বসতি-সন্ত্রাসের পরই উচ্ছেদ

যা জানা জরুরি
- দখলীকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ইজরায়েলি বসতি-স্থাপনকারীদের কয়েক দিনের অবরোধ ও হামলার পর এ বার ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদের অভিযোগ উঠল ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
- অন্তত দু’টি পরিবারকে তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
- ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই পশ্চিম তীরে নিযুক্ত ইজরায়েলের শীর্ষ সামরিক আধিকারিক মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ কুসরায় গিয়ে অবরুদ্ধ পরিবারগুলিকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বসতি-স্থাপনকারীদের সরিয়ে…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দখলীকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ইজরায়েলি বসতি-স্থাপনকারীদের কয়েক দিনের অবরোধ ও হামলার পর এ বার ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদের অভিযোগ উঠল ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। অন্তত দু’টি পরিবারকে তাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
ঘটনার মাত্র এক দিন আগেই পশ্চিম তীরে নিযুক্ত ইজরায়েলের শীর্ষ সামরিক আধিকারিক মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ কুসরায় গিয়ে অবরুদ্ধ পরিবারগুলিকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বসতি-স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তার পরেই সেনার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইজরায়েলি সেনারা কুসরার আরও আটটি বাড়ি দখল করে নেয়। গ্রামের মেয়র আব্দুল আজিম ওয়াদিকে জানানো হয়, বসতি-স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তিন দিনের সামরিক অভিযানের জন্য ওই বাড়িগুলি প্রয়োজন। পরে ছ’টি বাড়ি ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্তত একটি বাড়িতে সেনারা থেকে যায়।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সেনারা চলে যাওয়ার পর বাড়িতে ফিরে তাঁরা ভাঙা নজরদারি ক্যামেরা, নষ্ট জিনিসপত্র এবং ছেঁড়া কোরানের পাতা দেখতে পান।
অবরোধ শুরু রবিবার
কুসরায় উত্তেজনার সূত্রপাত রবিবার। একদল ইজরায়েলি বসতি-স্থাপনকারী তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ির প্রবেশপথে তাঁবু খাটিয়ে রাস্তা আটকে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে কয়েক জন ইজরায়েলি সেনাও ছিল।
এর পর বাড়িগুলির জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এমনকি অসুস্থ এক শিশুর কাছে চিকিৎসাকর্মীদের পৌঁছতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চলে পাথর ছোড়া, গালিগালাজ এবং হুমকি।
কুসাই রিদি নামে এক বাসিন্দার দাবি, সেনারা প্রথমে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। পরিবারগুলি আপত্তি জানালে কয়েকটি পরিবারের সদস্যকে একটি বাড়িতে জড়ো করা হয়। পরে নিজের বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, নজরদারি ক্যামেরা ভাঙা এবং কয়েকটি সরঞ্জাম নিখোঁজ।
তাঁর প্রতিবেশী ইউসুফ হাসানের বাড়ি তখনও সেনাদের দখলে ছিল।
একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি?
কুসরার এই ঘটনা অবশ্য একেবারে বিচ্ছিন্ন নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মার্চে ২৮ বছরের আমির মোতাসেম ওদেহকে এক বসতি-স্থাপনকারী হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ। তাঁর বাবাকেও ছুরি মারা হয়। কিন্তু সেই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
জুলাইয়ে পাশের জালুদ গ্রামেও একই ধরনের অবরোধ চালিয়ে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল।
ইজরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি কুসরার অবরোধকে ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী কাজ’ বলে নিন্দা করেছেন। ইজরায়েলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট আরও কঠোর ভাষায় একে ‘সুপরিকল্পিত জাতিগত নির্মূলের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি প্রশ্রয় এবং সেনা-পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাই বসতি-স্থাপনকারীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, কুসরার বাসিন্দাদের উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অন্তত কয়েকটি পরিবার কেন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।
মানবাধিকার সংগঠন বিটসেলেমের হিসাবে, গত তিন বছরে বসতি-স্থাপনকারীদের হামলা ও চাপের মুখে পশ্চিম তীরের ৬৪টি ফিলিস্তিনি জনপদ সম্পূর্ণ উচ্ছেদ হয়েছে। বাড়িছাড়া হয়েছেন ৪,৮০০-র বেশি মানুষ।
তাই কুসরার ঘটনা শুধু একটি গ্রামের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নয়—অভিযোগ উঠছে, এটি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি ও বসতভিটা থেকে ক্রমাগত সরিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



