খবর

জ্বলন্ত চিতা থেকে দেহাংশ তুলে খাওয়ার অভিযোগ, উজ্জয়িনীতে গ্রেফতার স্বঘোষিত ‘লেডি অঘোরী’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • উজ্জয়িনী: শ্মশানে জ্বলন্ত চিতা থেকে মানুষের দেহাংশ তুলে খাওয়ার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গ্রেফতার করা হল এক স্বঘোষিত ‘অঘোরী’ সাধককে।
  • কালী ওরফে কালীনন্দ গিরি নামে পরিচিত ওই রূপান্তরকামী ব্যক্তি নিজেকে কিন্নর আখড়ার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন।
  • ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

উজ্জয়িনী: শ্মশানে জ্বলন্ত চিতা থেকে মানুষের দেহাংশ তুলে খাওয়ার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গ্রেফতার করা হল এক স্বঘোষিত ‘অঘোরী’ সাধককে। কালী ওরফে কালীনন্দ গিরি নামে পরিচিত ওই রূপান্তরকামী ব্যক্তি নিজেকে কিন্নর আখড়ার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করে জীবাজীগঞ্জ থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে উজ্জয়িনীর চক্রতীর্থ শ্মশানঘাটে। প্রায় এক মিনিট ২৭ সেকেন্ডের ভিডিয়োটিতে অভিযুক্তকে প্রথমে জ্বলন্ত চিতার ছাই নিজের শরীরে মাখতে দেখা যায়। পরে হাতে তলোয়ার নিয়ে চিতার কাছে গিয়ে তিনি মৃতদেহের একটি অংশ তুলে মুখে দেন বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনাটিই ক্যামেরাবন্দি করে তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায় প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে ভিডিয়োয় দেখা বস্তুটি সত্যিই মানুষের দেহাংশ কি না, পুলিশ তা পরীক্ষা করে দেখছে।

ভিডিয়োটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কালভৈরব ঘাটের সাধক বিষ্ণুনাথ, যিনি গুরু বমবম নাথ নামেও পরিচিত, জীবাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, এই আচরণ শুধু মৃতদেহের অবমাননাই নয়, শেষকৃত্যে হস্তক্ষেপ এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার শামিল। অভিযোগকারীর দাবি, ঘটনার বিরোধিতা করায় অভিযুক্ত পরে আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে সমালোচকদের হুমকিও দেন।

উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ওই ধারায় সমাধিস্থল বা শেষকৃত্যের জায়গায় অনধিকার প্রবেশ, মৃতদেহের অবমাননা এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তদন্তকারীরা ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট চিতার পরিচয় যাচাই করছেন।

এই ঘটনার নিন্দা করেছেন উজ্জয়িনীর অঘোরী সম্প্রদায়ের একাংশও। তাঁদের বক্তব্য, অঘোর সাধনার নামে প্রকাশ্যে মৃতদেহের অঙ্গ স্পর্শ বা তা খাওয়ার কোনও শাস্ত্রীয় অনুমোদন নেই। সাধক রাজনাথ পম্পির কথায়, চিতাভস্ম শরীরে বা কপালে মাখার প্রথা থাকলেও মৃতদেহের অংশে হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ অনুচিত। প্রকৃত সাধনা লোকদেখানো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহামণ্ডলেশ্বর শৈলেশানন্দ মহারাজের অভিযোগ, ব্যক্তিগত প্রচার ও সমাজমাধ্যমে পরিচিতি বাড়াতেই এমন দৃশ্য ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। অভিযুক্তের আচরণে গোটা অঘোরী সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মত স্থানীয় সাধুদের। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, ভাইরাল ভিডিয়োর দৃশ্য ও অভিযোগের ফরেনসিক যাচাই এখনও বাকি। ফলে মানুষের মাংস খাওয়ার দাবিটি এই পর্যায়ে প্রমাণিত তথ্য নয়; তদন্তসাপেক্ষ অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles