খবর

এপস্টাইন ‘ব্ল্যাকমেল’ করতে চেয়েছিলেন, দাবি বিল গেটসের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • হাইলাইটস মার্কিন কংগ্রেসে গোপন সাক্ষ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিল গেটস।
  • তাঁর অভিযোগ, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন পরকীয়া সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন।
  • গেটসের দাবি, শেষ পর্যন্ত তাঁকে কখনও সরাসরি ব্ল্যাকমেল করা হয়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

হাইলাইটস

  • মার্কিন কংগ্রেসে গোপন সাক্ষ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিল গেটস।
  • তাঁর অভিযোগ, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন পরকীয়া সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন।
  • গেটসের দাবি, শেষ পর্যন্ত তাঁকে কখনও সরাসরি ব্ল্যাকমেল করা হয়নি।
  • তিনি স্বীকার করেন, এপস্টাইনের অতীত সম্পর্কে জানতেন, তবে তার অপরাধের গভীরতা তখন বুঝতে পারেননি।
  • এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকে তিনি নিজের “বড় ভুল” বলেও উল্লেখ করেন।

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা Bill Gates মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের সামনে দাবি করেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেছিলেন।

১০ জুন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির সামনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গেটস এই সাক্ষ্য দেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত সেই সাক্ষ্যের প্রতিলিপিতে দেখা যায়, গেটস জানান এপস্টাইন ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকি দিচ্ছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানা তথ্য কাজে লাগিয়ে তাঁকে নিজের প্রভাববলয়ে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন।

গেটস বলেন, “আমাকে শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাকমেল করা হয়নি। তবে ই-মেলগুলি দেখে মনে হয়েছে, এপস্টাইন সেই দিকেই এগোচ্ছিলেন।” তাঁর কথায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার দপ্তর প্রকাশিত নথিতে এমন কিছু খসড়া ই-মেল রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এপস্টাইন কীভাবে তাঁকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা করছিলেন।

আরও জিজ্ঞাসাবাদের সময় গেটস স্পষ্ট করেন, “তিনি আমাকে এমন কোনও বার্তা পাঠাননি, যাকে আমি সরাসরি ব্ল্যাকমেল বলতে পারি। কিন্তু মনে হয়েছে, তিনি হয় নিজে, নয়তো অন্য কাউকে দিয়ে কীভাবে আমাকে ব্ল্যাকমেল করা যায়, তার মহড়া দিচ্ছিলেন। তবে সেই বার্তাগুলি কখনও আমার কাছে পাঠানো হয়নি।”

৭০ বছর বয়সি গেটস সাক্ষ্যের শুরুতেই লিখিত বিবৃতিতে বলেন, তিনি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং “আমি কখনও কোনও ব্যক্তির প্রতি অপরাধ করিনি।”

গত ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে গেটস স্বীকার করেছিলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় ভুল। একই সঙ্গে তিনি দুই রুশ মহিলার সঙ্গে নিজের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেন, যদিও এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনও ধরনের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

গেটসের দাবি, ২০১১ সালে তাঁর সঙ্গে এপস্টাইনের পরিচয় হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, তার তিন বছর আগেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ-সংক্রান্ত মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন এপস্টাইন।

গেটস আরও বলেন, এপস্টাইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলা সম্পর্কে তিনি জানতেন, কিন্তু বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ খতিয়ে দেখেননি। কারণ তাঁকে বলা হয়েছিল, এপস্টাইন বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রকল্পে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম একজন ব্যক্তি।

গেটসের কথায়, “আমি জানতাম মামলাটি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত ছিল। কিন্তু এর বিস্তারিত জানতাম না। এখন মনে হয়, আমার আরও গভীরভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।”

তবে প্রকাশিত নথিতে কোনও ব্যক্তির নাম থাকা মাত্রই তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। কিন্তু ওই নথিগুলি অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে যে, এপস্টাইন বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যদিও তাঁদের অনেকেই পরে সেই সম্পর্ককে ছোট করে দেখানোর বা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles