খবর

আরজি কর-কাণ্ডে নতুন মোড়: ‘তড়িঘড়ি সৎকারের’ অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পরে তাঁর দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল পানিহাটির প্রাক্তন…
  • নির্যাতিতার বাবার দায়ের করা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় মামলা রুজু হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে নির্মলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
  • তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পরে তাঁর দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। নির্যাতিতার বাবার দায়ের করা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় মামলা রুজু হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে নির্মলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ওড়িশায় নির্মলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে সড়কপথে পশ্চিমবঙ্গে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর আদালতে তাঁকে হাজির করানোর কথা। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পরে কী ভাবে এবং কার নির্দেশে সৎকারের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছিল। নির্মলের সঙ্গে সে দিন কোন কোন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকের যোগাযোগ হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নির্যাতিতার বাবা সোমবার খড়দহ থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে নির্মলের পাশাপাশি পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং পরিবারের প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই তিন ব্যক্তি তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করে দেহ দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে এই মামলায় সঞ্জীবকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সোমনাথ এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে বলে খবর।

পরিবারের বক্তব্য, মেয়ের দেহ আর কিছুক্ষণ সংরক্ষণ করা হলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি জানানোর সুযোগ থাকত। কিন্তু তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি। বরং শ্মশানে পৌঁছনোর পরেই অস্বাভাবিক দ্রুততায় সৎকার সম্পন্ন করা হয়। কেন এমন তৎপরতা দেখানো হয়েছিল এবং তার পিছনে তথ্যপ্রমাণ নষ্টের কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, নতুন মামলায় মূলত সেটিই তদন্ত করা হবে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শ্মশানে চিকিৎসকের দেহ প্রথমে সৎকারের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল। কিন্তু পরে সেটিকে এগিয়ে এনে সবার আগে সৎকার করা হয়। প্রয়োজনীয় নথিতে বাবা-মায়ের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। এমনকি বাধ্যতামূলক সৎকারের মাশুলও মকুব করে দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যতিক্রমগুলি কার নির্দেশে ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল পরিবার। আন্দোলনকারী চিকিৎসক এবং নাগরিক সমাজের একাংশও দাবি করেছিল, সৎকারের ওই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়োর পৃথক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত একটি স্মরণসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে নির্যাতিতার পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পরে তিনি ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে পৃথক মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যার তদন্ত সিবিআই করলেও তড়িঘড়ি সৎকারের নির্দিষ্ট অভিযোগটি এখনও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের আওতায় নেই। ফলে ওই পর্বে কার কী ভূমিকা ছিল, তা রাজ্য পুলিশকে খুঁজে বার করতে হবে।

এর পরেই নির্যাতিতার বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগকারীর বয়ান নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি শ্মশানের নথি, দেহ সৎকারের সময়সূচি এবং সে দিনের নজরদারি ক্যামেরার ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। শ্মশানকর্মী, স্থানীয় পুলিশ এবং সৎকারের সময়ে উপস্থিত ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। অভিযুক্তদের দূরভাষের পুরনো যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখার সম্ভাবনাও রয়েছে।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের একটি সেমিনার কক্ষে ৩১ বছর বয়সি শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক সঞ্জয় রায়কে পরদিন গ্রেফতার করা হয়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। বিচারপর্ব শেষে সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। কিন্তু পরিবার বরাবরই দাবি করে এসেছে, ঘটনার পিছনে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি।

প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অভিজিৎ মণ্ডলকেও তথ্যপ্রমাণ নষ্টের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তবে নির্ধারিত সময়ে অভিযোগপত্র জমা না পড়ায় তাঁরা জামিন পান। এ বার তড়িঘড়ি সৎকারের অভিযোগে পৃথক তদন্ত শুরু হওয়ায় আর জি কর-কাণ্ডের চাপা পড়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ফের সামনে এল।

নির্মলের গ্রেফতার রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সময়ে তিনি পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক এবং এলাকার প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং আদালতেই তার নিষ্পত্তি হবে। তবে কেন পরিবারের সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও সৎকারে এমন অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো হয়েছিল, নতুন তদন্তে তার বিশ্বাসযোগ্য উত্তর মিলবে কি না—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles