হাইলাইটস:

  • সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
  • দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর ও জোর করে ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুললেন তিনি।
  • সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি পূর্বঘোষণা অনুযায়ী হবে বলে জানাল সিজেপি।
  • বিকেলে মঞ্চে দীপকের দিকে কালি সদৃশ পদার্থ ছোড়ার ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়।

বাংলাস্ফিয়ার: প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো যন্তর মন্তরের আন্দোলনের মঞ্চে দেখা গেল না সোনম ওয়াংচুককে। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২০ দিনের অনশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন তার প্রধান মুখকে হারায়।

সকাল ৯টা নাগাদ সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে মঞ্চে ওঠেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার সময় তাঁকেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করা হয়েছিল। এরপরই তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরুর ঘোষণা দেন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

দীপকের অভিযোগ, “আমাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ আমাকে মারধর করেছে। সোনম স্যারকে এখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই পুলিশ বলল, এখন যেতে পারো। কিন্তু আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, “তাঁকে এমনভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেন তিনি কোনও অপরাধী। ওরা ভেবেছিল সোনম স্যারকে সরিয়ে দিলে আন্দোলন থেমে যাবে। এখন তাঁর পরিবর্তে আমি অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসব।”

দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করে দীপকের দাবি, “সোনমজিকে যেভাবে সরানো হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। পুলিশ দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের কথা বলছে। কিন্তু আদালত বলেছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে। সোনম স্যার নিজেই বলেছিলেন তিনি স্থিতিশীল আছেন। চিকিৎসা রিপোর্টেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক ছিল।”

এর প্রায় এক ঘণ্টা পরে সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব আন্দোলনস্থলে পৌঁছে মঞ্চে উঠে সংহতি প্রকাশ করেন। হাতে সংবিধানের একটি কপি তুলে নিয়ে আবেগাপ্লুত দীপকে বলেন, “যদি সত্যিই সোনম স্যারের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকত, তাহলে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হতো। এখনও যদি মানুষ যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনে না যোগ দেয়, তাহলে এই দেশের ভালো কিছু হবে না।”

মঞ্চের পিছনে তখন সিজেপির কর্মীরা সোনম ওয়াংচুকের ছবি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করার বদলে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছাত্রদের উপরও হামলা হয়েছে। এখন স্পষ্ট, প্রধানমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাতে চান না। তাই নিট পরীক্ষাকে ঘিরে ২০-রও বেশি ছাত্রের মৃত্যুর জন্য তিনিও দায়ী। তিনি স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন।”

সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির জন্য এখনও পুলিশের অনুমতি না মিললেও দীপকে জানান, কর্মসূচি বাতিল করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, “দিল্লি পুলিশেরও সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। সোনম স্যারও সম্মতি দেননি। তাই ২০ জুলাইয়ের মিছিল পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে।”

বিকেলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়, যখন এক মহিলা দীপকে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তাঁর দিকে কালি সদৃশ একটি পদার্থ ছুড়ে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই মহিলাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আবার সভা ও বক্তব্য চলতে থাকে।

বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দীপকে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “মোদীর লোকজন আজ সকালে তাঁকে টেনে নিয়ে গেছে। আজ রাতেও পুলিশ অভিযান চালাতে পারে। আজ যদি আপনারা এখান থেকে সরে যান, তাহলে ধরে নিন আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”

শনিবার সকাল পর্যন্ত যে জায়গায় সোনম ওয়াংচুক অনশনে শুয়ে ছিলেন, সেখানে এখন রাখা হয়েছে তাঁর একটি ছবি। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় টাঙানো সাদা পর্দা সরিয়ে নেওয়ার পরে তাঁর বিছানায় শুধু একটি বই পড়ে থাকতে দেখা যায়।