মহারাষ্ট্রে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। একটি আবেদনে চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় সংঘটিত তথ্য মুছে ফেলা এবং সফটওয়্যার-জনিত বাধা সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।

আবেদনগুলিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে একগুচ্ছ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত চোদ্দোটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনা, পোলিং স্টেশন পুনর্বিন্যাসের মানদণ্ড এবং ECINET-এর কারিগরি বিবরণ প্রকাশ করা। এছাড়াও মহারাষ্ট্রে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাতিল হওয়া প্রতিটি ভোটারের নাম পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়েছে, অথবা রাজ্যের জন্য এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশ বাতিল করে ভোটার তালিকা “আইনি দিক থেকে যথাযথ” না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবী আসিম সারোদের মাধ্যমে কোলহাপুর সার্কিট বেঞ্চে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনে চার মহারাষ্ট্রীয় বাসিন্দা তথা নিবন্ধিত ভোটার, ভোটার তালিকা পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়মের “পদ্ধতিগত ক্ষয়” তাঁদের মৌলিক অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে। মামলাটি আগামী সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দাবি করা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন তাঁদের ক্ষমতা এমনভাবে প্রয়োগ করেছেন যা “গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিপন্থী এবং জনস্বার্থের বিরুদ্ধে”, এবং এই পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের “বিরোধী”। চার আবেদনকারী চোদ্দোটি “একতরফা প্রশাসনিক নির্দেশ” ও তার সংশোধনী বাতিলের দাবি জানিয়েছেন, সেই সঙ্গে নথিভুক্ত মতভেদ প্রকাশ করা, বাতিল হওয়া সব ভোটারের পুনর্বহাল এবং তথ্য মোছার ঘটনা তদন্তে একটি স্বতন্ত্র বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠনের আবেদনও জানিয়েছেন। “নির্ভুল ও আইনসম্মত” ভোটার তালিকা অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে আসন্ন সব বিধানসভা নির্বাচন স্থগিত রাখারও আর্জি জানানো হয়েছে এই আবেদনে।

আইনজীবী হিতেন্দ্র গান্ধীর মাধ্যমে দায়ের করা আরেকটি রিট পিটিশনে দুই মুম্বাইবাসী ভোটার-গণনার সময় নথি সংগ্রহ এবং “আনকালেক্টেবল স্ট্যাটাস”-এর ভিত্তিতে বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে এসআইআর -এর কারণ প্রকাশ, অনুপস্থিত-স্থানান্তরিত-মৃত-দ্বৈত (ASDD) ভোটার তালিকার পদ্ধতি স্পষ্ট করা এবং ECINET-এর কারিগরি বিবরণ প্রকাশের নির্দেশনা চেয়েছেন। এর পাশাপাশি তাঁদের এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহারাষ্ট্রের জন্য এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশ বাতিল করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কোনও ভোটারকে বাদ দেওয়ার আগে যেন তাঁকে বাধ্যতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়, শুনানির সুযোগ দেওয়া হয় এবং যুক্তিসংগত আদেশ জারি করা হয় — এই মর্মে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে পিটিশনে।