গোয়ায় একই পরিবারের ছয় সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ। বুধবার শুনানিতে আদালত জানতে চায়, প্রকৃত সমস্যাটি ঠিক কোথায়? খসড়া তালিকায় নাম না থাকাকেই বাদ দেওয়ার ভিত্তি করা যায় না বলে মন্তব্য করে বেঞ্চ। বিচারপতি অমিত এস জামসন্দেকর ও বিচারপতি বাল্মীকি মেনেজেসের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনিক সফটওয়্যার কখনও আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।

আবেদনকারী পরেশ সালগাঁওকর ও তাঁর পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্য সান্তা ক্রুজ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই বাসস্থান বদলেছিলেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন তাঁরা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ফর্ম ৮ জমা দেন। পরে জানতে পারেন, তাঁদের নাম তালিকা থেকেই মুছে গিয়েছে। কমিশন আদালতকে জানায়, এসআইআরের গণনা পর্বে ফর্ম ৮ প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ সফটওয়্যারে ছিল না। পরিবারটিকে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে বলা হয়েছিল; তাঁরা তা মানতে চাননি।

বুধবারের শুনানির বিবরণ অনুযায়ী, আবেদনকারীদের সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে ইআরওনেট ব্যবস্থায় আবেদন প্রত্যাখ্যান ছাড়া অন্য পথ ছিল না। মুছে যাওয়া তথ্য ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও না থাকায় নতুন আবেদনের কথা বলা হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, আগে থেকেই নথিভুক্ত একজন ভোটারকে সফটওয়্যার কেন নতুন ভোটার হিসেবে গণ্য করবে? শুনানির সুযোগ না দিয়ে নাম কাটার ক্ষমতা আইনের কোথায় দেওয়া রয়েছে, কমিশনের কাছে তাও জানতে চায় বেঞ্চ।

কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, পরিবারটি প্রায় আট বছর আগে বাসস্থান বদলেছিল; ঠিকানা পরিবর্তনের খবর সময়মতো জানানোর দায়িত্ব তাঁদেরও ছিল। কিন্তু আদালতের পাল্টা পর্যবেক্ষণ, তাঁরা তো ফর্ম ৮ জমা দিয়েই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। সাধারণ সময়ে এই ফর্ম গ্রহণ করা গেলেও সংশোধন প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়ে তা কেন গ্রহণ করা যাবে না, সেই প্রশ্নও ওঠে। বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা চালুর আগেও ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি হত। সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতায় সেই প্রশাসনিক কাজ আটকে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের উদ্বেগ শুধু এই ছয়জনকে ঘিরে নয়। একইভাবে বাসস্থান বদলানো আরও কত মানুষ আদালতে পৌঁছতে পারেননি, সেই প্রশ্নও ওঠে। বেঞ্চ আশঙ্কা প্রকাশ করে, এমন চললে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। আবেদন পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে; সফটওয়্যার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না দিলে ত্রুটি সংশোধনের পথ কোথায়, জানতে চায় আদালত।

বিষয়টি বুঝতে কমিশনের নিজস্ব ভোটার পরিষেবা পোর্টালে উল্লিখিত ফর্মগুলির উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ নির্দিষ্ট রয়েছে। ফর্ম ৭ ব্যবহার হয় তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া অথবা অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তির ক্ষেত্রে। অন্যদিকে বাসস্থান পরিবর্তন, নথিভুক্ত তথ্য সংশোধন, ভোটার পরিচয়পত্র প্রতিস্থাপন এবং প্রতিবন্ধিতার তথ্য যুক্ত করার জন্য রয়েছে ফর্ম ৮। পোর্টালে একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এবং অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে বাসস্থান পরিবর্তনের বিকল্পও আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ভোটারের প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন করার পৃথক ব্যবস্থার কথা কমিশন নিজেই জানিয়েছে।

আরও জানা যায়, আগের শুনানিতেও বিষয়টি উঠেছিল। তখন কমিশন বলেছিল, একবার নাম বাদ গেলে সফটওয়্যারে তা পুনর্বহালের সুযোগ নেই। আদালত সমাধান খুঁজতে বলেছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া আবেদন কেন বিবেচিত হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছে বেঞ্চ।

এই মামলার তাৎপর্য তাই একটি পরিবারের ঠিকানা সংশোধনের চেয়েও বড়। শুনানির প্রশ্নগুলি সামনে আনছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দায় কার, এবং প্রযুক্তিগত বাধার মুখে নাগরিক কোথায় প্রতিকার পাবেন। একটি ব্যবস্থায় ভুল হলে তার সংশোধনের কার্যকর পথ থাকাও যে জরুরি, বিতর্কটির কেন্দ্রে রয়েছে সেই প্রশ্ন।