জাতের হিসাব, শুরু আজ

যা জানা জরুরি
- ষোলো বছরের অপেক্ষার পর ফের দেশের পূর্ণাঙ্গ জনশুমারির বড় পর্ব শুরু হচ্ছে।
- তবে সোমবার থেকেই গোটা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা নয়।
- প্রথম ধাপে লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত ও দুর্গম এলাকায় শুরু হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ষোলো বছরের অপেক্ষার পর ফের দেশের পূর্ণাঙ্গ জনশুমারির বড় পর্ব শুরু হচ্ছে। তবে সোমবার থেকেই গোটা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা নয়। প্রথম ধাপে লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত ও দুর্গম এলাকায় শুরু হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ। বরফ পড়ার আগেই এই অঞ্চলের কাজ গুটিয়ে ফেলতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা সরকারি পোর্টালে গিয়ে স্ব-গণনার মাধ্যমে পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন। এরপর ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। দেশের বাকি অংশে জনশুমারির মূল পর্ব শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
২০২৭ সালের জনশুমারি হবে ভারতের ষোড়শ এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম। তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়—জাতি ফিরছে জনশুমারির প্রশ্নপত্রে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম সাধারণ জনশুমারিতে প্রত্যেক নাগরিকের জাতিগত পরিচয় নথিভুক্ত করা হবে। এর আগে শেষ পূর্ণাঙ্গ জাতিগত তথ্য সংগ্রহ হয়েছিল ১৯৩১ সালে। স্বাধীনতার পরের জনশুমারিগুলিতে আলাদা করে নথিভুক্ত হয়েছে মূলত তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির তথ্য।
এবার দ্বিতীয় পর্বে মোট ৪০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। তার মধ্যে দশ নম্বর প্রশ্নটি সরাসরি জাতি নিয়ে—‘তফসিলি জাতি/তফসিলি জনজাতি/জাতি’। কোনও নির্দিষ্ট জাতের তালিকা হাতে তুলে দেওয়া হবে না। উত্তরদাতা নিজের জাতিগত পরিচয় যে ভাবে জানাবেন, গণনাকারী সেটিই নথিভুক্ত করবেন।
এই পদ্ধতি নিয়েই আপত্তি তুলেছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, বিহার বা তেলঙ্গানার জাতি সমীক্ষার মতো কোনও নির্দিষ্ট তালিকা না থাকলে একই জাতির ভিন্ন নাম, বানান বা উপগোষ্ঠী কী ভাবে এক ছাতার তলায় আনা হবে? তাতে পরবর্তী সময়ে তথ্য শ্রেণিবিন্যাসে সমস্যা এবং পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
শুধু জাতিই নয়, এবারের প্রশ্নপত্র যেন নাগরিক জীবনের এক বিস্তৃত পরিচয়পত্র। বাবা-মায়ের জন্মস্থান ও জন্মতারিখ থেকে আধার, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুঠোফোন নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা—সবই জানতে চাওয়া হবে। এমনকি করোনার টিকা কোথায় নেওয়া হয়েছিল, সেই তথ্যও থাকবে।
এর পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পেশা, কর্মস্থলে যাতায়াত, মাতৃভাষা, জানা ভাষা এবং অভিবাসনের কারণ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে জনসংখ্যার হিসাবের পাশাপাশি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ছবিও আরও বিস্তারিত ভাবে ধরা পড়বে। তবে এত বিস্তৃত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ফলে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এবারের আর একটি বড় পরিবর্তন—জনশুমারি হবে পুরোপুরি কাগজবিহীন। স্ব-গণনা শেষ হলে প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হবে একটি বিশেষ পরিচিতি-সংখ্যা। বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় সেই নম্বর দেখাতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও গণনাকারীদের মোবাইল অ্যাপ অফলাইন মোডে কাজ করতে পারবে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলিতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চলছে এই আয়োজন। লাদাখের প্রায় ২ লক্ষ ৭৪ হাজার এবং জম্মু-কাশ্মীরের ১৬টি জেলার প্রায় ৮৮ লক্ষ মানুষ এই প্রথম ধাপের আওতায় থাকবেন। হিমাচলপ্রদেশে চিহ্নিত হয়েছে প্রায় ৬,৯০৩টি তুষারপ্রবণ গ্রাম ও এলাকা। উত্তরাখণ্ডের চার জেলার ১৩১টি গ্রাম ও তিনটি শহরের প্রায় ৫২ হাজার মানুষের তথ্যও এই পর্যায়ে নেওয়া হবে।
এই এলাকাগুলির জনশুমারির নির্ধারক তারিখ ১ অক্টোবর, ২০২৬। অর্থাৎ, বরফ নামার আগেই পাহাড়ের হিসাব শেষ করার লক্ষ্য প্রশাসনের। দেশের বাকি অংশে তথ্য সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর অবশ্য ফলাফল পেতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের জনশুমারি শুধু কত মানুষ দেশে রয়েছেন তার হিসাব নয়। কে কোন জাতের, কী ভাষায় কথা বলেন, কী কাজ করেন, কোথা থেকে কোথায় এসেছেন—ভারতের বদলে যাওয়া সামাজিক মানচিত্রও এবার উঠে আসতে পারে সেই হিসাবের পাতায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



