Home খবর আষাঢ়স্য চতুর্থ দিবসে… সকালেই সাঁঝবেলা

আষাঢ়স্য চতুর্থ দিবসে… সকালেই সাঁঝবেলা

এক রাতেই কলকাতার পারদ নামলো ৫ ডিগ্রি। বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ নদিয়া, মুশিদাবাদ, বীরভূম, হুগলি পুরুলিয়া বাঁকুড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগণায়। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।

Authored By অনন্যা মজুমদার
40 views 3 minutes read
A+A-
Reset

দিন কয়েকের প্রবল গরমের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছিল ঝোড়ো বাতাস এবং তার সঙ্গে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে আবহাওয়া অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছিল। এক রাতেই পারদ নেমেছিল ৫ ডিগ্রি। কিন্তু তারপর শুক্রবার সকাল থেকেই আকাশ জুড়ে মেঘের আনাগোনা। কালো মেঘের দাপটে সকাল থেকেই সাঁঝের আঁধার শহর জুড়ে। এরপরেই কোথাও হালকা এবং কোথাও প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জেলাতেও চলেছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত। প্রবল বৃষ্টিতে বহু জায়গায় জল জমে গিয়েছে বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে। বৃষ্টির জেরে শহরের তাপমাত্রাও কমলেও আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনভর ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে শনিবার থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে বলে জানা গিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে।

আলিপুরের হাওয়া অফিস জানিয়েছে শুক্রবার দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, জুন মাসের প্রথম দু সপ্তাহে রাজ্যের দশটি জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে অল্পবিস্তর বৃষ্টিপাত, শুক্রবার থেকে সেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে রবিবার পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। শুক্রবার সকাল থেকেই চলছে ঝোড়ো হাওয়া বজ্রবিদ্যুতের দাপট। শনি এবং রবিবারও তা সমানেই বজায় থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

তবে উত্তরবঙ্গের অবস্থা অনেকটাই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আবহবিদদের কপালে। প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে রীতিমতো বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বিগত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গে। তবে বৃহস্পতিবার রাত্রি থেকে ঝড় বৃষ্টির দাপট বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই পাহাড়ে ধস নেমেছে। ধসের ফলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুরের হাওয়া অফিস। জানা গিয়েছে, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার – এই পাঁচ জেলায় ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মালদহ এবং দুই দিনাজপুরে শনি এবং রবিবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রবল বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের জেরে অস্বাভাবিক হারে নদীগুলির জলস্তর বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার রাতের ভারী বৃষ্টিপাতের পর বালাসন নদীর জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে ওঠে, তার সঙ্গে বাড়তে থাকে স্রোত। ভোরের দিকে জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি। গত বছর অক্টোবরে পুরনো দুধিয়া সেতু ভেঙে গিয়েছিল। পরে বালাসনের নদীবক্ষেই তৈরি করা হয় অস্থায়ী সেতুটি। সেটিও বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা দুর্যোগের ফলে ভেঙে গেল।

ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে আলিপুর চিড়িয়াখানায় দুটি জলের পাইপ লাইন ফেটে জলমগ্ন হয়েছে চিড়িয়াখানার একাংশ। দুর্যোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান, পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রীমতি অগ্নিমিত্রা পল। তিনি নিজে সেই বিপর্যয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পরিস্থিতি বুঝে কলকাতা কর্পোরেশন থেকে সাকশন ভেহিকেল আনা হয়েছে। পাম্প দিয়ে জমা জল টেনে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের কোন বিপদ না হয়। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, ঘন্টাখানেকের মধ্যে এই জল সরিয়ে ফেলা হবে। একই সঙ্গে তিনি কলকাতার সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে কোন জায়গায় কোন জল জমা অথবা অন্য কোন বিপর্যয়জনিত সমস্যা হলে সরাসরি কলকাতা পুরসভার হেল্পলাইন নাম্বার অথবা পুরো নগরোন্নয়ন দপ্তরের ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর জন্য। যাতে উক্ত এলাকায় পুর কর্মীরা দ্রুত পৌঁছে সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

 

 

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles