Home খবর জমি অধিগ্রহণে আদিবাসীদের বঞ্চনা, ক্ষতিপূরণে ১৫.২৫ কোটি টাকার ঘাটতি: সিএজি রিপোর্টে বিসিসিএলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

জমি অধিগ্রহণে আদিবাসীদের বঞ্চনা, ক্ষতিপূরণে ১৫.২৫ কোটি টাকার ঘাটতি: সিএজি রিপোর্টে বিসিসিএলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
17 views 3 minutes read
A+A-
Reset

কয়লাখনি সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণে আদিবাসী পরিবারগুলিকে সরকারি নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের তুলনায় অন্তত ১৫.২৫ কোটি টাকা কম দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি)-এর প্রতিবেদনে। রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (বিসিসিএল)-এর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে বৈষম্য এবং আইন লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেছে এই রিপোর্ট।

সিএজি জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডে বিসিসিএলের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমির ক্ষেত্রে বিশেষ করে আদিবাসী জমির মালিকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ দেওয়া হয়নি। জমির প্রকৃত বাজারমূল্য এবং সরকারের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অঙ্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফারাক ছিল। ফলে বহু পরিবার আইন অনুযায়ী যে অর্থ পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে ২০১৩ সালের ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনর্বিন্যাসে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতা আইন (LARR Act)-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই আইনে গ্রামীণ এলাকায় জমির মালিকদের বাজারদরের উপর নির্দিষ্ট গুণিতক প্রয়োগ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা। পাশাপাশি ১০০ শতাংশ সোলাটিয়াম বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই বিধান কার্যকর করা হয়নি বলে সিএজি মন্তব্য করেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিসিসিএল জমির মূল্য নির্ধারণে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, যার ফলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমে যায়। বিশেষত তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের জমির ক্ষেত্রে এই ঘাটতি বেশি চোখে পড়েছে। নিরীক্ষায় হিসাব করে দেখা যায়, আদিবাসী জমির মালিকদের মোট ১৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা কম দেওয়া হয়েছে।

সিএজি আরও উল্লেখ করেছে, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সুরক্ষা ও বিশেষ বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রামসভার মতামত, সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা, পুনর্বাসন এবং জীবিকার নিশ্চয়তার বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার কথা। কিন্তু নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়াগুলির বাস্তবায়নেও ঘাটতি ছিল।

প্রতিবেদনে জমি অধিগ্রহণের নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি অসম্পূর্ণ ছিল অথবা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়নি। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

সিএজি সুপারিশ করেছে, যেসব জমির মালিককে কম ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আইন মেনে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম এড়াতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনারও সুপারিশ করেছে নিরীক্ষা সংস্থা।

ভারতের কয়লা উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বিসিসিএল বহু বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় খনি পরিচালনা করছে। নতুন খনি, সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং অবকাঠামো গড়ে তুলতে নিয়মিত জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় আদিবাসী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ অনিবার্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন দেওয়া আইনি ও নৈতিক—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএজি-র এই রিপোর্ট সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। যদি নিরীক্ষায় উল্লিখিত অনিয়মগুলি সংশোধন না করা হয়, তবে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সরকারি প্রকল্পের প্রতি আস্থার সংকটও আরও গভীর হতে পারে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles