হাইলাইটস:
- কলকাতার জন্য দ্বিতীয় বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
- উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক শহরকে বিমান পরিষেবার আওতায় আনার উদ্যোগ।
- আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়নের প্রস্তাব।
- পর্যটন, শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণে বিমান পরিকাঠামোকে অগ্রাধিকার।
- রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন গতি আনতে পারে এই উদ্যোগ।
বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে রাজ্য বাজেটে। কলকাতার জন্য দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি জেলার শহরগুলিকেও দেশের বিমান মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করে তোলার রূপরেখা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং ভবিষ্যতের যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের দাবি উঠছিল। এবার সেই দাবির দিকেই কার্যত এগোতে চাইছে সরকার।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় জানান, বিমান পরিবহণ পরিকাঠামোকে সম্প্রসারিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর শুধু মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যাত্রীদের সুবিধাই বাড়াবে না, বরং পূর্ব ভারতের অন্যতম বিমান পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার অবস্থানও আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রী ও কার্গো পরিবহণের পরিমাণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগামী দশকে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই অনুমান। সেই কারণে একটি বিকল্প বিমানবন্দর ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি বা রক্ষণাবেক্ষণের সময়েও দ্বিতীয় বিমানবন্দর কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
তবে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের অন্যান্য শহরকেও বিমান পরিষেবার আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেন্দ্রিক অঞ্চল, জঙ্গলমহল, শিল্পাঞ্চল এবং উপকূলবর্তী এলাকার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতে আঞ্চলিক বিমান পরিবহণকে উৎসাহ দেওয়া হবে। কেন্দ্রের আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ছোট বিমানবন্দর, এয়ারস্ট্রিপ এবং হেলিপ্যাড উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকারের মতে, বিমান যোগাযোগের উন্নয়ন শুধুমাত্র যাতায়াতের সুবিধা বাড়াবে না, বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পায়ন এবং পর্যটন বিকাশেও বড় ভূমিকা নেবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স, সুন্দরবন, দিঘা-তাজপুর উপকূল, পুরুলিয়ার পর্যটন কেন্দ্র কিংবা পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পাঞ্চল— সব ক্ষেত্রেই দ্রুত যোগাযোগ নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলের দাবি, বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ হলে বিদেশি ও দেশীয় পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বর্তমানে অনেক পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছতে দীর্ঘ সড়ক বা রেলপথের উপর নির্ভর করতে হয়। বিমান যোগাযোগ চালু হলে সময় কমবে এবং পর্যটনের আকর্ষণ বাড়বে।
শিল্প মহলও এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, দ্রুত পরিবহণ ব্যবস্থা শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত। নতুন শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিক হাব এবং রফতানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে বিমানবন্দর ও কার্গো সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর এবং আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের সম্প্রসারণ সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। গভীর সমুদ্রবন্দর, মেট্রো সম্প্রসারণ, উড়ালপথ নির্মাণ এবং শিল্প করিডরের পাশাপাশি বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়ার ফলে একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।
যদিও দ্বিতীয় বিমানবন্দরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, প্রকল্পের ব্যয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি, তবু বাজেটের এই বার্তা স্পষ্ট— পশ্চিমবঙ্গকে ভবিষ্যতের পরিবহণ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আকাশপথের পরিকাঠামো সম্প্রসারণকে অন্যতম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ফলে আগামী কয়েক বছরে কলকাতার পাশাপাশি জেলার শহরগুলিও দেশের বিমান মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। বিমান যোগাযোগের এই নতুন দিগন্ত রাজ্যের অর্থনীতি, পর্যটন এবং শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে।