মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন না ট্রাম্প

যা জানা জরুরি
- আরিয়ানা বাইও | দ্য গার্ডিয়ান ১ অক্টোবর ২০২৬ টাইম পত্রিকাকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নিয়ে আমেরিকাবাসীকে বিভ্রান্ত করার…
- জনমত সমীক্ষায় তাঁর কম জনসমর্থনের হারকে উড়িয়ে দিলেন ‘ভুয়ো পরিসংখ্যান’ বলে।
- সেই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনাও নাকচ করতে চাইলেন না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আরিয়ানা বাইও | দ্য গার্ডিয়ান
১ অক্টোবর ২০২৬
টাইম পত্রিকাকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নিয়ে আমেরিকাবাসীকে বিভ্রান্ত করার দায় এড়িয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনমত সমীক্ষায় তাঁর কম জনসমর্থনের হারকে উড়িয়ে দিলেন ‘ভুয়ো পরিসংখ্যান’ বলে। সেই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনাও নাকচ করতে চাইলেন না।
ইরান যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্নের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংবাদমাধ্যমকেই দোষারোপ করেন। মার্চে তিনি বলেছিলেন, এই সংঘাত ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ চলতে পারে। তাঁর সেই মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
আমেরিকার মানুষ তাঁর কথা ভুল বুঝেছিলেন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প টাইমকে বলেন, ‘…আমার মনে হয়, সংবাদমাধ্যমই ওঁদের মাথায় ওই ধারণা ঢুকিয়েছে।’
মার্চের শেষে ট্রাম্প আমেরিকাবাসীকে জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ‘দুই থেকে তিন সপ্তাহের’ মধ্যে তিনি ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। মে মাসে তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে।
এ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি যখন খুশি ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ করতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ‘কারণ আমি আরও এগোতে চেয়েছিলাম’।
সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের জেরে দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে যুঝছেন আমেরিকাবাসী। পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি চার ডলার ছাড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতিও কিছুতেই নামতে চাইছে না—ঘোরাফেরা করছে ৩.৪ শতাংশের আশপাশে।
ট্রাম্পের এই সংঘাত অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, ক্ষুব্ধ করেছে ভোটারদের। তাঁদের অধিকাংশই বলছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা এবং সামগ্রিক ভাবে তাঁর কাজকর্মে তাঁরা অসন্তুষ্ট। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস/এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের সমীক্ষা অনুযায়ী, এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের অর্থনীতি পরিচালনায় সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ২৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক।
সব মিলিয়ে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজকর্মে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষ।
কিন্তু টাইমের সাক্ষাৎকারে জনসমর্থনের এই কম হার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প উদ্বেগ উড়িয়ে দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ওগুলো ভুয়ো পরিসংখ্যান। আজ যে-ই আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াক, তাকে আমি ২০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারাব। আপনাদের কাছে যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তা ভুয়ো। জনমত সমীক্ষাকারীরা দুর্নীতিগ্রস্ত। তাঁরা প্রায় সাংবাদিকদের মতোই দুর্নীতিগ্রস্ত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘দেখুন, আমি খুব ভাল কাজ করছি। অন্তত আমার তা-ই মনে হয়। দেখুন, আমাদের অর্থনীতিই সবচেয়ে শক্তিশালী।’
ট্রাম্প এমন দাবি করলেও আমেরিকাবাসীর অনুভূতি এক নয়।
এপি/এনওআরসি-র সমীক্ষায় প্রায় ৭৪ শতাংশ আমেরিকাবাসী জানিয়েছেন, অর্থনীতির অবস্থা খারাপের দিকে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশ আবার খরচ বৃদ্ধির জন্য সরাসরি ট্রাম্পের নীতিকেই দায়ী করেছেন।
ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, যে সব প্রার্থী মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই আশঙ্কা বেশি। জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, টেক্সাসের মতো ঐতিহাসিক ভাবে রক্ষণশীল রাজ্যেও বহু ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভোটারদের সমর্থন বাড়াচ্ছেন।
ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনাকে অবশ্য গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। টাইমকে তিনি বলেন, প্রার্থীদের হয়ে তিনি প্রচারে নামলে রিপাবলিকানরা ভাল ফল করতে পারেন।
কয়েক জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ভাল ফল করলে ট্রাম্প ফের ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলবেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে হেরেও ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করতে অস্বীকার করেছিলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, আমেরিকার নির্বাচনব্যবস্থা সুরক্ষিত নয়। ভোট দেওয়ার পদ্ধতির উপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একাধিক নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন। এর মধ্যে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করা এবং পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ রয়েছে।
নিজের পছন্দের বিধিনিয়ম কার্যকর করতে নির্বাচনের সময় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনা এর আগেও নাকচ করেননি তিনি। এফবিআই অধিকর্তা কাশ প্যাটেলের মতো প্রশাসনের অন্য শীর্ষকর্তারাও ভোটগ্রহণকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। অথচ এমন মোতায়েন আইনবিরুদ্ধ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবেন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প টাইমকে বলেন, ‘আমি কোনও সম্ভাবনাই বাতিল করছি না, আবার কোনওটিই নিশ্চিত করছি না। দেখা যাবে।’
ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনও ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করেননি ঠিকই, তবে সেটি ‘প্রয়োগ করতে পারেন’। উনিশ শতকের এই আইন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের ভিতরে সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দেয় প্রেসিডেন্টকে।
ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেরই মনে হয়, কিছু কিছু সময়ে আমার এই আইন প্রয়োগ করা উচিত।’
টাইমের সঙ্গে আলোচনায় আরও নানা প্রসঙ্গ ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিল গরসাচ, ব্রেট কাভানহ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকে নিয়োগ করার জন্য তিনি অনুতপ্ত কি না, জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট সম্মতিসূচক উত্তর দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কী করতে পারি? আমিই ওঁদের বসিয়েছি। ওঁরা বড্ড বেশি বার আমার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। আমি খুবই—আমি ওঁদের সারা জীবনের জন্য ওই পদ দিয়েছি, আর ওঁরা প্রায়ই আমার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।’
সুপ্রিম কোর্ট প্রায়ই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়। তবে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছে এই আদালত। যেমন, তাঁর ব্যাপক শুল্ক আরোপকে চ্যালেঞ্জ জানানো মামলায় এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার খর্ব করার উদ্যোগের ক্ষেত্রে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



