হাইলাইটস
- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছ থেকে পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ প্রত্যাহার করলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত Karol Nawrocki।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোলিশ নাগরিক হত্যার অভিযোগে বিতর্কিত ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী বাহিনীর নামে বিশেষ বাহিনীর একটি ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত।
- ইউক্রেন-পোল্যান্ড সামরিক জোটে তাৎক্ষণিক প্রভাব না পড়লেও দুই দেশের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব আবার সামনে চলে এসেছে।
- রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের অন্যতম বড় সমর্থক পোল্যান্ডের এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইউক্রেনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্রদের অন্যতম পোল্যান্ড। কিন্তু সেই সম্পর্কেই এবার দেখা দিল নতুন অস্বস্তি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelensky-র কাছ থেকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন পোল্যান্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি।
তিন বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে ওয়ারশ এই সম্মান জেলেনস্কিকে প্রদান করেছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে নাভরোৎস্কি ঘোষণা করেন, তিনি সেই সম্মান ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, ইউক্রেন সরকার সম্প্রতি একটি বিশেষ বাহিনীর ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে এমন এক ঐতিহাসিক সংগঠনের নামে রেখেছে, যার অতীত পোল্যান্ডের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে Ukrainian Insurgent Army বা ইউপিএ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার পোলিশ বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভলহিনিয়া ও পূর্ব গ্যালিসিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে পোল্যান্ড গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে ইউক্রেনের একাংশ ইউপিএ-কে সোভিয়েত ও নাৎসি শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামী শক্তি হিসেবে দেখে। এই ভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাই দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে উত্তেজনার উৎস।
নাভরোৎস্কি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বলেন, “পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের সম্পর্কের কিছু সীমারেখা আছে, যা অতিক্রম করা যায় না।” তাঁর মতে, জেলেনস্কির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং সম্মান প্রত্যাহার একটি সতর্কবার্তা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক ভেঙে দেবে না। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধে পোল্যান্ড এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অস্ত্র সরবরাহ, শরণার্থী আশ্রয় এবং কূটনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে ওয়ারশ কিয়েভের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার।
তবু ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইউক্রেন ক্রমশ ইউরোপীয় সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন আগের মতো বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা না দিয়ে অস্ত্র বিক্রির নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় সমর্থনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ইউরোপের মধ্যেও ইউক্রেনকে ঘিরে মতভেদ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে Hungary ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রচেষ্টায় বাধা দিয়েছিল। অন্যদিকে Slovakia-র প্রধানমন্ত্রী Robert Fico ২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করে আসছেন।
পোল্যান্ড ও ইউক্রেন গত কয়েক বছরে অতীতের রক্তাক্ত ইতিহাস ভুলে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে এগিয়েছিল। কিন্তু জেলেনস্কির পদক প্রত্যাহারের ঘটনা দেখিয়ে দিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান বজায় থাকলেও ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে বিরোধ যে এখনও দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই নতুন প্রমাণ।