সংস্কৃতি ও বিনোদন

শক: নয় বছরের সন্দেহ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতি জন্মদিনে আসে এমন এক উপহার, যা মাকে অনুসন্ধান থামাতে দেয় না।
  • নতুন সূত্রের পর সন্দেহের তালিকায় কি শুধু অপরিচিতরা, নাকি কাছের মানুষও?
  • প্রতিবেদন হাসপাতাল থেকে শিশু অপহরণের নয় বছর পরেও এক মা হাল ছাড়েননি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নয় বছর আগে হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ সন্তান। প্রতি জন্মদিনে আসে এমন এক উপহার, যা মাকে অনুসন্ধান থামাতে দেয় না। নতুন সূত্রের পর সন্দেহের তালিকায় কি শুধু অপরিচিতরা, নাকি কাছের মানুষও?

প্রতিবেদন

হাসপাতাল থেকে শিশু অপহরণের নয় বছর পরেও এক মা হাল ছাড়েননি। বরং প্রতি বছর সন্তানের জন্মদিনে আসা রহস্যময় উপহার যেন তাঁকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয়। সেই অনুসন্ধানই এবার সাত পর্বের হিন্দি সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর কেন্দ্র। ২৪ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটি।

এখানে অন্বিতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন পারিণীতি চোপড়া। ধারাবাহিকে এই প্রথম মুখ্য ভূমিকায় দেখা গেল তাঁকে। সঙ্গে রয়েছেন জেনিফার উইঙ্গেট, তাহির রাজ ভাসিন, সোনি রাজদান, অনুপ সোনি, হারলিন শেঠি, সুমিত ব্যাস ও ধ্রুব চৌধুরী। সিরিজটির স্রষ্টা রেনসিল ডি’সিলভা ও সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা; পরিচালনায় ডি’সিলভা। প্রযোজনার দায়িত্বে অ্যালকেমি ফিল্মস।

কাহিনির সময়রেখা বেশ স্পষ্ট। সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর অন্বিতা ও আলোক প্রতি বছর এমন একটি জন্মদিনের উপহার পান, যা পুরনো ক্ষত আবার খুলে দেয়। নয় বছর পর সামনে আসে নতুন সূত্র। আর তখনই অন্বিতার সন্দেহের পরিধি বদলে যায়—অপরিচিত সম্ভাব্য অপরাধীদের পাশাপাশি প্রশ্নের মুখে পড়েন তাঁর কাছের মানুষরাও।

নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি পর্বের দৈর্ঘ্য ৩১ থেকে ৪৩ মিনিট। অর্থাৎ দীর্ঘায়িত রহস্যের বদলে সীমিত পর্বে একটি নির্দিষ্ট অনুসন্ধান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা রয়েছে।

মাতৃত্ব, প্রবৃত্তি, বিশ্বাস ও অবসেশন—প্রচারে এই শব্দগুলিই বারবার উঠে এসেছে। তবে এগুলি নির্মাতাদের বয়ানের অংশ, স্বাধীন সমালোচনার রায় নয়। সন্তানের খোঁজে মরিয়া এক মায়ের গল্প সহজেই দর্শকের সহানুভূতি টানতে পারে। কিন্তু সেই আবেগের সঙ্গে মানসিক অস্থিরতা, দৃশ্যভ্রম কিংবা সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বাসকে কীভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, মানসিক বিপর্যয়কে যদি শুধু ‘অবিশ্বাসযোগ্য সাক্ষী’ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, রহস্য হয়তো আরও ঘন হবে, কিন্তু চরিত্রের গভীরতা কমে যেতে পারে।

সিরিজটি তামিল ও তেলুগু ভাষার শব্দসংস্করণ-সহ একাধিক ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। নেটফ্লিক্সের শিরোনাম-পৃষ্ঠায় হিন্দি শ্রুতিবর্ণনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। প্রবেশগম্যতার দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একাধিক ভাষায় মুক্তি পেলেই গল্পের স্থানীয় বাস্তবতা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। হাসপাতাল, পুলিশি অনুসন্ধান এবং পরিবারের ভিতরের ক্ষমতার সম্পর্ক কতটা বাস্তবসম্মতভাবে দেখানো হয়েছে, তা দর্শককে আলাদাভাবে বিচার করতে হবে।

আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এটি কাহিনি। নিখোঁজ শিশুর বাস্তব অনুসন্ধানের পদ্ধতি বা নির্দেশিকা হিসেবে ধারাবাহিকটিকে দেখা ঠিক হবে না।

বিশ্লেষণ

‘কাউকে বিশ্বাস করবেন না’—রহস্যকাহিনির জন্য চমৎকার টোপ। পরিচিত মানুষও যখন সম্ভাব্য সন্দেহভাজন হয়ে ওঠেন, দর্শকও গল্পের সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহের খেলায় ঢুকে পড়েন। কিন্তু বাস্তব জীবনে নিখোঁজ শিশুর অনুসন্ধান চলে প্রমাণ, তদন্ত ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। নাটকের সন্দেহ আর বাস্তব জীবনের অভিযোগ—দুটিকে এক করে দেখা বিপজ্জনক।

পারিণীতির ধারাবাহিক-অভিষেক স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। তবে এই গল্পে রহস্যের ভার শেষ পর্যন্ত সমবেত অভিনয়কেই বহন করতে হবে। প্রতিটি চরিত্রকে শুধু গোপন তথ্য লুকিয়ে রাখা ‘বাক্স’ বানালে মোচড় পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু মানুষগুলো হারিয়ে যেতে পারে। আবার সাত পর্বের সিরিজে খুব তাড়াতাড়ি সব রহস্য খুলে ফেললে নয় বছরের অপেক্ষা ও অনুসন্ধানের আবেগও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

এই সীমিত দৈর্ঘ্য তাই নির্মাতাদের সামনে একই সঙ্গে সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ। রহস্যকে টানটান রাখা, অথচ চরিত্রগুলিকে কেবল পরবর্তী টুইস্টের যন্ত্রে পরিণত না করা—সাফল্য অনেকটাই তার উপর নির্ভর করবে।

এখনই ধারাবাহিকটির সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সময়ও নয়। মুক্তির পর দর্শকের কাছে পৌঁছেছে গল্পটি। প্ল্যাটফর্মের প্রচার কিংবা অভিনেতাদের মন্তব্যের বাইরে এর স্থায়ী মূল্য নির্ভর করবে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরের উপর—অনুসন্ধান কতটা বিশ্বাসযোগ্য, মাতৃত্বকে শুধু ত্যাগের প্রতীক না বানিয়ে কতটা জটিল মানুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং শেষের মোচড় আগের ঘটনাগুলির সঙ্গে কতটা যুক্তিসঙ্গতভাবে মেলে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অবশ্য নিখোঁজ শিশুকে ঘিরে। রহস্যকাহিনিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষটি অনেক সময় অন্য চরিত্রের অপরাধবোধ, প্রেম, প্রতিশোধ কিংবা গোপন সম্পর্কের হাতিয়ার হয়ে যান। কিন্তু নয় বছরের ব্যবধান মানে শুধু মায়ের অপেক্ষা নয়—সন্তানটির নিজের জীবন, পরিচয়, স্মৃতি এবং সিদ্ধান্তের প্রশ্নও সেখানে জড়িয়ে থাকে।

শেষ পর্যন্ত যদি রহস্যের সমাধান শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের গোপন সম্পর্কের জট খোলে, তাহলে অনুসন্ধানের মানবিক দিকটি অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। বিপরীতে, শিশুটির বর্তমান অবস্থান ও নিজের সত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখাতে পারলে গল্পটি মাতৃত্বের পরিচিত আবেগ পেরিয়ে পুনর্মিলন, আস্থা এবং স্বাধীনতার আরও জটিল জায়গায় পৌঁছতে পারে।

আর একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এমন আবেগঘন গল্পে পর্বের শুরুতে বিষয়বস্তু-সতর্কতা এবং শেষে নির্ভরযোগ্য সহায়তার তথ্য থাকলে দর্শক-সুরক্ষার দিকটিও শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে পরিবারসহ দেখার ক্ষেত্রে এই সতর্কতা অপ্রয়োজনীয় নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles