‘শুদ্ধিকরণের নামে অস্পৃশ্যতা!’ খাড়গেকে অপমানের অভিযোগে মোদীকে তোপ রাহুলের

যা জানা জরুরি
- কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পরে উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল।
- ঘটনাটিকে অস্পৃশ্যতার প্রকাশ এবং দলিতদের প্রতি অপমান বলে অভিযোগ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও জনজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে অবিলম্বে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন…
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পরে উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। ঘটনাটিকে অস্পৃশ্যতার প্রকাশ এবং দলিতদের প্রতি অপমান বলে অভিযোগ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও জনজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে অবিলম্বে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি কংগ্রেসের অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিজেপি বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের কোনও সম্পর্ক নেই।
গত ৮ আগস্ট হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ‘বিজয় শঙ্খনাদ’ সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছিলেন খাড়গে। দু’দিন পরে, ১০ আগস্ট, ‘শ্রী রাম সেনা ধর্মার্থ সেবা ন্যাস’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যেরা সেখানে যজ্ঞ করে ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন। সংগঠনটির দাবি ছিল, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট রামলীলা ময়দান রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যবহার করা হয়েছে এবং খাড়গের সভায় এমন কিছু স্লোগান উঠেছে, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে।
কংগ্রেস অবশ্য গোটা ঘটনাকে খাড়গের দলিত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শনিবার দিল্লিতে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, “শুদ্ধিকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই আর একটি নাম। এর মাধ্যমে বলা হচ্ছে, দলিতের স্পর্শে স্থান অপবিত্র হয়ে যায়।” তাঁর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ২০ দিন পরেও কোনও মামলা হয়নি। উত্তরাখণ্ড বিজেপির সভাপতি মহেন্দ্র ভট্ট ‘শুদ্ধিকরণ’-এর পক্ষে যুক্তি দিলেও প্রধানমন্ত্রী নীরব রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাহুলের বক্তব্য, দেশে একজন দলিত মানুষকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পদে পদে অসম্মান সহ্য করতে হয়। দলিত কোনও ব্যক্তি যত বেশি প্রতিষ্ঠিত হন এবং যত জোরে নিজের কথা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ তত তীব্র হয়। খাড়গের মতো প্রবীণ ও দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সভাপতি যদি প্রকাশ্যে এমন অপমানের শিকার হন, তা হলে সাধারণ দলিত নাগরিক কিংবা বিদ্যালয়ের দলিত শিশুর অবস্থাটা সহজেই অনুমান করা যায়।
তিনি বলেন, দলিতদের এখনও কোথাও গ্রামের সাধারণ কুয়ো থেকে জল নিতে দেওয়া হয় না; কোনও কোনও চায়ের দোকানে তাঁদের জন্য আলাদা কাপ রাখা হয়; ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করতে গেলে দলিত বরকে আক্রমণের আশঙ্কায় মাথায় শিরস্ত্রাণ পরতে হয়। “হলদোয়ানির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, হিমশৈলের চূড়া মাত্র,” মন্তব্য রাহুলের।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, মোদী নিজেকে সব জাতির প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করেন। অতএব, তাঁর দায়িত্ব অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করানো। তা না হলে কংগ্রেস নিজেই খাড়গে এবং দেশের দলিত সমাজের জন্য ন্যায়বিচারের লড়াই চালাবে। রাহুল সতর্ক করেন, “বল এখন বিজেপির কোর্টে। ব্যবস্থা নিলে ভাল, না নিলে প্রতিক্রিয়া হবে। অপরাধীদের রেহাই পেতে দেব না।”
খাড়গে আগেই রাজ্যসভায় ঘটনাটি তুলে ধরে বলেছিলেন, তিনি কখনও নিজের দলিত পরিচয় দেখিয়ে সুরক্ষা চাননি। কিন্তু হলদোয়ানির সভামঞ্চ ‘শুদ্ধ’ করার ঘটনা তাঁকে অস্পৃশ্যতার যন্ত্রণা অনুভব করিয়েছে এবং অপমানিত করেছে। দায়ীদের গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি। সংসদে বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করলেও দাবি করেন, কোনও বিজেপি সদস্য এতে জড়িত নন। তদন্তের আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
রাহুলের অভিযোগের পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেন, কংগ্রেসের হাতে কোনও প্রকৃত বিষয় নেই বলেই তারা জাতপাতের রাজনীতি করছে। তাঁর কথায়, উত্তরাখণ্ডে কেউ খাড়গের জাতপরিচয় নিয়ে মাথা ঘামায় না; আপত্তি উঠেছিল সভায় উচ্চারিত কয়েকটি ধর্মীয় স্লোগানকে কেন্দ্র করে এবং তারই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন কিছু মানুষ।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় টামটাও বিজেপি ও সঙ্ঘের যোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমাবেশের পরে পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করছিলেন; তাকে দলিত-বিরোধী ‘শুদ্ধিকরণ’ হিসেবে তুলে ধরে উত্তরাখণ্ডকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দুটি পরস্পরবিরোধী ভাষ্য—কংগ্রেসের চোখে এটি জাতিগত অপমান ও শাস্তিযোগ্য অস্পৃশ্যতা, আর বিজেপির দাবি, ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পরিচ্ছন্নতার ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে জাতপাতের রং দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



