জলে জাপান, আটকে ৭ হাজার

যা জানা জরুরি
- টোকিয়োর পূর্বে জাপানের চিবা প্রশাসনিক অঞ্চল যেন রাতারাতি জলের তলায়।
- নজিরবিহীন প্রবল বৃষ্টিতে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ আরও এক জন।
- বিপর্যস্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগের জেরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাতভর আটকে পড়েছেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
টোকিয়োর পূর্বে জাপানের চিবা প্রশাসনিক অঞ্চল যেন রাতারাতি জলের তলায়। নজিরবিহীন প্রবল বৃষ্টিতে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ আরও এক জন। ডুবে গিয়েছে রাস্তাঘাট ও বহু বাড়ি। বিপর্যস্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগের জেরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাতভর আটকে পড়েছেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী।
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই চিবার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। কোথাও মাত্র এক ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে—যা ওই অঞ্চলের প্রায় এক মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টির সমান। ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় ৩৬০ মিলিমিটার।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা চিবার জন্য সর্বোচ্চ, পঞ্চম স্তরের সতর্কতা জারি করে। প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কায় এই ধরনের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির ঘটনা ওই অঞ্চলে এই প্রথম।
বন্যায় প্রাণহানি, তল্লাশি নিখোঁজের
বন্যার জলে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভিতর থেকে এক ব্যক্তি এবং ৬৬ বছর বয়সি এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে। আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে পৃথক বন্যাজনিত ঘটনায়। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নামানো হয়েছে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের।
অবিরাম বৃষ্টিতে চিবার একাধিক নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৮০টি বাড়ি। কোথাও কোমরসমান জলে গাড়ি আটকে রয়েছে, কোথাও আবার ভূমিধসের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুই লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন সরকারি হিসাব জানিয়েছে। চিবার সরকারি ভবনগুলিতেও রাত কাটাতে হয়েছে কয়েকশো মানুষকে। বৃষ্টির তীব্রতম সময়ে প্রায় ৬৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালেও ২০ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ ফেরেনি।
বিমানবন্দরে রাত কাটালেন হাজার হাজার যাত্রী
সবচেয়ে বড় ভোগান্তি দেখা দিয়েছে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমান পরিষেবা চালু থাকলেও টোকিয়োর সঙ্গে যোগাযোগকারী একাধিক রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফলে বিমানবন্দরে পৌঁছেও সেখান থেকে বেরোতে পারেননি প্রায় সাত হাজার যাত্রী। রাত কাটাতে বাধ্য হন তাঁরা বিমানবন্দরেই। কর্তৃপক্ষের তরফে যাত্রীদের কম্বল, জল এবং হালকা খাবার দেওয়া হয়।
কিছু রেল পরিষেবা পরে চালু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সোগা রেলস্টেশনেও প্রায় চার হাজার মানুষকে রাত কাটাতে হয়েছে।
বৃষ্টি কমলেও বিপদ কাটেনি
শুক্রবার সকালে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কিছুটা শিথিল করা হলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। নদীর জলস্তর আরও বাড়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশ মেনে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতা ও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। তারই প্রভাবে জাপানে অল্প সময়ে অত্যন্ত বেশি বৃষ্টিপাতের ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
এক রাতের মুষলধারায় চিবা যেন বুঝিয়ে দিল—প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে আধুনিক পরিকাঠামোও কতটা অসহায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



