দেশের ২৫০ জেলায় ভয়াবহ বেকরত্ব

যা জানা জরুরি
- ভারতের শ্রমবাজারের জাতীয় ও রাজ্যস্তরের গড়ের আড়ালে জেলার গভীর বৈষম্য প্রথমবার স্পষ্ট করল পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের পুনর্নকশা করা পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা।
- ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক ফলে কর্মসংস্থান, বেকারত্ব এবং ১৫–২৯ বছর বয়সীদের শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকার হার আলাদা করে দেখা যাচ্ছে।
- ফলে একটি রাজ্যের ভালো সামগ্রিক ফলের মধ্যেও পিছিয়ে থাকা জেলা চিহ্নিত করা সম্ভব।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভারতের শ্রমবাজারের জাতীয় ও রাজ্যস্তরের গড়ের আড়ালে জেলার গভীর বৈষম্য প্রথমবার স্পষ্ট করল পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের পুনর্নকশা করা পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক ফলে কর্মসংস্থান, বেকারত্ব এবং ১৫–২৯ বছর বয়সীদের শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকার হার আলাদা করে দেখা যাচ্ছে।
সমীক্ষায় জেলা এখন স্বতন্ত্র নমুনা-স্তর। ফলে একটি রাজ্যের ভালো সামগ্রিক ফলের মধ্যেও পিছিয়ে থাকা জেলা চিহ্নিত করা সম্ভব। ফল অনুযায়ী, দেশের ৭৮ শতাংশ জেলায় বেকারত্বের হার ০.৫ থেকে ৫.৫ শতাংশের মধ্যে। ৪৩.১ শতাংশ জেলায় হার ০.৫–৩ শতাংশ এবং ৩৪.৭ শতাংশে ৩–৫.৫ শতাংশ। প্রায় ১৪.৯ শতাংশ জেলা ৫.৫ শতাংশের উপরে রয়েছে।
শুধু বেকারত্বের হার অবশ্য তরুণদের পরিস্থিতি পুরো বোঝায় না। কাজ খুঁজছেন না এমন মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে থাকলে তাঁরা বেকার হিসেবে গণ্য হন না। তাই ১৫–২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে যাঁরা কর্মরত নন, পড়াশোনা করছেন না এবং প্রশিক্ষণেও নেই—তাঁদের অনুপাত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের ৭৬ শতাংশের কিছু বেশি জেলায় এই অনুপাত ৩০ শতাংশের নিচে। বিপরীতে ২৩.৭ শতাংশ জেলায় তিন তরুণের প্রায় একজন কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে। প্রায় ২৫০টি জেলায় হার ২৫ শতাংশের বেশি। এটি স্থায়ী বেকারত্বের সমান নয়—কেউ অস্থায়ীভাবে কাজ বদলাতে পারেন বা অনানুষ্ঠানিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন—তবে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা ভবিষ্যৎ আয় ও আত্মনির্ভরতার সম্ভাবনা কমায়।
বড় শহর থাকলেই ফল ভালো, এমন সরল সম্পর্কও নেই। সবচেয়ে জনবহুল একশো জেলার মধ্যে সুরাত ও আরারিয়ায় শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের হার উঁচু। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও আরারিয়ায় নথিভুক্ত বেকারত্ব মাত্র ০.৯ শতাংশ। কিন্তু কম বেকারত্ব মানেই ভালো বেতন, স্থায়ী চুক্তি বা নিরাপদ কাজ নয়; অল্প আয়ের অনানুষ্ঠানিক কাজও কর্মসংস্থান হিসেবে গণ্য হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে জেলার পার্থক্য আরও বড়। ৫৭.৮ শতাংশ জেলায় নারী শ্রমশক্তি-অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে তা ৮০.৯ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৮০ শতাংশ। অন্য জেলায় নিরাপদ যাতায়াত, শিশুযত্ন, সামাজিক বিধিনিষেধ এবং উপযুক্ত কাজের অভাব অংশগ্রহণ কমাতে পারে।
এরনাকুলাম ও কোয়েম্বাটুরের মতো শিল্প ও পরিষেবানির্ভর কয়েকটি জেলায় তরুণদের বাইরে থাকার হার তুলনামূলক কম; এরনাকুলামে ৯.৬ শতাংশ। তবে একটি জেলার সাফল্য অন্যত্র নকল করতে হলে স্থানীয় শিল্প, শিক্ষার মান, নারী-পুরুষের সুযোগ এবং পরিযানের প্রভাব আলাদাভাবে বুঝতে হবে।
নতুন তথ্যের মূল্য কোনও “সেরা” বা “সবচেয়ে ব্যর্থ” জেলার তালিকা তৈরিতে নয়। জেলা প্রশাসন এখন দেখতে পারে কোথায় শিক্ষানবিশি, কর্মসংস্থান কেন্দ্র, নিরাপদ নারী-পরিবহণ বা বিদ্যালয়ত্যাগ রোধে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ দরকার।
তবে এক বছরের নমুনাকে কোনও জেলার স্থায়ী চরিত্র বা গোটা জেন জির বৈশিষ্ট্য বলা যাবে না। নমুনার সীমা, মৌসুমি কাজ এবং অদৃশ্য পরিচর্যা-শ্রম ফল বদলায়। পরবর্তী সংস্করণগুলির সঙ্গে তুলনা এবং জেলা-স্তরের নমুনা-ত্রুটি প্রকাশ করলে এই মানচিত্র সত্যিকার নীতির উপকরণ হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



