প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এনটিএ বিলোপের দাবি, রাজনৈতিক জবাবদিহির পক্ষেও সরব আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা

যা জানা জরুরি
- প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার গভীরে থাকা কাঠামোগত সমস্যার ফল—এমনই দাবি করলেন অল ইন্ডিয়া…
- তাঁর বক্তব্য, কেবল শাস্তির মেয়াদ বা জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।
- প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে হলে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএ-কে বিলোপ করতে হবে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে দায় নির্ধারণ করতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার গভীরে থাকা কাঠামোগত সমস্যার ফল—এমনই দাবি করলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা। তাঁর বক্তব্য, কেবল শাস্তির মেয়াদ বা জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে হলে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএ-কে বিলোপ করতে হবে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে দায় নির্ধারণ করতে হবে।
মঙ্গলবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে নেহা বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি চাওয়া সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত। কারণ, সরকারই নীতি নির্ধারণ করে, সংস্থা তৈরি করে এবং সেই সংস্থাগুলিকে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। ফলে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হলে মন্ত্রী বা সরকার শুধু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে দায় এড়াতে পারে না।
নেহা দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে টানা ২৩ দিন অনশন করেছিলেন। সেই আন্দোলনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-সহ বহু ছাত্র ও তরুণ অংশ নিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে নেহা বলেন, রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন তোলা কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়। পরীক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই একই ব্যবস্থার শিকার।
সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া জনপরীক্ষা সংক্রান্ত সংশোধনী আইনে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু নেহার মতে, আইনটি মূলত প্রশ্নফাঁস হয়ে যাওয়ার পর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার কথা বলে। কোন কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্রশ্নফাঁস ঘটছে, কী ভাবে পরীক্ষার দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে যাচ্ছে কিংবা উচ্চপদস্থ কর্তাদের দায় কী ভাবে স্থির হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর সেখানে নেই।
তিনি বলেন, একটি প্রশ্নফাঁসের তদন্ত ১১ মাসে শেষ হলেও তত দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়ে যায়। পরীক্ষার্থীরা সময়, অর্থ এবং সুযোগ হারান। পরে অপরাধীর শাস্তি হলেও তাঁদের সেই ক্ষতি পূরণ হয় না। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিকার—দুই-ই প্রয়োজন।
নেহা এনটিএ-র অস্বচ্ছ পরিচালনব্যবস্থারও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, সংস্থাটিকে বিলোপ করা হোক। তা না হলে সংসদের আইনের মাধ্যমে একে পূর্ণাঙ্গ বিধিবদ্ধ সংস্থায় পরিণত করে কর্মকর্তা থেকে নীতিনির্ধারক—সকলের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে। জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে প্রবেশিকা পরীক্ষার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণও প্রশ্নফাঁসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদেও যোগ দিয়েছিলেন নেহা। সেখানে কালি ছোড়ার ঘটনার মুখেও পড়েন তিনি। ঝাড়খণ্ডে বিজেপি-বিরোধী জোট ক্ষমতায় থাকলেও ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি প্রশাসনের আচরণের সমালোচনা করে নেহা বলেন, বিজেপি-বিরোধী সরকারগুলিকেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কোনও সরকার কী ভাবে আচরণ করবে, তা নিজেদের কাজের মাধ্যমে দেখাতে হবে। ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ক্ষমতায় থাকা বা না-থাকার ভিত্তিতে বদলে গেলে রাজনৈতিক জবাবদিহির দাবিই দুর্বল হয়ে পড়বে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



