হাইলাইটস
- তরুণ তেজপালের খালাসের রায়কে ‘বিকৃত ও আইনবিরুদ্ধ’ বলে বম্বে হাইকোর্টে সওয়াল গোয়া সরকারের।
- সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, নির্যাতিতাকে এমন সব অপমানজনক প্রশ্ন করা হয়েছিল, যা আদালতের অনুমতি পাওয়া উচিত ছিল না।
- অভিযোগ, ট্রায়াল কোর্ট নির্যাতিতার ব্যক্তিগত জীবন, যৌনতা, মদ্যপান ও ধূমপান সংক্রান্ত প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়ে আইনের মূল নীতি লঙ্ঘন করেছে।
- গোয়া সরকারের দাবি, ভারতীয় সাক্ষ্য আইনে নির্যাতিতার অতীত চরিত্রকে সম্মতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
- ২০২১ সালে দায়রা আদালত তেজপালকে খালাস দিয়েছিল; সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যের আপিলের শুনানি চলছে।
তেহেলকা পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক Tarun Tejpal-এর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের মামলায় ২০২১ সালের খালাসের রায়কে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চে আপিলের শুনানিতে গোয়া সরকার দাবি করেছে, ট্রায়াল কোর্টের রায়ে এমন একাধিক ‘বিকৃত’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা আইন ও বিচারপ্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, অভিযোগকারিণীকে জেরার সময় এমন বহু প্রশ্ন করা হয়েছিল, যা শুধু অপ্রাসঙ্গিকই নয়, অত্যন্ত অপমানজনকও ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ককে তিনি অনৈতিক মনে করেন কি না, তিনি মদ্যপান বা ধূমপান করেন কি না, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ছিল কি না। এসব প্রশ্ন আদালতের অনুমতি পাওয়া উচিত ছিল না বলেই সরকারের দাবি।
মেহতার বক্তব্য, বিচারক শুধু নীরব দর্শকের ভূমিকা নিতে পারেন না। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় যদি আইনবিরুদ্ধ বা অপমানজনক প্রশ্ন করা হয়, তবে আদালতের দায়িত্ব তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করা। তাঁর কথায়, এ ধরনের প্রশ্ন নির্যাতিতাকে দ্বিতীয়বার মানসিক আঘাত দেয় এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে।
গোয়া সরকারের অভিযোগ, ট্রায়াল কোর্ট অভিযোগকারিণীর ব্যক্তিগত জীবন, অতীত সম্পর্ক, বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন, এমনকি তাঁর জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য করেছে, যা কার্যত ‘চরিত্রহনন’-এর সামিল। ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের নীতি অনুযায়ী, কোনও নারীর অতীত যৌনজীবন বা ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। অথচ ট্রায়াল কোর্ট সেই বিষয়গুলিকেই রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি করেছে বলে অভিযোগ।
রাজ্যের আইনজীবী আরও বলেন, অভিযোগকারিণী প্রথম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত একই বক্তব্যে অটল ছিলেন। তাঁর মতে, একজন সত্যবাদী সাক্ষী বলেই তিনি স্বীকার করেছিলেন যে সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ক অনৈতিক নয়, কিন্তু সেই অবস্থানকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বিচারিক মূল্যায়ন ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি সরকারের।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৩ সালের নভেম্বরে। অভিযোগ, গোয়ার একটি পাঁচতারা হোটেলের লিফটে দুই দফায় সহকর্মী মহিলা সাংবাদিককে যৌন নির্যাতন করেন তেজপাল। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০২১ সালে দায়রা আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। আদালত তখন পর্যবেক্ষণ করেছিল, অভিযোগকারিণীর আচরণ যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির ‘স্বাভাবিক আচরণ’-এর সঙ্গে মেলে না এবং অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
সেই রায়ের বিরুদ্ধেই গোয়া সরকার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বর্তমানে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চে আপিলের শুনানি চলছে। রাজ্যের বক্তব্য, বিচারিক মূল্যায়নে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়নি এবং নির্যাতিতার চরিত্রকে অযথা বিচারের কেন্দ্রে এনে রায় দেওয়া হয়েছে। আদালত এখনও এই আপিলের চূড়ান্ত রায় দেয়নি।