Home খবর চার বছরে উধাও ১.২৭ কোটি চাদর-তোয়ালে! এসি কোচে ‘লিনেন লুট’, রেলের কোটির ক্ষতি

চার বছরে উধাও ১.২৭ কোটি চাদর-তোয়ালে! এসি কোচে ‘লিনেন লুট’, রেলের কোটির ক্ষতি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
57 views 5 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • চার বছরে ভারতীয় রেলের এসি কোচ থেকে উধাও ১.২৭ কোটিরও বেশি চাদর, তোয়ালে, কম্বল ও বালিশের সামগ্রী।
  • বিকানেরে সবচেয়ে বেশি চাদর, দিল্লিতে তোয়ালে, সোনপুরে বালিশের ওয়াড় এবং জোধপুরে কম্বল চুরির ঘটনা।
  • চুরি ও অপচয়ের জেরে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করে নতুন লিনেন কিনতে হচ্ছে রেলকে।

ভারতীয় রেলের এসি কোচে যাত্রীদের জন্য রাখা চাদর, তোয়ালে, কম্বল আর বালিশ যেন ধীরে ধীরে ‘গায়েব’ হয়ে যাচ্ছে। এক-দু’টি নয়, গত চার বছরে দেশের বিভিন্ন রেল জোন থেকে ১ কোটি ২৭ লক্ষেরও বেশি লিনেন সামগ্রী নিখোঁজ হয়েছে। এই বিপুল ক্ষতির জেরে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন করে লিনেন কিনতে হচ্ছে ভারতীয় রেলকে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ১.২৭ কোটিরও বেশি লিনেন সামগ্রী হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেডশিট, তোয়ালে, কম্বল, বালিশ এবং বালিশের ওয়াড়।

কোথায় কী সবচেয়ে বেশি উধাও?

রেলের পরিসংখ্যান বলছে, চুরির ধরন অঞ্চলভেদে আলাদা।

  • বিকানের ডিভিশনে সবচেয়ে বেশি বেডশিট নিখোঁজ।
  • দিল্লি এলাকায় সবচেয়ে বেশি তোয়ালে উধাও।
  • সোনপুর ডিভিশনে সর্বাধিক বালিশের ওয়াড় হারিয়েছে।
  • জোধপুর ডিভিশনে সবচেয়ে বেশি কম্বল চুরি হয়েছে।

অর্থাৎ, সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট রুট বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়; গোটা রেল নেটওয়ার্ক জুড়েই একই চিত্র।

সবচেয়ে বেশি চুরি হচ্ছে কী?

হারিয়ে যাওয়া সামগ্রীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বেডশিট। এরপর রয়েছে তোয়ালে, বালিশের ওয়াড়, কম্বল এবং বালিশ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এসি কোচে সফর করেন। ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছনোর পর লিনেনের হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অনেক সামগ্রী আর ফেরত আসেনি।

রেল কর্তাদের মতে, অনেক যাত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে চাদর বা তোয়ালে ব্যাগে ভরে নিয়ে নেমে যান। আবার অনেক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো বা অসাবধানতাবশতও লিনেন ব্যাগে থেকে যায়, যা আর কখনও ফেরত আসে না।

কেন রোখা যাচ্ছে না?

দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনে একাধিক স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করেন। ফলে ঠিক কোন স্টেশনে বা কোন যাত্রীর কাছে লিনেন হারাল, তা শনাক্ত করা কার্যত অসম্ভব। এই কারণেই নজরদারি থাকা সত্ত্বেও চুরির লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কোটি টাকার বাড়তি বোঝা

চাদর, তোয়ালে ও কম্বল শুধু কিনলেই হয় না—সেগুলি নিয়মিত ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং পুনর্ব্যবহারেরও খরচ রয়েছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ সামগ্রী হারিয়ে যাওয়ায় রেলকে বারবার নতুন লিনেন কিনতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর সরকারি কোষাগারের ওপর বাড়ছে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত চাপ।

কী করছে রেল?

সমস্যা মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতীয় রেল।

  • লিনেনের ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ।
  • বড় স্টেশনগুলিতে আধুনিক লন্ড্রি ব্যবস্থা।
  • কোচ অ্যাটেনড্যান্টদের মাধ্যমে বিতরণ ও সংগ্রহে কড়া নজরদারি।
  • যাত্রীদের সচেতন করতে প্রচার অভিযান।

তবু এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থাই পুরোপুরি চুরি ঠেকাতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত ক্ষতি কার?

লিনেনের ঘাটতি তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পরবর্তী যাত্রীদের পরিষেবার ওপরও। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে বা অতিরিক্ত ভিড়ের সময় পর্যাপ্ত পরিষ্কার চাদর ও তোয়ালে সরবরাহ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তাই রেলকে সবসময় অতিরিক্ত মজুত রাখতে হয়।

রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেনে দেওয়া চাদর, তোয়ালে বা কম্বল কোনও ‘স্মারক’ নয়, বরং সরকারি সম্পদ। এগুলি পরবর্তী যাত্রীর ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ইচ্ছাকৃত চুরির মূল্য শেষ পর্যন্ত দিতে হয় দেশের রেলব্যবস্থা এবং করদাতাদেরই।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles