অয়ন মুখোপাধ্যায়: আমরা যারা ভাবি বুদ্ধদেব গুহ মানেই একটা জিপগাড়ি, চোখে সানগ্লাস, কাঁধে বন্দুক আর পাশে কোনো এক মায়াবী কুয়াশায় মোড়া ট্রাইবাল রমণী—তারা আসলে সাহিত্যের সস্তা ট্রেলর দেখে মূল সিনেমাটাকে মিস করছি। বুদ্ধদেব গুহ কোনো ট্রাভেলগ লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ট্রাভেলগ-এর আড়ালে লুকানো এক ক্লান্তিহীন সাইকোঅ্যানালিস্ট। চন্দ্রীল ভট্টাচার্য্য যেভাবে আমাদের প্রতি দিনের চেনা মধ্যবিত্তের ভণ্ডামির চামড়াটা ধরে টান মারেন, বুদ্ধদেব ঠিক সেই কাজটাই করেছিলেন একটু নরম সুরে, অরণ্যের পাতার খস খসের আড়ালে। আজ একবিংশ শতাব্দীর এই কর্পোরেট জাঁকজমক, লিঙ্কডইন-এর ফেক প্রোফাইল আর ইনস্টাগ্রাম রিলসের যুগে দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব গুহকে নতুন করে ব্যবচ্ছেদ করা দরকার। কারণ, আজকের জেনারেশন যে ক্রনিক একাকীত্ব আর অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে, বুদ্ধদেব তার প্রেসক্রিপশন লিখে গিয়েছিলেন আজ থেকে চার দশক আগে।
বাঙালি চিরকালই একটু ঘরকুনো, আবার একই সঙ্গে অলীক রোমাঞ্চপ্রিয়। দীপু-দা-সুজাতা মিলে যখন পুজোয় ম্যাকলুস্কিগঞ্জ যায়, তখন বাঙালির মনে হয় জঙ্গল একটা ট্যুরিস্ট …স্পট। কিন্তু বুদ্ধদেবের কাছে জঙ্গল কোনো ট্যুরিস্ট স্পট ছিল না। জঙ্গল ছিল ফ্রয়েডীয় তত্ত্বের সেই ‘ইড’ বা অবদমিত অবচেতনের নগ্ন রূপ। শহরের ড্রয়িংরুমে বসে আমরা যে ভদ্রতার মুখোশটা পরে থাকি, চামচ দিয়ে স্যুপ খাই আর পরনিন্দা-পরচর্চায় লিপ্ত হই—জঙ্গলে পা দেওয়া মাত্র সেই মুখোশটা খসে পড়ে। বুদ্ধদেব তাঁর ‘মাধুকরী’ উপন্যাসে লিখছেন, “শহরের মানুষগুলো যেন খাঁচায় পোরা বাঘ, তারা গর্জন করতে ভুলে গেছে।” এই গর্জনটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই তিনি তাঁর চরিত্রদের ঠেলে দিতেন টিটিলাগড়, লবঙ্গিয়া কিংবা ছাতনপুরের শালবনে।
আজকের যে জেন-জি প্রজন্ম, যারা ‘বার্নআউট’ শব্দটার সঙ্গে ভীষণভাবে পরিচিত, তারা একটু খেয়াল করলেই দেখবে বুদ্ধদেবের উপন্যাসের নায়কেরা ছিল প্রত্যেকেই এক একজন হাইলি পেইড, সোশ্যালি সাকসেস কিন্তু ভেতরে ভেতরে চরম বার্নআউট-এর শিকার। ‘মাধুকরী’র পৃথু ঘোষ কোনো খবরের কাগজের আদর্শবাদী নায়ক নয়। সে কর্পোরেট সিস্টেমের চোরাবালিতে আটকে যাওয়া এক বিপন্ন মানুষ। সে মদ খায়, সে সমাজের তথাকথিত এলিট ক্লাসকে ঘৃণা করে এবং শেষ পর্যন্ত সে একটা মেটা ফিজিক্যাল জার্নি বা দার্শনিক উত্তরণের খোঁজে সবকিছু ছেড়ে চলে যায়।
জীবনানন্দ দাশের সেই অমোঘ লাইন দুটো এখানে এসে একদম খাপে খাপে মিলে যায়—”আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।” জীবনানন্দের কবি যেমন ইতিহাসের ধূসর জগৎ আর জীবনের সফেন সমুদ্র পেরিয়ে ক্লান্ত হয়ে বনলতা সেনের কাছে দু-দণ্ড শান্তি খুঁজেছিলেন, বুদ্ধদেবের পৃথুও তেমনই সভ্যতার চড়া আলো, কর্পোরেট ইঁদুরদৌড় আর যান্ত্রিক জীবনের চরম ক্লান্তি থেকে বাঁচতে অরণ্যের রূপক ধরে এক পরম আশ্রয়ের খোঁজ করেছে। বনলতা সেন কবিকে যে মানসিক স্বস্তি দিয়ে ছিলেন, বুদ্ধদেবের চরিত্রদের কাছে আদিম অরণ্য ঠিক সেই আশ্রয়টাই দিয়েছে। এই ফেরাটা আসলে নিজের ভেতরের আদিম সত্তার কাছে ফেরা।
এবার আসা যাক বুদ্ধদেবের সাহিত্যের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপাদানে—যৌনতা। বাংলা সাহিত্যে যৌনতা নিয়ে ছুতমার্গ চিরকালের। হয় তা অত্যন্ত সস্তা চটুলতায় নামিয়ে আনা হয়েছে, না হয় তাকে ল্যাবরেটরির টেস্টটিউবের মতো শুষ্ক বৈজ্ঞানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। বুদ্ধদেব গুহ এখানেই ছিলেন একদম অফবিট। তাঁর উপন্যাসে অরণ্য আর যৌনতা সমার্থক। প্রকৃতির যেমন কোনো নিজস্ব সামাজিক আইনি কোড নেই, প্রকৃতির যেমন কোনো ম্যারেজ সার্টিফিকেট লাগে না, ঠিক তেমনি বুদ্ধদেবের চরিত্রদের যৌনতাও সমস্ত সামাজিক ট্যাবুকে অস্বীকার করে।
তাঁর উপন্যাসে শরীর কখনো অপবিত্র নয়। ‘কোজাগর’ বা ‘লবঙ্গিয়ার জঙ্গলে’র পাতা ওল্টালে দেখা যায়, আদিম প্রকৃতির মুক্ত হাওয়া কীভাবে মানুষের ভেতরের লিবিডো বা কামকে এক পবিত্র, সহজাত রূপ দিচ্ছে। তিনি যখন চোরা শিকারির ডেরায় বসে কোনো এক নারীর শরীরের বিবরণ দেন, তখন সেখানে লালসার চেয়ে বেশি থাকে এক আদিম নান্দনিকতা। জীবনানন্দ যেমন তাঁর কাঙ্ক্ষিত নারীর রূপ বোঝাতে বিদিশার নিশা বা শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মতো প্রাচীন, আদিম ও নান্দনিক রেফারেন্স টেনেছেন, বুদ্ধদেব গুহও তেমনই তাঁর উপন্যাসের নারী বা প্রেমের বর্ণনায় কোনো সস্তা আধুনিকতা রাখেননি। বুদ্ধদেব এক জায়গায় চাবুকের মতো লিখেছিলেন, “শরীর তো কেবল মাংসের দলা নয়, শরীর হলো আত্মার প্রথম প্রবেশদ্বার।” আজকের প্রজন্ম যারা ডেটিং অ্যাপের যুগে দাঁড়িয়ে শরীর আর মনের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছে, তারা বুদ্ধদেবের এই দর্শনের মুখোমুখি হলে থমকে যেতে বাধ্য।
বুদ্ধদেব গুহ বাঙালি সংস্কৃতির ভেতরের দ্বিচারিতা কে ব্যঙ্গ করে আমাদের সামনে তুলে ধরেন, আবার বুদ্ধদেব তাঁর উপন্যাসে ঠিক সেভাবেই বিভিন্ন এলিট চরিত্রদের তুলে এনে দেখিয়েছেন কিভাবে সারাদিন বনের আদিবাসীদের শোষণ করে, আর রাতে ক্লাবে বসে হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে ট্রাইবাল কালচার নিয়ে বড় বড় লেকচার ঝাড়ে। এই যে হিপোক্রিসি, এটা আজ আরও হাজার গুণ বেড়েছে। আমরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিবেশ বাঁচানোর পোস্ট করি এসি ঘরে বসে। বুদ্ধদেব এই ভার্চুয়াল কান্নার অনেক আগেই আসল রূঢ় বাস্তবটা আমাদের সামনে এনেছিলেন। তাই তাঁর লেখায় জঙ্গল কেবল গাছপালার জঙ্গল নয়, তা হলো মানব সভ্যতার লোভ আর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ।
বাংলা সাহিত্যে জঙ্গল নিয়ে কথা উঠলেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যো পাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ আর বুদ্ধদেব গুহর জঙ্গলমহল মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। আপাতদৃষ্টিতে দুটিই প্রকৃতির গল্প মনে হলেও, একটু গভীরে তাকালে বোঝা যায় এই দুই অরণ্যের চরিত্র, দর্শন এবং মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। বিভূতিভূষণের আরণ্যক হলো এক পরম মায়াবী, আধ্যাত্মিক এবং লিরিক্যাল আখ্যান। সেখানে জঙ্গল নিজেই প্রধান চরিত্র, মানুষ সেখানে নিমিত্ত মাত্র। বিভূতিভূষণ যখন লবটুলিয়ার যে জঙ্গলের বর্ণনা দেন, তখন তা এক অপার্থিব, স্বর্গীয় রূপ ধারণ করে। তাঁর অরণ্য মানুষের আত্মাকে শুদ্ধ করে, জাগতিক লোভ থেকে মুক্তি দেয়। সেখানে প্রকৃতির বুকে কোনো চড়া দাগের যৌনতা বা আধুনিক জীবনের জটিলতা নেই; আছে এক পরম বিস্ময় আর আদিম স্তব্ধতা। বিভূতিভূষণের জঙ্গল মানুষকে শেখায় কীভাবে প্রকৃতির অসীমতার সামনে নিজেকে বিলীন করে দিতে হয়। এটি আসলে এক জনম দুঃখী, দরিদ্র মানুষের প্রকৃতির কোলে পরম শান্তি খুঁজে পাওয়ার গল্প।
এর ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব গুহর জঙ্গল অনেক বেশি বাস্তব, রূঢ় এবং মনস্তাত্ত্বিক। বুদ্ধদেবের উপন্যাসে জঙ্গল কেবল গাছপালার সমাহার নয়, তা হলো নাগরিক সভ্যতার চড়া আলোয় ক্লান্ত মানুষের অবচেতনের এক আদিম আয়না। বুদ্ধদেবের চরিত্ররা বিভূতিভূষণের মতো সরল মনের মানুষ নয়; তারা প্রত্যেকেই আধুনিক শহরের এলিট, সফল কিন্তু ভেতরে ভেতরে চরম একাকী ও ‘বার্নআউট’-এর শিকার। তারা জঙ্গলে যায় প্রকৃতির পুজো করতে নয়, বরং শহরের মেকি মুখোশটা ছুড়ে ফেলে নিজেদের ভেতরের আদিম, অবদমিত ‘লিবিডো’ বা ইচ্ছের মুখোমুখি হতে। বিভূতিভূষণ যেখানে লবটুলিয়াকে দূর থেকে এক পবিত্র মুগ্ধতায় দেখেছেন, বুদ্ধদেব সেখানে সরাসরি ঢুকে পড়েছেন অরণ্যের কোলের আদিম যৌনতা, হিংসা আর মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার গভীরে।
দর্শনের জায়গাতেও এই দুই লেখকের তফাত স্পষ্ট। বিভূতিভূষণ ছিলেন এক জন মরমী আধ্যাত্মবাদী বা মিস্টিক। তিনি জঙ্গলের জ্যোৎস্নায় ঈশ্বরের আলো দেখতে পেয়েছিলেন। অন্যদিকে বুদ্ধদেব গুহ ছিলেন আপাদমস্তক একজন অস্তিত্ববাদী বা এক্সিস্টেনশিয়ালিস্ট। জঁ-পল সার্ত্র বা আলবেয়ার কামুর ফিলোসফি যদি কেউ খুব সহজ বাংলায় এবং বাঙালি ঘরানায় বুঝতে চায়, তবে তার বুদ্ধদেব গুহ পড়া উচিত। তাঁর চরিত্ররা নিয়ত এক অপূর্ণতা ও শূন্যতাবোধ কে বয়ে বেড়ায়। চারপাশের এত আলো, এত জাঁকজমক, এত নারীর সান্নিধ্যের মাঝেও এক অদ্ভুত মহাজাগতিক একাকীত্ব তাদের গ্রাস করে। ‘ঋভু’ সিরিজের উপন্যাসগুলো যারা পড়েছেন, তারা জানেন ঋভুর এই জার্নিটা আসলে কতটা একাকীত্বের। সে ভিড়ের মধ্যে থেকেও একা।
আজকের প্রজন্ম যখন মাঝরাতে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভাবে, “আমি আসলে কেন বেঁচে আছি? আমার এই স্যালারি, এই ফ্ল্যাট, এই গাড়ি কি সত্যিই আমাকে আনন্দ দিচ্ছে?”—তখন আসলে তারা অবচেতনে ঋভুর সেই বিখ্যাত ক্যাচফ্রেমেরই মুখোমুখি হয়। বুদ্ধদেব তাঁর চরিত্রদের এই বিষণ্নতাকে কোনো চারটে দেয়ালের বদ্ধ ঘরে বন্দি করে কান্নাকাটি করতে দেননি, বা কোনো সাইক্রিয়াটিস্টের চেম্বারে পাঠাননি। তিনি তাদের ছেড়ে দিয়েছেন প্রকৃতির অসীমতার মাঝে। সেখানে গিয়ে চরিত্ররা বুঝতে পারে যে, প্রকৃতির এই বিশাল আবর্তের সামনে মানুষের ব্যক্তিগত অহংকার, ব্যক্তিগত দুঃখগুলো কতখানি ক্ষুদ্র আর অর্থহীন।
জীবনানন্দের কবিতার সেই শেষ অমোঘ সত্যটাই যেন বুদ্ধদেবের উপন্যাসের শেষ কথা—”সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন; / থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।” সমস্ত জাগতিক সাফল্য, আলো আর কোলাহল যখন অর্থহীন মনে হয়, যখন জীবনের সব জাগতিক লেনদেন শেষ হয়ে আসে, তখন পড়ে থাকে কেবল এক আদিম অন্ধকার আর মুখোমুখি বসার জন্য অরণ্যের সেই নিবিড় আশ্রয়। মহাবিশ্বের এই বিরাট ক্যানভাসে নিজেকে মিলিয়ে দেওয়ার যে দর্শন, এটাই বুদ্ধদেবের সাহিত্যের আসল ইউএসপি।
বুদ্ধদেবের গদ্যের চালটাও ছিল চেনা ছকের বাইরে। সেখানে কোনো বিদ্যাসাগরী গুরুগম্ভীর শব্দের ভার ছিল না, আবার তা সস্তা চটুলও ছিল না। নিজে প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন বলেই হয়তো তাঁর শব্দচয়নের মধ্যে একটা অসামান্য সাঙ্গীতিক ছন্দ ছিল। তিনি যখন লিখছেন, “পাখিদেরও একটা নিজস্ব ভাষা থাকে, যা কেবল স্তব্ধতা দিয়ে শুনতে হয়,” তখন তিনি আসলে পাঠককে এক তীব্র ধ্যানমগ্নতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমাদের চারপাশের শব্দদূষণ নোটিফিকেশনের টুংটাং আর রিলসের মিউজিক আমাদের কানকে বধির করে দিয়েছে, তখন বুদ্ধদেবের এই ‘স্তব্ধতার ভাষা’ যেন এক পরম আরামের থেরাপি।
বুদ্ধদেব গুহ কে শুধু জঙ্গল-লেখক বা প্রেমের লেখক বলে ব্র্যাকেটবন্দি করে রাখাটা আসলে আমাদের পাঠকদেরই দেউলিয়াপনা। তিনি ছিলেন সভ্যতার চড়া আলোয় অন্ধ হয়ে যাওয়া একদল মানুষের চোখের ডাক্তার। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে, আমরা যতই চাঁদে রকেট পাঠাই না কেন, যতই এআই দিয়ে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি না কেন, আমাদের আদিম শিকড়টা আজও ওই শাল-পিয়ালের পাতার গন্ধেই লুকিয়ে আছে। যেদিন আমরা আমাদের ভেতরের সেই আরণ্যক আদিমতা কে সম্পূর্ণ ভুলে যাব, সেদিন মানুষের তৈরি এই যান্ত্রিক সভ্যতা একটা আস্ত কংক্রিটের মরুভূমি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
তাঁর জন্মদিনে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্মরণ করার অর্থ কেবল একটা চেনা চ্যাপ্টার রিভাইজ করা নয়। বরং আমাদের নিজেদের ভেতরের হারিয়ে যাওয়া সেই আরণ্যক শান্তি, সেই আদিম সততা আর অবচেতনের জঙ্গলটাকে আর একবার নতুন করে এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করা। বুদ্ধদেব গুহ আসলে একটা আয়না, যার সামনে দাঁড়ালে আমাদের ভেতরের আসল বাঘটা খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চায়। আর আজকের জেনারেশনের জন্য এই খাঁচা ভাঙার গানটা শোনার চেয়ে জরুরি আর কিছুই হতে পারে না।