বিপর্যয় কাটার আগেই নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোতেকোশী নদীতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় রবিবার ভোরে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ। মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারীদের নিরাপদ উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

চিনা কর্তৃপক্ষ সীমান্তের উজানে জলপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ার খবর নেপালকে দেওয়ার পরই এই সতর্কতা জারি হয়। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্মরাজ উপ্রেতি জানিয়েছেন, উজানের পরিস্থিতির উপরে নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। বুধবারের বিপর্যয়ের পরে পাহাড়ে তৈরি হওয়া নতুন হ্রদটির অধিকাংশ জল নেমে গিয়েছে বলে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে তার প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার উজানে তৈরি একটি বিশাল গহ্বরে এখনও আনুমানিক ১৪ লক্ষ ঘনমিটার জল জমে রয়েছে। সেই জল হঠাৎ নেমে এলে ফের প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। তাই অঞ্চলটি নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, বন্যায় দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২,৫০২ জন। সীমান্তের ও-পারে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জনের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছে চিন। তিব্বতে নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি—শতাধিক নেপালি ছাড়াও বহু দেশের পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং কর্মী রয়েছেন।

অন্য দিকে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জনপদগুলিতে বেঁচে যাওয়া মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ধাদিংয়ে কাদা ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। কোথাও দেওয়ালহীন ঘরে বসে কাদা সরানো হচ্ছে, কোথাও ধুয়ে নেওয়া হচ্ছে মাটির নীচ থেকে পাওয়া সামান্য সামগ্রী। ধাদিংয়ের বাসিন্দা শর্মিলা তামাংয়ের কথায়, “সব শেষ হয়ে গিয়েছে। কিছুই অবশিষ্ট নেই—এমনকি আমাদের বাড়িটাও নয়।”

গালছিতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা উঁচু সেতুর উপরে আশ্রয় নিয়ে ফুলে ওঠা নদীর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। নদীতীরবর্তী গ্রামগুলিতে ধূসর কাদার মধ্যে বাড়ি, গাড়ি ও কৃষিকাজের যন্ত্রের অংশ বেরিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ধসে নদীর মধ্যে নেমে গিয়েছে ধানের সোপানখেতের বড় অংশ। বহু পাকা ও ঝুলন্ত সেতু ভেঙে যাওয়ায় নদীর দুই তীরের জনপদ পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র রবিবার পরীক্ষা করেছেন প্রকৌশলীরা। চার জেলার ২০ হাজারের বেশি মানুষ ওই কেন্দ্রের বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই; কাদার মধ্যে পড়ে রয়েছে উপড়ে যাওয়া খুঁটি ও জটপাকানো তার।

বুধবার হিমবাহের নীচের শিলাস্তর ধসে বিপুল বরফ ও পাথর নদীতে নেমে আসার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, বিশ্বের কার্বন নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র ০.১ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় মূল্য দিতে হচ্ছে দেশটির মানুষকে।