হাইলাইটস
- আমির খানকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।
- ভাইরাল পোস্টে অভিনেতার বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
- একটি অডিও বার্তাও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, চলছে সত্যতা যাচাই।
- মুম্বই পুলিশ ও সাইবার সেল তদন্ত শুরু করেছে।
- এখনও পর্যন্ত আমির খান বা তাঁর টিমের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
বলিউড অভিনেতা আমির খানকে লক্ষ্য করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট এবং একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। যদিও এখনও পর্যন্ত এই হুমকির সত্যতা প্রমাণিত হয়নি, তবু বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ ও সাইবার সেল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আরজু বিষ্ণোই’ এবং ‘টাইসন বিষ্ণোই’ নামে নিজেদের পরিচয় দেওয়া দু’জন ব্যক্তি, যারা নিজেদের লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর সদস্য বলে দাবি করেছেন, একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আমির খানকে সরাসরি নিশানা করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তৃতীয়বার বিয়ে করে অভিনেতা নাকি ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহ দিচ্ছেন। পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়—যাঁরা এই ধরনের কাজকে সমর্থন করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী নিজেদের মতো ব্যবস্থা নেবে।
ভাইরাল হওয়া পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, “আমরা আমাদের ভাই-বোন এবং দেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যারা এই ধরনের কাজকে উৎসাহ দেবে, তাদের আমরা ছেড়ে দেব না।” একইসঙ্গে একটি অডিও ক্লিপও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হুমকিসূচক বক্তব্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে পোস্ট বা অডিও—কোনওটিরই সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রের খবর, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ভাইরাল কনটেন্টের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা পোস্টের উৎস, সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ভাইরাল অডিওর ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছেন। তবে এখনও পর্যন্ত আমির খান বা তাঁর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। সেই কারণে এই মুহূর্তে কোনও এফআইআরও দায়ের হয়নি।
এই ঘটনার জেরে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গত কয়েক বছরে বলিউডের একাধিক তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে হুমকি, তোলাবাজি এবং হামলার ষড়যন্ত্রের তদন্তে এই গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে সালমান খানকে ঘিরে একাধিক হুমকির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চালিয়ে আসছে মুম্বই পুলিশ।
তবে আমির খানের ক্ষেত্রে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভাইরাল পোস্টে যাঁরা নিজেদের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছেন, তাঁদের পরিচয় ও দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে পোস্ট ও অডিও কোথা থেকে ছড়িয়েছে এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেটিও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, ঘটনার পরেও আমির খান বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অভিনেতার নিরাপত্তা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়েও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আগে হুমকির সত্যতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
সব মিলিয়ে, আপাতত নিশ্চিত একটাই—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট ও অডিওকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এর নেপথ্যে সত্যিই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং রয়েছে কি না, নাকি এটি ভুয়ো পরিচয়ে ছড়ানো কোনও বিভ্রান্তিকর প্রচার—তার উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলেই।