Home খবর চাদর-কম্বল চুরি রুখতে হাই-টেক রেল

চাদর-কম্বল চুরি রুখতে হাই-টেক রেল

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

এসি কোচে চাদর-কম্বল চুরি ঠেকাতে হাই-টেক রেল, বাড়ছে নজরদারি

হাইলাইটস

  • এসি কোচের চাদর, কম্বল ও তোয়ালে চুরি রুখতে নতুন উদ্যোগ ভারতীয় রেলের।
  • প্রতিটি লিনেনে RFID ট্যাগ বসিয়ে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা।
  • বছরে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে লিনেন চুরিতে।
  • সচেতনতার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থার কথাও ভাবছে রেল।

এসি কোচে যাত্রীদের জন্য দেওয়া চাদর, কম্বল, বালিশের কভার ও তোয়ালে চুরি রুখতে এবার প্রযুক্তির দ্বারস্থ হচ্ছে ভারতীয় রেল। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লিনেন হারিয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে রেল। সেই ক্ষতি কমাতেই নেওয়া হচ্ছে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ।

রেলের হিসাব বলছে, প্রতিদিন হাজার হাজার লিনেন যাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ আর ফেরত আসে না। শুধু চাদর বা তোয়ালেই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই কম্বলও উধাও হয়ে যায়। ফলে নতুন লিনেন কেনার জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিষেবা পরিচালনার খরচেও।

এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিটি লিনেনে RFID (Radio Frequency Identification) ট্যাগ বসানোর পরিকল্পনা করছে রেল। এর মাধ্যমে কোন লিনেন কোথায় রয়েছে, কখন বিতরণ হয়েছে এবং ফেরত এসেছে কি না—সবই ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা যাবে। কোনও লিনেন কোচের বাইরে চলে গেলেও তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

শুধু ট্র্যাকিং নয়, বড় লন্ড্রি ইউনিটগুলিতে স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে লিনেন বিতরণ ও সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল রেকর্ডে থাকবে। কোন ট্রেন বা রুটে বেশি লিনেন হারাচ্ছে, সেটিও সহজে চিহ্নিত করা যাবে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে মানব নজরদারিও। কোচ অ্যাটেনডেন্ট, টিটিই এবং অনবোর্ড কর্মীদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। যাত্রা শেষে লিনেন সংগ্রহের প্রক্রিয়াও আরও কড়া করা হবে। প্রয়োজনে নির্বাচিত ট্রেনে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও থাকবে।

রেলের মতে, অধিকাংশ যাত্রী নিয়ম মেনেই লিনেন ফেরত দেন। কিন্তু অল্প কয়েকজনের অসচেতনতা বা ইচ্ছাকৃত চুরির জেরে গোটা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই যাত্রীদের সচেতন করতেও বিশেষ প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেশন, কোচ এবং টিকিট বুকিংয়ের সময় জানানো হবে যে লিনেন রেলের সম্পত্তি এবং তা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শাস্তি দিয়ে এই সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ এবং যাত্রীদের সচেতনতা—এই তিনটি একসঙ্গে কার্যকর করা গেলে তবেই লিনেন চুরির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। সেই লক্ষ্যেই এবার প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির যুগলবন্দিতে এগোচ্ছে ভারতীয় রেল।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles