হেনস্থার অভিযোগ, তার পরেই পদোন্নতি! প্রশ্নের মুখে দিল্লি পুলিশ

যা জানা জরুরি
- যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে যাঁর বিরুদ্ধে, দিল্লি পুলিশের সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ…
- পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বক্তব্য, এটি নিয়মমাফিক পদোন্নতির নির্দেশ।
- এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনেক আগেই পাঠানো হয়েছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে যাঁর বিরুদ্ধে, দিল্লি পুলিশের সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ (এসিপি) বিবেক ভগৎ সোমবার অতিরিক্ত ডিসিপি পদে পদোন্নতি পেলেন। তিনি কনট প্লেসের এসিপি ছিলেন।
পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বক্তব্য, এটি নিয়মমাফিক পদোন্নতির নির্দেশ। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনেক আগেই পাঠানো হয়েছিল। ভগতের সঙ্গে আরও ১১ জন আধিকারিকেরও পদোন্নতি হয়েছে।
শনিবার যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তিন মহিলা সাংবাদিক। রবিবার পুলিশ জানায়, বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাঁদের অভিযোগগুলি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
এক মহিলা সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, “পুলিশকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের আটক করছিলেন। ঘটনাস্থলে কোনও মহিলা পুলিশকর্মী ছিলেন না। মহিলা পুলিশকর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে আমি দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগৎকে প্রশ্ন করি। এর পরেই তিনি আমাকে যৌন নিগ্রহ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে পিছনে সরিয়ে দেন।”
এক্সে একটি পোস্টে দিল্লি পুলিশ জানায়, “৩ অক্টোবর নয়াদিল্লি এলাকায় বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর মধ্যে পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তিন মহিলা সাংবাদিক। নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ তাঁদের অভিযোগ পেয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য অভিযোগগুলি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।”
শনিবার সন্ধ্যায় একাধিক স্বাধীন সাংবাদিক ও সমাজমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান। এক জন এসিপি-সহ অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানান তাঁরা।
ভগতের পদোন্নতির সমালোচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের প্রশ্ন, তাঁকে কি “শ্লীলতাহানির জন্য পুরস্কৃত” করা হচ্ছে?
ঘটনার নিন্দা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। পুলিশের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কর্তব্য পালন না করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
এক্সে রাহুল লিখেছেন, “যন্তর মন্তরে এক মহিলা সাংবাদিক এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে শত শত সাংবাদিক সেখানে বসে রয়েছেন। তাঁদের একটাই দাবি—একটি এফআইআর দায়ের করতে হবে। এটাই কি পুলিশের প্রাথমিক কর্তব্য নয়? তারা সেটুকুও করেনি।”
পৃথক একটি পোস্টে প্রিয়ঙ্কা লিখেছেন, “যন্তর মন্তরে খবর সংগ্রহের সময় মহিলা সাংবাদিকেরা পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। বহু সাংবাদিকের প্রতিবাদ সত্ত্বেও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি, কোনও কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলারাও অভিযোগ করছেন, পুলিশ তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন আচরণ করছে। যে পুলিশের কাজ নিরাপত্তা দেওয়া, সেই পুলিশই মহিলাদের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে। কলেজপড়ুয়া থেকে সাংবাদিক—সর্বত্র মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণে “স্তম্ভিত ও মর্মাহত” হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়াও। অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে দিল্লি পুলিশের কাছে আর্জি জানিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে প্রেস ক্লাব বলেছে, “গণতন্ত্রে এই ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব হতে যাঁরা জমায়েত হন, তাঁদের কথা ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে। জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও যে তা করতে দেওয়া হচ্ছে না, তা ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গতিপথের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “দিল্লি পুলিশকে অবিলম্বে ওই মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সাংবাদিকেরা যাতে আক্রমণাত্মক আচরণ ও হুমকির মুখে না পড়ে নিজেদের কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



