খবর

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছরের হিসাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পাঁচ বছরের নিরীক্ষিত হিসাব, ফি, উদ্বৃত্তের বিনিয়োগ, সরকারি সুবিধা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বিস্তারিত প্রকাশ করানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
  • বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ ১৭ সেপ্টেম্বর আদেশটি দেয়; ২২ সেপ্টেম্বর তার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়।
  • কেন্দ্র, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিজ নিজ মুখ্যসচিবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পাঁচ বছরের নিরীক্ষিত হিসাব, ফি, উদ্বৃত্তের বিনিয়োগ, সরকারি সুবিধা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর বিস্তারিত প্রকাশ করানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ ১৭ সেপ্টেম্বর আদেশটি দেয়; ২২ সেপ্টেম্বর তার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়। কেন্দ্র, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিজ নিজ মুখ্যসচিবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি ১৯ নভেম্বর। এটি কোনও নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতির দায়ে দোষী ঘোষণা নয়; দেশজোড়া তথ্য সংগ্রহের বিচারিক নির্দেশ।

মামলাটি শুরু হয়েছিল নয়ডার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ থেকে। শুনানির পরিধি পরে বিস্তৃত করে আদালত জানতে চেয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে প্রতিষ্ঠিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, সরকার থেকে কী জমি, ছাড় বা বিশেষ সুবিধা পায় এবং সেই সম্পদ শিক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয় কি না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেসরকারি মর্যাদা কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মুনাফা তৈরির সাধারণ ব্যবসায় পরিণত করার অনুমতি দেয় না। একই সঙ্গে নিয়মিত কাজ, অবকাঠামো ও শিক্ষক-কর্মীর ন্যায্য পারিশ্রমিকের জন্য যুক্তিসঙ্গত আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন, সেটিও বেঞ্চ স্বীকার করেছে।

চাওয়া তথ্য শুধু আয়-ব্যয়ের মোট অঙ্ক নয়। ভর্তি ও পাঠ চলাকালে কোন কোন খাতে ফি নেওয়া হয়, উন্নয়ন বা অনুষ্ঠানের নামে সংগ্রহ কত, উদ্বৃত্ত কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন ব্যক্তিকে কত অর্থ দেওয়া হয়েছে—এসব জানাতে হবে। প্রতিটি পাঠক্রমে ভর্তি-পদ্ধতি, প্রশ্ন তৈরি, পরীক্ষা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব কার, পরিচালন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী—সেটিও তথ্যের অংশ।

শিক্ষক ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ, তাঁদের বেতন এবং স্বীকৃতি বা অনুমোদনের সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শনের বিবরণও চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসা, দন্তচিকিৎসা, নার্সিং, ফার্মেসি, আইনসহ পেশাগত শিক্ষায় সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রকদের তথ্য দিতে হবে। হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক এবং ছাত্র-অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও আদালতের নজরে। ফলে আদেশটি শুধু ‘ফি বেশি’ অভিযোগের হিসাব নয়; শিক্ষার গুণমান, কর্মসংস্থান ও নিয়ন্ত্রণকে অর্থের প্রবাহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা।

তথ্য চাওয়া এবং তথ্য প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীকে দেওয়া এক নয়। হলফনামা আদালতে জমা পড়লেও কোন অংশ সাধারণ মানুষ দেখতে পারবেন, ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক গোপনীয়তার দাবিতে কী বাদ যাবে এবং ভুল তথ্যের শাস্তি কী—পরবর্তী আদেশে স্পষ্ট হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখনও তাদের জবাব দেয়নি। একইভাবে পাঁচ বছরের হিসাবে উদ্বৃত্ত দেখা গেলেই সেটি অবৈধ মুনাফা নয়; নতুন ভবন, গবেষণা, বৃত্তি বা ভবিষ্যৎ দায়ের জন্য সঞ্চয় থাকতে পারে। মূল পরীক্ষা অর্থের উদ্দেশ্য ও ব্যবহার।

বিশ্লেষণ: শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার আগে সাধারণত বিজ্ঞাপন, স্থাননির্ণয় ও ফি-তালিকা দেখেন; প্রতিষ্ঠানের ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অর্থপ্রদান বা সরকারি জমির শর্ত জানেন না। আদালতের উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পছন্দের আগে তুলনাযোগ্য তথ্য মিলতে পারে। কিন্তু শত পৃষ্ঠার হিসাব আপলোড করাই স্বচ্ছতা নয়। সহজ ভাষায় মোট ফি, ফেরতের নিয়ম, শিক্ষকসংখ্যা, অনুমোদন, বৃত্তি ও অভিযোগের ফল প্রকাশ প্রয়োজন।

আদেশটি সব ফি কমিয়েছে বা শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরতের অধিকার দিয়েছে—এমন নয়। তাৎক্ষণিক ফল হল সরকারগুলির উপর তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা। নভেম্বরের শুনানিতে বোঝা যাবে আদালত কোন অসামঞ্জস্য পেয়েছে এবং একক নিয়ম বা পৃথক তদন্তের প্রয়োজন দেখছে কি না। আপাতত বেসরকারি উচ্চশিক্ষার পরিচিত ঝলমলে প্রবেশদ্বারের পিছনে অর্থ কোথা থেকে আসে এবং কোথায় যায়, সেই খাতা প্রথমবার একসঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে খোলার প্রস্তুতি শুরু হল।

প্রতিষ্ঠানগুলির তুলনাও একই মানদণ্ডে হওয়া দরকার। গবেষণামুখী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ছোট পাঠদানকেন্দ্রের খরচ এক নয়; শুধু মোট উদ্বৃত্ত দেখে রায় দিলে বিভ্রান্তি হবে। প্রতি শিক্ষার্থী ব্যয়, বৃত্তির অনুপাত, শিক্ষক-পদ শূন্যতা এবং সরকারি সুবিধার শর্ত পাশাপাশি রাখলে আর্থিক তথ্য শিক্ষার মান বোঝার কাজে লাগবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles