এসআইআরের বৈধতা যাচাইয়ে লোকুরের নেতৃত্বে পাঁচ প্রাক্তন বিচারপতির স্বাধীন প্যানেল

যা জানা জরুরি
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পদ্ধতি, আইনি ভিত্তি এবং সাধারণ ভোটারদের উপর তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে পাঁচ প্রাক্তন বিচারপতির একটি স্বাধীন অনুসন্ধান…
- শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ বা এলএএফসি এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে।
- সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি. লোকুরের নেতৃত্বে প্যানেলটি কাজ করবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পদ্ধতি, আইনি ভিত্তি এবং সাধারণ ভোটারদের উপর তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে পাঁচ প্রাক্তন বিচারপতির একটি স্বাধীন অনুসন্ধান প্যানেল গঠিত হয়েছে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ বা এলএএফসি এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি. লোকুরের নেতৃত্বে প্যানেলটি কাজ করবে।
অন্য সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এ. কে. পট্টনায়ক, জম্মু ও কাশ্মীর হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বদর দুরেজ আহমদ, দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রেখা শর্মা এবং পাটনা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশ। সংস্থার বক্তব্য, এসআইআরের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিণতি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত।
অনুসন্ধানের কেন্দ্রে থাকছে দুটি প্রশ্ন। সংশোধনের সময় প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় থাকার অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত হয়েছিল কি? পাশাপাশি, অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ নিয়ম মেনে হয়েছে কি? এই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে এসআইআরের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ বৈধতা, যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং যোগ্য ভোটারদের উপর সামগ্রিক প্রভাব পরীক্ষা করা হবে। সোজা কথায়, ভোটার তালিকা নির্ভুল করার উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্যে অনুসৃত পদ্ধতির মধ্যে সামঞ্জস্য ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। শুধু কত নাম বাদ গেল, সেই সংখ্যার সঙ্গে কাদের নাম বাদ গেল এবং কীভাবে যাচাই হল, সেই প্রশ্নগুলিও এই অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণশুনানি করার পরিকল্পনা রয়েছে প্যানেলের। পূর্ণাঙ্গ ও আঞ্চলিক বেঞ্চের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিক, নাগরিক সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে তালিকায় নাম থাকা কিংবা বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন সংশ্লিষ্ট মানুষ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানও এই পর্যালোচনার অংশ হবে।
এই কাজে একটি পৃথক গবেষণা বিভাগ দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করবে। তাদের অনুসন্ধানের ফল বিচারপতিদের সামনে পেশ করা হবে। অন্যদিকে, আইনি সহায়তা দল সংশ্লিষ্ট আইন, বিজ্ঞপ্তি ও যাচাইপ্রক্রিয়া পরীক্ষা করবে। সাংবিধানিক সুরক্ষার বিধান বাস্তবে মানা হয়েছে কি না, সেটিও তাদের পর্যালোচনায় থাকবে।
প্যানেলকে আইনি পরামর্শ দেবেন কপিল সিব্বল, প্রশান্ত ভূষণ, চন্দর উদয় সিংহ, প্রশান্ত চন্দ্র সেন, রাজু রামচন্দ্রন, রেবেকা মামেন জন, ওয়ারিশা ফারাসত এবং বৃন্দা গ্রোভারের মতো আইনজীবীরা। তবে এলএএফসি জানিয়েছে, অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের দায়িত্ব একমাত্র প্রাক্তন বিচারপতিদের। উদ্যোগী সংগঠন বা সহায়ক কমিটিগুলি তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না।
পরিচালনাগত কাজে সহায়তা করবে একটি সমন্বয় কমিটি ও সচিবালয়। সচিবালয় থাকবে এলএএফসির অধীনে। অনুসন্ধান শেষ করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, শুনানিতে উঠে আসা অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং আইনি পর্যালোচনা একত্র করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, এসআইআর সম্পন্ন হওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে পুনরায় নাম তোলার বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পুরনো ও সংশোধিত তালিকা মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শনাক্ত করতে বলা হয়েছে বুথ স্তরের আধিকারিকদের। বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফর্ম ৬ সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই পটভূমিতেই স্বাধীন অনুসন্ধানের ঘোষণা এসেছে।
তবে প্রাক্তন বিচারপতিদের এই প্যানেল আদালত বা সরকারি বিধিবদ্ধ তদন্ত কমিশন নয়। নির্বাচন কমিশনকে হাজির হতে কিংবা নথি দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা এর নেই; সুপারিশও আদালতের রায়ের মতো বাধ্যতামূলক হবে না। এর কাজ তথ্য, সাক্ষ্য ও আইনি যুক্তির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন সামনে আনা। এসআইআর বেআইনি ছিল কি না, প্যানেল গঠনের ঘোষণা নিজে সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করছে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



