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, এবং আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার বৈধ নির্দেশ এলে প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ভারত হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার। কয়েকশো মিলিয়ন ভারতীয় এই বার্তা আদানপ্রদানের মাধ্যম ব্যবহার করেন। ফলে এখানে চালু হওয়া যে কোনও নতুন ফিচার সরাসরি কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকার অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

গত কয়েক বছরে তথ্য সুরক্ষা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ভুয়ো খবর, সাইবার অপরাধ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার মধ্যে একাধিকবার মতপার্থক্য দেখা গিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিধি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন এবং বিভিন্ন আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বারবার জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বৈধ তদন্তেও যেন অযথা বাধা সৃষ্টি না হয়।

হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সংস্থার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সরকারের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও পাঠানো হবে। আপাতত নতুন ইউজারনেম ফিচারের পূর্ণাঙ্গ রোলআউট সরকারের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করতে পারে।

প্রযুক্তি মহলের একাংশের মতে, ইউজারনেম ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এর সঙ্গে যুক্ত পরিচয় যাচাই, জাল পরিচয় রোধ এবং তদন্তে সহায়তার বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, এখন সেটাই কেন্দ্র ও মেটার আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles