এবিভিপির দায় এড়াল বিজেপি

যা জানা জরুরি
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করল রাজ্য বিজেপি।
- দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয়; তারা স্বাধীন ভাবে পরিচালিত একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন।
- অন্য দিকে, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেছেন, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সঙ্ঘ পরিবার।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করল রাজ্য বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয়; তারা স্বাধীন ভাবে পরিচালিত একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। অন্য দিকে, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেছেন, নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সঙ্ঘ পরিবার।
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সংসদ ‘ফেটসু’-র সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সেই উত্তেজনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। মিছিল, পাল্টা মিছিল, পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং ধস্তাধস্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের এনে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে শমীক বলেন, “এবিভিপি বিজেপির ছাত্র শাখা নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন এবং স্বাধীন ভাবে কাজ করে। বিজেপির শাখা সংগঠন হিসাবেও তারা পরিচালিত হয় না।” তাঁর দাবি, এবিভিপি কী অবস্থান নেবে, তা বিজেপি ঠিক করে দেয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে ছাত্র রাজনীতি পরিচালনারও পক্ষপাতী নয় বিজেপি। দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তবে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের অবস্থান ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। এবিভিপির মিছিলে যোগ দিয়ে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘দেশবিরোধী তৈরির কারখানা’ বলে আক্রমণ করেন। রাজ্যে ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে শর্বরী বলেন, দেশবিরোধী শক্তিকে মাথা তুলতে দেওয়া হবে না।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি যখন এবিভিপির সঙ্গে সাংগঠনিক দূরত্বের কথা বলছেন, তখন দলের বিধায়কের সরাসরি মিছিলে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির। সিপিআই(এম) যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধরের অভিযোগ, শর্বরীর মন্তব্য এবিভিপি কর্মীদের উসকে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনও ছাত্রের সাধারণ সভায় যোগ দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সিপিআই(এম)-এর রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে মহম্মদ সেলিম বলেন, “নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে সঙ্ঘ পরিবারের ঘোষিত যুদ্ধের অংশ হিসাবেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার পক্ষে কথা বলা ছাত্রদের ‘মগজের নকশাল’ বলে দাগিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে এবিভিপি। পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সমাবেশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু হিংসা ও ভাঙচুর বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন এবং রাতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



