৪৪০ কোটির হিসাব থেকে খরচের পথ খোলা, তৃণমূলের চেকে বিচারকের নজর বহাল

যা জানা জরুরি
- কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ফ্রিজ থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বর্তমান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বহাল রেখেছে।
- রাজ্য সরকার ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, দলীয় কাজ ও আইনি খরচ মেটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আদালতের নিযুক্ত বিশেষ…
- ২১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জুলাইয়ের নির্দেশ বহাল রাখেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ফ্রিজ থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বর্তমান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বহাল রেখেছে। রাজ্য সরকার ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, দলীয় কাজ ও আইনি খরচ মেটাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির আদালতের নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের অনুমতি নিয়েই ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তুলতে পারবে।
২১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জুলাইয়ের নির্দেশ বহাল রাখেন। সেই নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক করা হয়েছিল। মমতা শিবিরের স্বীকৃত দুই ব্যক্তি চেকে স্বাক্ষর করার পরে বিশেষ আধিকারিক তা পরীক্ষা ও অনুমোদন করবেন। পরে আদালতে খরচের হিসাব জমা দিতে হবে। অর্থাৎ হিসাবগুলি পুরোপুরি মুক্ত হয়নি; বিচারিক তদারকির মধ্যে সীমিত ব্যবহার চলবে।
তিনটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক হিসাবে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা থাকার কথা বিভিন্ন আদালত-প্রতিবেদনে এসেছে। ১৯ জুন একটি সাইবার অপরাধের মামলার ভিত্তিতে হিসাবগুলি থেকে টাকা তোলা বন্ধ হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, হিসাবগুলিতে অপরাধলব্ধ অর্থ থাকতে পারে এবং দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মধ্যে টাকা অন্যত্র সরানো হতে পারে। এগুলি তদন্তাধীন অভিযোগ; এখনও আদালতে অর্থকে অপরাধলব্ধ সম্পদ বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জুলাইয়ের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছিল, সম্পূর্ণ হিসাব বন্ধ রাখার পক্ষে পেশ করা উপাদানে তারা সন্তুষ্ট নয়। একই সঙ্গে বিপুল অঙ্ক অবাধে ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি। দৈনিক কার্যালয়, কর্মীর বেতন ও মামলা পরিচালনার মতো নির্দিষ্ট খরচের জন্য মধ্যবর্তী পথ নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট আগস্টে এই ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল।
বর্তমান বিরোধের একটি অংশ দলের উত্তরাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। তৃণমূল ভেঙে একাধিক শিবির হওয়ার পরে কারা পুরনো সংগঠনের অর্থ ও সম্পত্তি পরিচালনা করবে, তা নির্বাচন কমিশন ও আদালতের পৃথক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কমিশন উপনির্বাচনের জন্য বিভিন্ন শিবিরকে সাময়িক নাম ও প্রতীক দিয়েছে; পুরনো নাম–প্রতীকের চূড়ান্ত মালিকানা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ব্যাঙ্কের অর্থ ব্যবহারের অনুমতি সেই মালিকানার চূড়ান্ত রায় নয়।
হাইকোর্টের ২১ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত মমতা শিবিরকে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক স্বস্তি দিলেও প্রতিটি চেকের প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষা হবে। অনুমোদিত খরচের সংজ্ঞা, প্রাপকের পরিচয় এবং রাজনৈতিক প্রচারের ব্যয় কতটা অন্তর্ভুক্ত হবে—বিশেষ আধিকারিককে তা ধারাবাহিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
রাজনৈতিক দলের হিসাব দীর্ঘদিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে কর্মী, বাড়িভাড়া ও আদালতের ব্যয় থেমে যায়; আবার মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে বিরোধ থাকলে অবাধ উত্তোলন পরে অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। বিচারিক তদারকির ব্যবস্থা এই দুই ঝুঁকির সাময়িক ভারসাম্য। সেটিকে কোনও শিবিরের বৈধতার সনদ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
বড় প্রশ্ন হল রাজনৈতিক অর্থের স্বচ্ছতা। অনুমোদিত মোট ব্যয়, শ্রেণিভিত্তিক খরচ এবং অবশিষ্ট অর্থ—ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিয়ে আদালতে প্রকাশ্য প্রতিবেদনে থাকা উচিত। তদন্তকারী সংস্থাকেও কোন লেনদেন কেন সন্দেহজনক, তা নির্দিষ্ট করতে হবে; শুধু বিপুল অঙ্ক বা দলীয় বিরোধ হিসাব হিমায়িত রাখার স্থায়ী কারণ হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত অর্থ কার, তার আগে জানা দরকার অর্থটি কোথা থেকে এসেছে এবং আইনসঙ্গতভাবে কোথায় গেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



