সংস্কৃতি ও বিনোদন

‘আমিই সবচেয়ে বেশি ট্রোলড’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • “গোটা পৃথিবী আমাকে বিশ্বাসঘাতক ভাবে”—২০২০ সালের বিতর্কিত অতীতের ক্ষত যেন ফের উসকে উঠল রিয়া চক্রবর্তীর কথায়।
  • কর্ণ জোহর সঞ্চালিত রিয়্যালিটি শো ‘দ্য ট্রেটর্স ২’-এর পঞ্চম পর্বে অভিনেত্রী দাবি করলেন, সম্ভবত তিনিই দেশের সবচেয়ে বেশি বিদ্রুপ ও অনলাইন আক্রমণের শিকার হওয়া…
  • শোয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগীদের ‘ইনোসেন্ট’ এবং ‘ট্রেটর’—এই দুই দলে ভাগ করা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

“গোটা পৃথিবী আমাকে বিশ্বাসঘাতক ভাবে”—২০২০ সালের বিতর্কিত অতীতের ক্ষত যেন ফের উসকে উঠল রিয়া চক্রবর্তীর কথায়। কর্ণ জোহর সঞ্চালিত রিয়্যালিটি শো ‘দ্য ট্রেটর্স ২’-এর পঞ্চম পর্বে অভিনেত্রী দাবি করলেন, সম্ভবত তিনিই দেশের সবচেয়ে বেশি বিদ্রুপ ও অনলাইন আক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তি।

শোয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগীদের ‘ইনোসেন্ট’ এবং ‘ট্রেটর’—এই দুই দলে ভাগ করা হয়েছে। ‘ট্রেটর’-দের গোপনে অন্য প্রতিযোগীদের বাদ দিতে হয়। আর ‘ইনোসেন্ট’রা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।

পঞ্চম পর্বে রিয়ার পাশাপাশি পারুল গুলাটি এবং ক্রিস্টল ডি’সুজাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। সহ-প্রতিযোগী শ্বেতা তিওয়ারি রিয়াকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, কেন তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলে সন্দেহ করা উচিত নয়।

উত্তরে রিয়া নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনুষ্ঠানের খেলাকে মিলিয়ে ফেলেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাসঘাতক হতে চাই না। কারণ গোটা পৃথিবী ইতিমধ্যেই আমাকে বিশ্বাসঘাতক ভাবে।” অনুষ্ঠানে কাউকে নিজের হাতে ‘খুন’ করার মতো ভূমিকা পালন করলে ফের তাঁকে নিয়ে বিদ্রুপ ও নোংরা প্রচার শুরু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এর পরেই রিয়ার দাবি, “আমি দেশের সবচেয়ে বেশি বিদ্রুপের শিকার হওয়া ব্যক্তি।” তাঁর বক্তব্য, তাঁকে সন্দেহ করা আসলে অন্য কোনও ‘ট্রেটর’-এর থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল। তিনি আরও জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের সঙ্গে অন্ধ ভাবে চলা তাঁর স্বভাব নয়। বরং নিজের মতামতে তিনি অটল থাকেন এবং প্রয়োজনে অন্যদেরও প্রভাবিত করতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য রিয়ার আশঙ্কা সত্যি হয়নি। ওই পর্বে তিনি বাদ পড়েননি। প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন পারুল গুলাটি। অর্থাৎ, রিয়া সত্যিই ‘ইনোসেন্ট’ হিসাবেই খেলছিলেন।

তবে রিয়ার এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে ২০২০ সালের সেই ঘটনাপ্রবাহ, যা এখনও তাঁর জীবনের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়। ওই বছরের ১৪ জুন মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ উদ্ধার হয়। সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা রিয়ার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সূত্র ধরে মাদক-সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেফতারও করে মাদক নিয়ন্ত্রণ দফতর। প্রায় এক মাস জেলে থাকার পর জামিন পান অভিনেত্রী।

সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত ঘিরে সেই সময় সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে রিয়াকে নিয়ে তীব্র প্রচার শুরু হয়। তাঁকে ‘খুনি’, ‘ষড়যন্ত্রী’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে লাগাতার পোস্ট ও প্রচার চালানো হয়। রিয়া নিজেও পরে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছিলেন।

২০২৫ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সুশান্তের মৃত্যু-সংক্রান্ত তদন্ত বন্ধ করে। রিয়া ও তাঁর ভাই শৌভিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই ‘দ্য ট্রেটর্স ২’-এ নিজের পুরনো অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রিয়ার বক্তব্য—যে পৃথিবী একসময় তাঁকে বিশ্বাসঘাতক ভেবেছিল, শেষ পর্যন্ত তদন্তে সেই অভিযোগই প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

রিয়ার জন্য তাই রিয়্যালিটি শোয়ের ‘ট্রেটর’ শব্দটি নিছক একটি খেলার পরিচয় নয়। পাঁচ বছর আগের বিতর্ক, জনসমক্ষে অপমান এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের স্মৃতি এখনও যে তাঁর কথায় ফিরে আসে, এই মন্তব্যেই তার ইঙ্গিত মিলল।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles