শ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক অনলাইন পরিষেবা কয়েক দিন ধরে অচল বা অনিয়মিত থাকায় জন্ম–মৃত্যু সনদ, সম্পত্তিকর, শ্রম দপ্তরের আবেদন এবং বিভিন্ন পুর-পরিষেবায় নাগরিকেরা সমস্যায় পড়েছেন। কয়েকটি পোর্টালে ‘রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরীক্ষা’ চলার বার্তা দেখা গেছে; অন্যগুলিতে প্রবেশ, অর্থপ্রদান বা নথি নামানোর মাঝপথে ত্রুটি হয়েছে।

বিঘ্ন অন্তত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন মাত্রায় দেখা যাচ্ছে বলে ব্যবহারকারী ও আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার অনলাইন সম্পত্তিকর, জন্ম–মৃত্যু নথি এবং রাজ্যের কিছু বিভাগীয় সাইট প্রভাবিত হয়েছে। একই সময়ে সব পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল না; কোনও সাইটে পাতা খুললেও লেনদেন সম্পন্ন হয়নি, কোনওটিতে আগের নথি পাওয়া যায়নি।

সরকারি আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন চলছে। কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা কোন কোন পোর্টাল প্রভাবিত, তার একক সরকারি তালিকা প্রকাশ হয়নি। স্বাধীন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরা সম্ভাব্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা মুক্তিপণ-আক্রমণের প্রশ্ন তুলেছেন; সরকার তা নিশ্চিত করেনি। প্রমাণ ছাড়া বিঘ্নকে সাইবার আক্রমণ বলা ঠিক হবে না।

অনলাইন ব্যবস্থা অচল হলে নাগরিককে আবার দপ্তরের কাউন্টারে যেতে হয়। কিন্তু বহু পরিষেবায় কর্মী ও কাগজের পুরনো পথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দূরের গ্রাম থেকে মহকুমা বা পুরসভায় আসা, কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়ানো এবং দালালের সহায়তা নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। জন্মসনদ ছাড়া স্কুলভর্তি বা পরিচয়পত্রের কাজ, মৃত্যুসনদ ছাড়া উত্তরাধিকার ও বিমার দাবি আটকে যেতে পারে।

অর্থপ্রদানের মাঝপথে টাকা কেটে গিয়ে রসিদ না-মেলার ঘটনাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক, সরকারি হিসাব এবং আবেদন নম্বর মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয় পুনর্মিলনের ব্যবস্থা থাকা দরকার। নাগরিককে দ্বিতীয়বার টাকা দিতে বাধ্য করা বা ফেরতের জন্য দীর্ঘ অভিযোগপথে পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সময়সীমা ও অভিযোগ নম্বর প্রয়োজন।

নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রয়োজনে ব্যবস্থা সাময়িক বন্ধ করতেই হতে পারে। কিন্তু আগে থেকে বিজ্ঞপ্তি, কাজের সময়সীমা, বিকল্প কাউন্টার এবং পরিষেবা ফেরার নিয়মিত খবর থাকা উচিত। জরুরি জন্ম–মৃত্যু নথি, সামাজিক সুরক্ষার টাকা বা শ্রমিক নিবন্ধনের মতো কাজকে সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে একসঙ্গে বন্ধ রাখা উচিত নয়।

‘ডিজিটাল’ পরিষেবাকে সুবিধা বলা হয়, কিন্তু একমাত্র পথ বানালে তার ব্যর্থতা প্রশাসনিক তালাবন্ধ দরজায় পরিণত হয়। নিরবচ্ছিন্নতা, তথ্যের অনুলিপি, বিপর্যয় থেকে পুনরুদ্ধার এবং কাগজের সীমিত বিকল্প—সবই প্রকল্পের খরচের অংশ। শুধু নতুন পোর্টাল উদ্বোধন করে সেই দায় শেষ হয় না।

সরকারের এখন প্রভাবিত পরিষেবার তালিকা, ঘটনার কারণ, তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না এবং পুনরুদ্ধারের সময় প্রকাশ করা উচিত। নিরাপত্তার কারণে কারিগরি দুর্বলতা গোপন রাখা যেতে পারে; নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বিপন্ন কি না গোপন রাখা যায় না। পরিষেবা ফেরার পরে স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষার সংক্ষিপ্ত ফল এবং ব্যর্থ লেনদেনের নিষ্পত্তির সংখ্যা প্রকাশ করলে আস্থা ফিরবে।