হাইলাইটস:
- জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনা, একজন নিখোঁজ।
- কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে ইরান।
- কুয়েতের জল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ।
- বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ।
- উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইরানের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে নিন্দা করেছে।
- হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও এক ধাপ বেড়ে গেল। জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও একজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডনের দিকেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। এর ফলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ইরানের এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন আমেরিকার ইরানে নতুন করে শুরু হওয়া বিমান হামলা দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও এ হামলায় জর্ডনের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর তারা দেয়নি।
অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত বাতিল ঘোষণা করার পর টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্বাক্ষরের আর কোনও মূল্য নেই।
এর জবাবে খামেনির নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে আমেরিকাকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়া হবে।
শনিবার কুয়েত অভিযোগ করেছে, ইরান দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের জল মিষ্টি করার কারখানা—লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মরুভূমি অধ্যুষিত কুয়েতের প্রায় ৯০ শতাংশ পানীয় জল এই লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভরশীল।
হামলার সময় কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন দমকলকর্মী ও এক শ্রমিক আহত হন।
বাহরাইনেও সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইরান জানিয়েছে, আমেরিকার বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর হামলা চালানোর জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ করা হয়েছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই কুয়েতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহি ও বিচার হওয়া উচিত।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়েছে, একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতের বিদেশ মন্ত্রক অভিযোগ করেছে, বেসামরিক স্থাপনা ও অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানের একটি সুপরিকল্পিত শত্রুতামূলক কৌশলের ইঙ্গিত দেয়, যা সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনায় চলা দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনী এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি জাহাজ থামিয়ে দিয়েছে এবং জর্ডনের আজরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আরও তিনটি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস করেছে। এই দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।