বাবার লড়াই, বিবেকের ‘কোম্পানি’

যা জানা জরুরি
- পর্দায় প্রথমবার এসেই যেন নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন বিবেক ওবেরয়।
- রামগোপাল বর্মার ২০০২ সালের অপরাধভিত্তিক ছবি ‘কোম্পানি’-তে চন্দু চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক—দুই মহলেই প্রশংসিত হয়েছিল।
- আর সেই লড়াই করেছিলেন তাঁর বাবা, প্রবীণ অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পর্দায় প্রথমবার এসেই যেন নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন বিবেক ওবেরয়। রামগোপাল বর্মার ২০০২ সালের অপরাধভিত্তিক ছবি ‘কোম্পানি’-তে চন্দু চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক—দুই মহলেই প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের পিছনে ছিল আরও এক লড়াই। আর সেই লড়াই করেছিলেন তাঁর বাবা, প্রবীণ অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়।
নিধি বসন্দানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সুরেশ জানিয়েছেন, ছেলেকে বলিউডে সুযোগ পাইয়ে দিতে তাঁকে কার্যত ফের ‘দোরে দোরে’ ঘুরতে হয়েছিল। নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলিতে যেমন ছবি হাতে প্রযোজক-পরিচালকদের দফতরে ঘুরতেন, বহু বছর পর ছেলের জন্যও একই কাজ করেন তিনি। তফাত শুধু একটাই—এ বার নিজের ছবি নয়, হাতে ছিল বিবেকের ছবি।
প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হয়েও ছেলের জন্য প্রযোজকদের অফিসের বাইরে বসে সুযোগ চাওয়ায় তাঁর কোনও সংকোচ ছিল না। সুরেশের কথায়, “বিবেকের জন্য আমাকে আবার লড়াই শুরু করতে হয়েছিল।”
বর্মার দরজায় বিবেকের ছবি
সেই সময় রামগোপাল বর্মার একটি ছবিতে কাজ করছিলেন সুরেশ। পরিচালক তখন ‘কোম্পানি’র জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। কথায় কথায় ছেলের প্রসঙ্গ তুলতেই বিবেকের অভিনয়ের নমুনা দেখতে চান বর্মা।
অভিনয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সময় বিবেক একটি অভিনয়ের দৃশ্য রেকর্ড করেছিলেন। সুরেশ সেটিই বর্মাকে দেখানোর ব্যবস্থা করেন। তাঁর স্মৃতি অনুযায়ী, বর্মা তাঁদের বাড়িতে এসে সেই দৃশ্য দেখেন। বিবেকের অভিনয় পরিচালকের পছন্দ হয়।
তবে সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। ‘কোম্পানি’র চন্দু চরিত্রের জন্য পরিপাটি চেহারার এক তরুণকে মুম্বইয়ের অপরাধজগতের রুক্ষ যুবক হিসেবে কল্পনা করতে পারছিলেন না বর্মা।
বিবেক অবশ্য পিছিয়ে যাননি।
নিজেকে চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত প্রমাণ করতে কয়েক সপ্তাহ বস্তি এলাকায় থেকে সেখানকার মানুষের জীবনযাপন, কথাবার্তা এবং শরীরী ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন। তারপর বদলে যাওয়া চেহারা ও আচরণ নিয়ে পরিচালকের সামনে হাজির হন। শেষ পর্যন্ত সেই চন্দুই জায়গা করে নেয় ‘কোম্পানি’-তে।
প্রথম ছবিতেই বাজিমাত
২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কোম্পানি’-তে বিবেকের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন, মোহনলাল, মণীষা কৈরালা এবং অন্তরা মালি। প্রথম ছবিতেই নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন বিবেক। পাশাপাশি সহ-অভিনেতার পুরস্কারও পান তিনি। রাতারাতি বদলে যায় তাঁর কেরিয়ারের সমীকরণ।
ছেলের সেই সাফল্য অবশ্য বাবার কাছে শুধু পুরস্কারের খবর ছিল না। ‘কোম্পানি’ দেখার পর বিবেককে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন সুরেশ। এত দিনের দৌড়ঝাঁপ, দরজায় দরজায় ঘোরা এবং ছেলের জন্য সুযোগ চাওয়ার আবেগ যেন সেই মুহূর্তেই বেরিয়ে এসেছিল।
সুরেশ-বিবেকের এই গল্প বলিউডের একটি পুরনো সত্যিই ফের মনে করিয়ে দেয়—পরিবারের পরিচয় হয়তো প্রথম দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু দরজা খুলে ভিতরে জায়গা করে নিতে শেষ পর্যন্ত লাগে প্রতিভা, প্রস্তুতি আর পরিশ্রম।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



