খবর

সাহিলের মৃত্যু, উঠছে প্রশ্ন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুকে ঘিরে জাতিগত হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বাবা-মা।
  • তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির বিরুদ্ধে অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে মুম্বই পুলিশ।
  • অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুকে ঘিরে জাতিগত হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির বিরুদ্ধে অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে মুম্বই পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসে মৃত্যু হয় কুড়ি বছরের সাহিলের। তিনি জ্বালানি বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বাবা রবীন্দ্র ওয়াকোড়ের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে জাতপাত তুলে ছেলেকে কটূক্তি করা হচ্ছিল। পরিচালকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক বৈষম্যমূলক আচরণ করতেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

আইআইটি বম্বের অধিকর্তা শিরীষ কেদারে অবশ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজকর্ম, শিক্ষক কিংবা প্রশাসনের আচরণে জাতপাতের বৈষম্য নেই। সাহিলের ক্ষেত্রেও এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের তফসিলি জাতি ও উপজাতি বিষয়ক বিভাগও জানিয়েছে, সাহিল তাদের কাছে জাতিগত বৈষম্যের কোনও অভিযোগ জমা দেননি।

পরীক্ষাকক্ষের ঘটনা ঘিরে ধোঁয়াশা

সাহিলের মৃত্যুর আগে শুক্রবারের মধ্যবর্তী সেমেস্টারের পরীক্ষাকে ঘিরে একটি ঘটনা সামনে এসেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষাকক্ষে তাঁকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখা যায়। প্রশ্নপত্র চ্যাটজিপিটিতে দিয়ে উত্তর খুঁজছিলেন বলেও প্রতিষ্ঠানের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি বলে দাবি আইআইটি কর্তৃপক্ষের।

প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং বিভাগীয় প্রধান সাহিলের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, ওই ঘটনার জন্য তাঁর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

অন্যদিকে, বাবা-মায়ের দাবি, সহপাঠীদের কাছ থেকে তাঁরা শুনেছেন, সাহিলকে সাময়িক বহিষ্কারের ভয় দেখানো হয়েছিল। ঠিক কী ঘটেছিল, শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে কী কথা হয়েছিল—এখন তদন্তে সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।

আইআইটি বম্বের নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষায় মোবাইল বা অন্য কোনও অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুত্তীর্ণ ঘোষণা এবং এক সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নিয়মে শাস্তির সংস্থান থাকা আর সাহিলের বিরুদ্ধে সেই শাস্তি কার্যকর করা—দুটি আলাদা বিষয়।

তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ দমন শাখায়

শনিবার রাতে তদন্ত মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক তদন্তের দায়িত্বে থাকবেন।

এর আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ছেলের দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন সাহিলের বাবা-মা। তদন্তভার হস্তান্তরের পর তাঁরা দেহ গ্রহণ করেন।

মহারাষ্ট্রের যবতমাল জেলার বাসিন্দা রবীন্দ্র ও সোনালির একমাত্র সন্তান ছিলেন সাহিল। বাবা স্থানীয় একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, মা স্কুলশিক্ষিকা। পরিবারের বক্তব্য, প্রথম বর্ষ পর্যন্ত সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে সর্বভারতীয় প্রশাসনিক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সাহিলের। পড়াশোনার চাপ নিয়ে তিনি কোনও অভিযোগ করেননি বলেও জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মা।

বিক্ষোভে সরব ক্যাম্পাস

সাহিলের মৃত্যুর প্রতিবাদে আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা।

পরীক্ষাসংক্রান্ত এবং অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক কমিটিতে ছাত্রপ্রতিনিধি রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবিধি পুনর্বিবেচনার দাবিও উঠেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ অধিকর্তা, পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

আইআইটি বম্বে জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানো এবং তদন্ত চলাকালীন অনুমাননির্ভর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান। শনিবারের নির্ধারিত পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এই নিয়ে ক্যাম্পাসে তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল।

সত্য খুঁজতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। আবার আগে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা না থাকার অর্থও এই নয় যে জাতিগত হেনস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই।

পরীক্ষাকক্ষের ঘটনা, পরিবারের বক্তব্য, সহপাঠীদের সাক্ষ্য এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া—সব দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোতে হবে। সাহিলের মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে কোনও একটি ঘটনাকে ধরে নেওয়ার বদলে প্রয়োজন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সংবেদনশীল তদন্ত। সত্য উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles