রাজ্য

তেরো বছর পরে মহাকরণে ফের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: প্রায় তেরো বছর পরে মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে আবার মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রীর দফতর ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পূর্ত, পঞ্চায়েত, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর দফতর দ্বিতীয় তলায় হবে।
  • মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের প্রধানের দফতরও ভবনটিতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: প্রায় তেরো বছর পরে মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে আবার মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রীর দফতর ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পূর্ত, পঞ্চায়েত, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর দফতর দ্বিতীয় তলায় হবে। মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের প্রধানের দফতরও ভবনটিতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানান্তরের চূড়ান্ত দিন এখনও ঘোষণা হয়নি।

২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজ্য সচিবালয়ের মূল কাজ হাওড়ার নবান্নে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে মহাকরণ পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি; স্বরাষ্ট্র ও পাহাড়বিষয়ক, কৃষি, পূর্ত, আইন, বিচার ও বিধানসভা-সম্পর্কিত কয়েকটি অংশ সেখানে কাজ চালিয়েছে। নতুন পরিকল্পনাটি তাই পরিত্যক্ত ভবন আবার খোলার ঘটনা নয়; প্রশাসনের শীর্ষ স্তরকে ঐতিহাসিক ঠিকানায় আংশিক ফিরিয়ে আনা।

১৭৭৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জুনিয়র কর্মীদের জন্য নির্মিত ভবনটি পরে ঔপনিবেশিক এবং স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত প্রাদেশিক সরকার এবং ১৯৪৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রাজ্যের সচিবালয় এখানে ছিল। এক সময়ে ৩৪টি দফতরের প্রায় ছয় হাজার কর্মী কাজ করতেন। এত বড় জনবল আবার একসঙ্গে ফেরানোর কথা প্রকাশিত পরিকল্পনায় নেই।

পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার সংস্কারকাজ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি গোষ্ঠী কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের আওতায় প্রায় ১২০ কোটি টাকার পুনরুদ্ধারকাজ নিতে পারে; আলোচনা এখনও চলছে। ২৪ সেপ্টেম্বর গৌতম আদানিও ঐতিহাসিক ভবন পুনরুদ্ধারে সহায়তার আগ্রহ জানিয়েছেন। কিন্তু চুক্তি, কাজের পরিধি ও অর্থায়ন চূড়ান্ত না-হওয়া পর্যন্ত এই অঙ্ক নিশ্চিত সরকারি প্রকল্প নয়।

পূর্ত কর্মকর্তারা আগের সংস্কারে কিছু ইউরোপীয় টালি ও মূল স্থাপত্য-উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এবার সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞের নকশা, পুরনো উপাদানের তালিকা এবং যে অংশ বদলানো হবে তার নথি প্রয়োজন। সচিবালয় হিসেবে ব্যবহারে আগুন নিয়ন্ত্রণ, বৈদ্যুতিক তার, ভূমিকম্প ও কাঠামোগত নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশ, নথি সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল যোগাযোগ—সব আধুনিক শর্তও পূরণ করতে হবে। ঐতিহ্য ও দাপ্তরিক কার্যকারিতা কোনও একটিকে বাদ দিয়ে করা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী ও পাঁচ মন্ত্রী বসলে নবান্নের ভূমিকা কী হবে, তা সরকার স্পষ্ট করেনি। দুটি প্রশাসনিক কেন্দ্র চালু থাকলে বৈঠক, নথি, নিরাপত্তা ও কর্মীদের যাতায়াতের পুনরাবৃত্ত খরচ হতে পারে। কোন দফতর কোথায় থাকবে এবং নাগরিক কোন পরিষেবার জন্য কোন ঠিকানায় যাবেন, একক সরকারি তালিকা প্রয়োজন।

স্থানান্তরে দৈনন্দিন শহর-পরিকল্পনার প্রভাবও আছে। লালদিঘির চারপাশে নিরাপত্তা বলয়, সরকারি গাড়ি ও কর্মীদের যাতায়াত বাড়লে মধ্য কলকাতার যানবাহন এবং পথচারীর চলাচল বদলাবে। পুরানো ভবনের সীমিত পার্কিংয়ের জন্য রাস্তা দখল করা হলে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়বে। মেট্রো ও বাসভিত্তিক কর্মী-পরিবহণ, নির্দিষ্ট প্রবেশপথ এবং জরুরি সরিয়ে নেওয়ার মহড়া আগে ঠিক করা প্রয়োজন। সরকারি দফতরে নাগরিকের প্রবেশ নিরাপত্তার নামে অযথা বন্ধ না-হয়, সেই নীতিও প্রকাশ করা উচিত।

সংস্কারের আগে ও পরে প্রতিটি ঐতিহাসিক অংশের উচ্চমানের ছবি, উপকরণ ও অবস্থার নথি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এতে ভবিষ্যতে ক্ষতি হলে দায় নির্ধারণ এবং মেরামতের সঠিক উপকরণ বাছা সহজ হবে। কাজের সময় পাওয়া পুরানো নথি বা স্থাপত্যাংশ কোথায় সংরক্ষিত হবে, তাও প্রকল্পের অংশ হওয়া দরকার।

বিশ্লেষণ: মহাকরণে প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী গুরুত্ব প্রবল। কিন্তু প্রশাসনের মান ভবনের ইতিহাসে নয়, সিদ্ধান্তের গতি ও মানুষের প্রবেশাধিকারে। শীর্ষ দফতর ফিরলেও ফাইল দুই নদীতীরে ঘুরলে সময় বাড়বে। স্থানান্তরের আগে কাজের প্রবাহ ও ডিজিটাল নথির পরিকল্পনা প্রকাশ করা উচিত।

বেসরকারি সামাজিক-দায়িত্বের অর্থে সরকারি ঐতিহ্য সংরক্ষণ হলে নির্বাচন, নজরদারি ও নাম-প্রচার নিয়ে স্বচ্ছ নিয়ম দরকার। কাজ শুরুর আগে স্বাধীন কাঠামোগত সমীক্ষা এবং শেষে সংরক্ষণ নিরীক্ষা প্রকাশ করলে ক্ষতির পুনরাবৃত্তি আটকানো সম্ভব। মহাকরণকে জীবন্ত প্রশাসনিক ভবন করা যেতে পারে; ইতিহাসকে রাজনৈতিক মঞ্চে নামিয়ে তার স্থাপত্য ও নাগরিক ব্যবহারকে গৌণ করা উচিত নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles